ঠাকুরগাঁওয়ে চাষ হচ্ছে মরুভূমির ত্বীন ফল
অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৪:৩৪ এএম, ১৬ নভেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার
ফাইল ছবি।
ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রথমবারের মত ব্যক্তি উদ্যোগে চাষ শুরু হয়েছে মররুভূমিতে উৎপন্ন চাষ হওয়া ত্বীন ফলের। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এ ফলটি ওষুধি গুণ সম্পন্ন এবং স্বাদে মিষ্টি। প্রথমবারের মতো ডুমুর আকৃতির ত্বীন গাছে ফল আসতে শুরু হওয়ায় দৃষ্টি কেড়েছে স্থানীয়দের।
জানা যায়, ইকো সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) নামে বেসরকারি একটি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক (প্রশাসন) সেলিমা আক্তার নামে এক নারী উদ্যোক্তা ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলা শহরের মুন্সিরহাট এলাকায় এ বছর এক একর জমিতে মরুভূমির ত্বীন ফল চাষ করে সফল হয়েছেন।
পরীক্ষামূলক চাষে সফল হওয়ার পর এখন কৃষক পর্যায়ে বাণিজ্যিক চাষ ছড়িয়ে দিতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাগানে কর্মরত শ্রমিক আলমগীর হোসেন। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো ডুমুর আকৃতির ত্বীন গাছে ফল আসতে শুরু হওয়ায় দৃষ্টি কেড়েছে স্থানীয়দের।
সম্প্রতি শহরের মুন্সিরহাট এলাকায় বাগান দেখতে যান এ প্রতিবেদক। সেখানে প্রায় দেড়-দুই বিঘা জমিতে করা হয়েছে ত্বীন ফলেন চাষ। আর এ ত্বীন ফলের ফলন সুন্দর হয়েছে। আর এ ত্বীন ফলের বাগান দেখার জন্য রাখা হয়েছে ১ জন মালি ও ২জন শ্রমিককে। নতুন বাগান হওয়ায় স্থানীয় অনেক মানুষই আগ্রহ নিয়ে ত্বীন ফলের এ বাগান দেখতে আসছেন।
বাগান দেখতে আসা শহরের সরকার পাড়া মহল্লার আবদুর রহমান ও রসিদুল আলম নামে দুই ব্যবসায়ী বলেন, আরব দেশের ফল এখন নিজ এলাকায় চাষাবাদ হচ্ছে। তাই ফলটি দেখার আগ্রহ নিয়ে ছুটে এসেছি।
শহরের হাজিপাড়া এলাকার স্কুল শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকায় এ প্রথম চাষ হওয়া এ ফল তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকের আগ্রহ বাড়িয়েছেন। তিনি নিজেও এ ফল চাষাবাদের কথা ভাবছেন। একই এলাকার সাদেকুল ও শফিকুল নামে দুই যুবকও জানালেন এমন আগ্রহের কথা।
তারা বলেন, ওষুধি গুণ সম্পন্ন এ ফলের বাগান করার ইচ্ছা তাদেরও। বাগান দেখার পাশাপাশি বাগানে কর্মরত আলমগীর কাছ থেকে এ ফল চাষের নিয়ম ও পদ্ধতি শিখে নিচ্ছেন।
ইএসডিও প্রকল্প সমন্বয়ক আইনুল হক বলেন, গত বছরের শেষের দিকে ভারত থেকে মিশরীয় জাতের ত্বীন ফলের গাছ নিয়ে আসা হয়েছে। ওই বছর এক একর জমিতে এ গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে। চারা রোপণের কয়েকমাসের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। প্রতিটি গাছে এখন ৭০-৮০টি করে ফল ধরেছে। তবে গাছটির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর ফলও অনেক বেশি ধরবে বলে জানান তিনি।
এ প্রকল্প সমন্বয়ক আরও বলেন, ত্বীন শুষ্ক ও শীত প্রধান দেশে চাষ হলেও আমরা এ জেলাতে প্রথম প্রমাণ করেছি নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতেও এ ফল উৎপাদন সম্ভব। ত্বীন ফলটির প্রসার বৃদ্ধিতে ইএসডিও কৃষি ইউনিটের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে এটি আরও ব্যাপক ভাবে সম্প্রসারিত করে এ গাছের কলম তৈরির মাধ্যমে যেনো সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারি সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।
বাগানের কর্মরত শ্রমিক শফিকুল জানান, ত্বীন গাছে কোনো রকম রাসায়নিক সার দেওয়া হয়নি। জৈব ও কম্পোজ সার মিশিয়ে গোঁড়ায় দিয়েছি। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যার মাধ্যমে গাছ গুলো বড় হয়ে উঠেছে। এ সময়ে তেমন কোনো রোগবালাই দেখা যায়নি। রোপণকৃত গাছগুলোর মাটি বেলে ও দোয়াস মাটির সংমিশ্রণ হলেও এ আবহাওয়ার সঙ্গে এখন মানিয়ে নিয়েছে ত্বীন।
এ বিষয়ে ইএসডিও পরিচালক (প্রশাসন) সেলিমা আক্তার জানান, শখের বসে এ ফলের চারা রোপণ করা হয়েছিল। প্রথম বছরে আশানুরূপ ফলন হয়েছে। এখন বাণিজ্যিক ভাবে চারা উৎপাদন ও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করা হচ্ছে। তবে ত্বীন গাছটির বীজ থেকে চারা উৎপাদনের হার কম হওয়ায় নির্ভরতা করতে হচ্ছে কাটিং বা কলম চারায়। যার কারণ হচ্ছে বীজের চারায় ফলন আসে কয়েক বছর পর। অন্যদিকে কলম চারায় ফল আসে মাত্র ৬ মাসে।
এ উদ্যোক্তা আরও বলেন, দেশে ছাড়াও বিদেশে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সম্ভাবনাময় এ ফলটি বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করা গেলে দেশে বেকারত্ব হার কমে আসবে। একই সঙ্গে রফতানির মাধ্যমে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানান, বেসরকারিভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে এ প্রথমবার ত্বীন চাষ করা হচ্ছে। ত্বীন বা ডুমুর ফলের বাগানটিতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি উপ-সহকারীগণ নিয়মিত পরিদর্শন করে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন। কোন রকম রাসায়নিক কীটনাশক সার ছাড়াই এ ফলটি চাষ করা সম্ভব। ডুমুর ফলটি সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। এর পাতা গো খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করলে দুগ্ধ জাতীয় গাভি থেকে অনেক বেশি পরিমাণ দুধ পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও এর পাতা পুকুরে গুড়ো করে ছিঁটিয়ে দিলে পানি বিশুদ্ধ থাকে। এ ফলের ব্যক্তিগত বা বাণিজ্ঞ্যিক চাষে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাবে কৃষি বিভাগ বলেও জানান তিনি।
সূত্র: বাসস
- রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিকও হতে পারেন: নিলুফার চৌধুরী মনি
- ইরানি বিচারক ও সাইবার গ্রুপের শীর্ষ নেতার ওপর ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞা
- রুনা লায়লার সংগীতসন্ধ্যা: কণ্ঠে সময়ের জাদু, গানে জীবনের গল্প
- কে হতে পারেন নতুন রাষ্ট্রপতি? রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরছে যেসব নাম
- প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ ইস্যুতে বিকাল ৫টায় ব্রিফিং করবেন স্পিকার
- পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
- ‘ভারতের তরুণদের নিয়ে আমি গর্বিত’: টুইঙ্কেল খান্না
- ভাঙাচোরা সড়কে দুর্বিষহ অবস্থা, দুর্ভোগে নগরবাসী
- কারাগারের নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে এআই প্রযুক্তি
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চীন এগিয়ে, বলছে মার্কিন জরিপ
- দেশের বাজারে কমল সোনার দাম, ভরিতে কত কমলো
- ভারতে শিশুদের চেয়ে গরু বেশি নিরাপদ: মেহবুবা মুফতি
- সরকার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শত্রু মনে করছে: সোনিয়া গান্ধী
- ভারতে ছাত্র আন্দোলন তীব্র, সরকারের সঙ্গে বৈঠকেও মিলছে না সমাধান
- উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা
- পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
- কারাগারের নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে এআই প্রযুক্তি
- প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ ইস্যুতে বিকাল ৫টায় ব্রিফিং করবেন স্পিকার
- ভারতে শিশুদের চেয়ে গরু বেশি নিরাপদ: মেহবুবা মুফতি
- কে হতে পারেন নতুন রাষ্ট্রপতি? রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরছে যেসব নাম
- বৃষ্টিতে সরবরাহে ধাক্কা, সবজি-ডিম-মাছের বাজারে অস্বস্তি
- দেশের বাজারে কমল সোনার দাম, ভরিতে কত কমলো
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চীন এগিয়ে, বলছে মার্কিন জরিপ
- উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
- ‘ভারতের তরুণদের নিয়ে আমি গর্বিত’: টুইঙ্কেল খান্না
- উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা
- সরকার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শত্রু মনে করছে: সোনিয়া গান্ধী
- ভাঙাচোরা সড়কে দুর্বিষহ অবস্থা, দুর্ভোগে নগরবাসী
- রুনা লায়লার সংগীতসন্ধ্যা: কণ্ঠে সময়ের জাদু, গানে জীবনের গল্প
- রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিকও হতে পারেন: নিলুফার চৌধুরী মনি









