ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৫২:১১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

ডরোথি হাইট: নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ‘গডমাদার’

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:১৮ এএম, ২ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার

ডরোথি হাইট

ডরোথি হাইট

ডরোথি হাইট (২৪ মার্চ ১৯১২—২০ এপ্রিল ২০১০) ছিলেন একজন শিক্ষক, সমাজসেবী এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন ন্যাশনাল কাউন্সিল অব নিগ্রো উইমেন (NCNW)-এর টানা চার দশকের সভাপতি। নারীর অধিকার ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে বলা হতো ‘নারী আন্দোলনের গডমাদার’। ১৯৬৩ সালের ঐতিহাসিক মার্চ অন ওয়াশিংটন সমাবেশে বক্তাদের মঞ্চে উপস্থিত হাতে গোনা কয়েকজন নারীর মধ্যেও তিনি ছিলেন অন্যতম।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পূর্ণ নাম: ডরোথি আইরিন হাইট
জন্ম: ২৪ মার্চ ১৯১২, Richmond
মৃত্যু: ২০ এপ্রিল ২০১০, Washington, D.C.
পিতা-মাতা: জেমস এডওয়ার্ড হাইট ও ফ্যানি বারোজ হাইট
শিক্ষা: New York University থেকে শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক এবং শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর
পেশা: শিক্ষক, সমাজকর্মী, নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা
বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত
সন্তান: নেই

শৈশব ও শিক্ষা

ডরোথি হাইট ১৯১২ সালের ২৪ মার্চ ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পরিবারের দুই সন্তানের মধ্যে বড়। পরে পরিবারটি পেনসিলভানিয়ায় চলে যায়, যেখানে তিনি সমন্বিত বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

স্কুলজীবনেই তিনি অসাধারণ বক্তা হিসেবে পরিচিতি পান। জাতীয় পর্যায়ের বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে কলেজে পড়ার জন্য বৃত্তি অর্জন করেন। একই সময়ে বর্ণবাদী হত্যাকাণ্ড বা ‘লিঞ্চিং’-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনেও যুক্ত হন।

তিনি প্রথমে Barnard College-এ ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেও পরে কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত কোটা পূর্ণ হয়ে যাওয়ার অজুহাতে তার ভর্তি বাতিল করা হয়। এরপর তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।

কর্মজীবনের শুরু

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর তিনি নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এলাকার ব্রাউনসভিল কমিউনিটি সেন্টারে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান ইয়ুথ মুভমেন্টের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

১৯৩৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ফার্স্ট লেডি Eleanor Roosevelt-এর উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ব যুব সম্মেলনের পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত ১০ তরুণ-তরুণীর একজন ছিলেন ডরোথি হাইট। সেখানেই তার পরিচয় হয় Mary McLeod Bethune-এর সঙ্গে এবং তিনি এনসিএনডব্লিউর কার্যক্রমে যুক্ত হন।

একই বছর তিনি হারলেমের ওয়াইডব্লিউসিএ-তে (YWCA) কাজ শুরু করেন। কৃষ্ণাঙ্গ গৃহকর্মীদের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পরবর্তীতে সংগঠনটির জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।

নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রভাগে

১৯৪৭ সালে তিনি ডেল্টা সিগমা থেটা সংগঠনের জাতীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে ১৯৫৭ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব নিগ্রো উইমেন-এর সভাপতি হন এবং প্রায় ৪০ বছর ধরে সংগঠনটির নেতৃত্ব দেন।

তার নেতৃত্বে সংগঠনটি শুধু নাগরিক অধিকার আন্দোলনেই নয়, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতা বিষয়ক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। তিনি সংগঠনের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করেন এবং জাতীয় সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ডরোথি হাইট ছিলেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হাতে গোনা কয়েকজন নারী নেত্রীর একজন। তার সহযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন A. Philip Randolph, Martin Luther King Jr. এবং Whitney Young।

১৯৬৩ সালের মার্চ অন ওয়াশিংটনে তিনি বক্তাদের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র তার ঐতিহাসিক “I Have a Dream” ভাষণ দেন।

পারিবারিক মূল্যবোধ ও কৃষ্ণাঙ্গ সমাজ

ডরোথি হাইট বিশ্বাস করতেন, কৃষ্ণাঙ্গ পরিবার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এই উপলব্ধি থেকেই ১৯৮৬ সালে তিনি ব্ল্যাক ফ্যামিলি রিইউনিয়ন নামে একটি জাতীয় উৎসবের সূচনা করেন।

তার বিখ্যাত উক্তি ছিল- “আমরা সমস্যাগ্রস্ত মানুষ নই; আমরা এমন মানুষ, যাদের কিছু সমস্যা রয়েছে। আমাদের ঐতিহাসিক শক্তি রয়েছে। পরিবারব্যবস্থার কারণেই আমরা টিকে আছি।”

সম্মাননা ও উত্তরাধিকার

১৯৯৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Bill Clinton তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান Presidential Medal of Freedom প্রদান করেন।

২০০৩ সালে তিনি তার আত্মজীবনী Open Wide the Freedom Gates প্রকাশ করেন। জীবদ্দশায় তিনি তিন ডজনেরও বেশি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

মৃত্যু

২০১০ সালের ২০ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে ৯৮ বছর বয়সে ডরোথি হাইট মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কখনও বিয়ে করেননি এবং তার কোনো সন্তান ছিল না।

তবে তার রেখে যাওয়া সংগ্রামের ইতিহাস আজও নারীর অধিকার, বর্ণসমতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলনে প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। ডরোথি হাইট প্রমাণ করেছিলেন—নেতৃত্বের জন্য মঞ্চের কেন্দ্রে থাকা জরুরি নয়; দৃঢ় অবস্থান ও দীর্ঘ সংগ্রামই একজন মানুষকে ইতিহাসে অমর করে তোলে।