ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৮:৩০:৩৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

তাপদাহে পুড়ছে সারা দেশ, বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:২৯ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার

তাপদাহে পুড়ছে সারা দেশ

তাপদাহে পুড়ছে সারা দেশ

দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। রাজধানীসহ প্রায় সব বিভাগেই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি অবস্থান করছে। দিনের বেলায় খাঁ খাঁ রোদ আর গরম বাতাসে বাইরে বের হওয়া যেন একপ্রকার দুঃসহ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে, আর রাতেও স্বস্তি মিলছে না—গুমোট গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে খুলনা, রাজশাহী, ঢাকা ও রংপুর বিভাগের অনেক জেলায় এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা বেশি। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে, আর বাতাসে আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি মনে হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকায় দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন, তাদের অনেককেই ছাতা, টুপি বা পানির বোতল সঙ্গে রাখতে দেখা গেছে। খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিকদের কষ্ট যেন সবচেয়ে বেশি—তীব্র রোদে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, এ সময় হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও ডায়রিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা খাবার গ্রহণ এবং রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গ্রামাঞ্চলেও পরিস্থিতি ভিন্ন নয়। মাঠে কাজ করা কৃষকেরা গরমে অতিষ্ঠ। অনেক জায়গায় সেচের পানির চাহিদা বেড়েছে, ফলে কৃষি খরচও বাড়ছে। তাপদাহের কারণে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও লোডশেডিংয়ের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে, যা গরমের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। শহরের বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত, সর্বত্রই মানুষ অপেক্ষা করছে এক ফোঁটা বৃষ্টির জন্য।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে। তবে তা কতটা স্বস্তি এনে দেবে, তা নির্ভর করছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও বিস্তৃতির ওপর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

এই অসহনীয় গরমে মানুষের একটাই প্রত্যাশা—স্বস্তির বৃষ্টি। আকাশের দিকে তাকিয়ে সবাই যেন একই প্রশ্ন করছে, ‘কবে নামবে সেই বৃষ্টি?’