ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ১৩:১৯:৫৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
উত্তাল দিল্লি, বিশেষ ঘোষণা মোদির টানা বৃষ্টিতে তছনছ কৃষি-অর্থনীতি ৪ অঞ্চলে‘অতি ভারী’বৃষ্টির পূর্বাভাস, চট্টগ্রামে ভূমিধসের শঙ্কা চারদিন পর বন্ধ হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে ফিফা

তৃণমূল নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে না

আপডেট: ০৭:৪১ এএম, ১১ অক্টোবর ২০১৩ শুক্রবার

Trenomul nari Ugattaঅনু সরকার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪ডটকম ঢাকা : স্বল্প ব্যাংক ঋণ, ঋণের টাকা পাওয়ায় বিলম্ব ও জামানত জটিলতাসহ নানা সমস্যার কারণে দেশে তৃণমূল নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে না। উপরন্ত অনেকেই নিরুৎসাহীত হয়ে গুটিয়ে ফেলছেন ব্যবসা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাগজে কলমে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা লেখা থাকলেও বাস্তবে সেসব সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না তৃণমূলের নারী উদ্যোক্তারা। বরং ঋণের জন্য গেলে তাদের পরতে হচ্ছে নানা জটিলতায়। তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটির নেতারা জানান, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রধাণ অন্তরায় ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে জামানত চাওয়া। তাছাড়া নারীদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করণেও রয়েছে ব্যাপক সমস্যা। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শোরুমে পণ্য দিলেও বিক্রির পর শোরুমের মালিকরা প্রাপ্ত টাকা পরিশোধ করেন অনেক দেরি করে। ফলে উদ্যোক্তাদের হুমকির মুখে পরতে হয়। এছাড়াও তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের মান উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণের জন্য কোনো সংগঠন না থাকায় পণ্যের মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় ট্রেনিংয়ের অভাব রয়েছে। অধিকাংশ নারী উদ্যোক্তার তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় পিছিয়ে পরছেন। সংগঠনের সভাপতি জেসমিন খান জানান, তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংক থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু বর্তমানে ২ লাখ টাকার বেশি ঋণ দেয়া হয় না। সেই ঋণ নিতে গেলেও রয়েছে নানা ঝক্কি-ঝামেলা। এক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার শোরুম, জমি, জামানতকারী থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নতুন উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে এসব শর্ত মানা অসম্ভব হয়ে পরে। ফলে অনেকেই নিরুৎসাহীত হয়ে গুটিয়ে নেন নিজেকে। জেসমিন খান বলেন, ‘বিভিন্ন মেলার জন্য পণ্য তৈরি করে উদ্যোক্তারা সে পণ্য ঠিকমতো বিক্রি করতে পারেন না। ফলে সময়মতো টাকা পান না। আবার পণ্য বিক্রি না হলে তা ফেরত আসে। এটিও নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি না হওয়ার অন্যতম একটি কারণ।’ জানা গেছে, ব্যাংক থেকে তৃণমূল নারী উদ্যোক্তারা ১ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নিলে প্রথম মাস থেকেই ৭ শতাংশ সুদ দিতে হয়। এই নিয়ম নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে নিরুৎসাহিত করছে। নেতাদের দাবি বিনিয়োগ করার ৬ মাস পর থেকে সুদ ধরা হলে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধা হয়। সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ‘ঋণ নিতে গেলে ব্যাংকে অনেক ঘুরতে হয়। ঘুরতে ঘুরতে অনেক সময় ও টাকা খরচ হয়ে যায়। বিনিয়োগ করে লাভ হলে ঋণের টাকা দিতে কোনো কষ্ট হয় না। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ঋণ ফেরত দেয়ার নিয়ম থাকায় অনেকে ঋণখেলাপি হয়ে যায়। ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে জামানত ও অন্যান্য কাগজ পত্রের জন্য নারী উদ্যোক্তাদের হয়রানীর শিকার হতে হয়। ফলে ঋণ নিতে তারা অনীহা প্রকাশ করে।’ সরকারি অনুদানে মেলা করলে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বাজারজাত করতে সহজ হয়। কিন্তু এ ধরণের সুযোগ তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাদের জন্য খুবই কম রয়েছে বলে তারা জানান। তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাংশু মিত্র বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তারা পণ্য তৈরি করলেও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিক্রি বাধাগ্রস্ত হয়। এমনিতেই এসব পণ্য বিক্রি হয় ধীরগতিতে। তার ওপর হরতাল-বন্ধ এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাঠে বসিয়ে দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংকিং সমস্যার কারণে বিদেশের বিভিন্ন মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিক্রির টাকা সরাসরি দেশে আসে না। এ নিয়েও ভীষণ বিপাকে পরতে হয় নারী উদ্যোক্তাদের। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে।’ জানা গেছে, দেশে বর্তমানে কতজন নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন, তারা কী পণ্য তৈরি করছেন, কেমন আয় হচ্ছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ফলে একই প্লাটফর্মের নিচে দাড়িয়ে কাজ করা এবং সমান সুযোগ ভোগ করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা। এ প্রসঙ্গে হিমাংশু মিত্র বলেন, ‘বিভিন্ন এনজিও থেকে নারী উদ্যোক্তারা প্রশিক্ষণ নেয়ার পর সঠিক মনিটরিং ব্যবস্থা ও কাজের সুযোগ না থাকায় এক সময় কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। সরকারিভাবে কাগজে কলমে নারী উদ্যোক্তাদের অনেক সুবিধার কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র বিপরীত ও করুণ।’ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ও কর্পোরেট সংস্থার সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের তহবিল (সিএসআর) থেকে ৪০ শতাংশ বরাদ্দ করার দাবি জানান তিনি। সোসাইটির অর্থ সম্পাদক তৌহিদা হায়দার রীনা বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তাদের আইটি ট্রেনিং করানো দরকার। তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে জানা থাকলে নারীরা ঘরে বসে অনেক কাজ করতে পারবে।’ ৭ অক্টোবর’ ২০১৩