ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ১৩:৫১:৩৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০৬ পিএম, ২২ জুলাই ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা।

বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

ভিডিওতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। তবে এমপির দাবি, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে গত ১৭ জুন ওই তরুণীকে বিয়ে করেছেন
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ওই তরুণীর একটি জীবনবৃত্তান্তও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সবুজ কালির কলমে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেছেন গাজী নজরুল ইসলাম। জীবনবৃত্তান্তে স্বাক্ষরের তারিখ উল্লেখ রয়েছে ২২ জুন ২০২৬। একই সঙ্গে ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তাসনিম জারা তার পোস্টে লেখেন, সিভি অনুযায়ী তার বয়স মাত্র আঠারো। এসএসসি শেষ হওয়া মাত্রই যেহেতু চাকরি খুঁজছেন, তাই অনুমান করা যায় বাড়িতে অভাব। এই রকম সংসারে একটা চাকরি মানে শুধু চাকরি না। মানে মায়ের ওষুধ, ছোট ভাইয়ের ফিজিক্স টিচারের বেতন, বৃষ্টি এলে যে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে তা সারানো।

তাসনিম জানা বলেন, এ দেশে গরিবের চাকরি হয় কীভাবে? পরীক্ষা দিয়ে, লাইনে দাঁড়িয়ে। আর সবশেষে, কোনো ক্ষমতাবান মানুষের দরজায় গিয়ে সুপারিশ নিয়ে। এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষটির নাম এমপি সাহেব। তো একদিন সিভিটা এমপি সাহেবের কাছে পৌঁছাল। হয়তো মেয়েটি নিজে নিয়ে গিয়েছিল, হয়তো পরিবারের কেউ। ভরসা নিয়ে গিয়েছিল। যেভাবে গরিব মানুষ ক্ষমতাবানদের দ্বারস্থ হয়। সিভিতে সই পড়ল। জোর সুপারিশ করা হলো।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু সুপারিশের দাম হিসেবে মেয়েটিকে কী দিতে হয়েছে? হয়তো কিছুই না। হয়তো সবকিছু। আমরা জানি না। আর এই "জানি না"-টাই আসল কথা। কারণ যে সম্ভাবনাটা এখন আমাদের সামনে, সেটা কোনো সাধারণ কেলেঙ্কারি না। সম্ভাবনাটা হলো, জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্য তার পদের জোর খাটিয়ে একটা অসহায় মেয়েকে একা রুমে নিয়ে গেছেন। চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে।

তার মতে, সম্ভাবনা মানে প্রমাণ না, জানি। কিন্তু এই প্রশ্নটা সংসদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ আমাদের সামনে এসেছে। তদন্ত কমিটি হোক, খতিয়ে দেখা হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে মানুষটা কলঙ্কমুক্ত হবেন। আর সত্য হলে, 'মহান সংসদ' নামের মর্যাদাটুকু বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

এনসিপির সাবেক এই নেত্রী বলেন, সংসদ যদি চুপ করে থাকে? তাহলে সেই নীরবতার মানে একটাই। এই সংসদ হয়েছে গরিবকে শোষণ করার জন্য। অথবা গরিবের মেয়ে এমপির দরজায় গেলে যা ইচ্ছা তা-ই করার জন্য।

সবশেষ তিনি বলেন, এখানে আরেকটা কথা না বলে পারছি না। এই যে সুপারিশের ব্যবস্থা, ক্ষমতাবানের এক লাইনের সইয়ে চাকরি হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা, এটা কি শুধু এই একটা ঘটনার সমস্যা? প্রতিটা নির্বাচনে প্রতিটা দল আমাদের কথা দেয়, দুর্নীতিমুক্ত দেশ, জিরো টলারেন্স। অথচ সরকার বদলায়, দল বদলায়, সুপারিশের ব্যবস্থাটা বদলায় না। এই একটা জায়গায় সব দল একমত। কেন? যার সই ছাড়া চাকরি হয় না, সেই গরিব মানুষটাকে জিম্মি রাখার জন্যই কি? আজকের গল্পটা দেখিয়ে দিল, এই জিম্মিদশার দাম কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে।