ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১০:২২:৪১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

নারী আসনে বিএনপির বার্তা: সেলিব্রিটি নয়, রাজনীতিই প্রাধান্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:২৩ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জনের তালিকা প্রকাশের পর একটি বিষয় স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবার জনপ্রিয় মুখের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও সংগঠনিক অবদানকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তালিকায় বিনোদন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের দৃশ্যমান উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজনকে ফরম নিতে দেখা গেছে। এর মধ্যে কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন, দিলরুবা খান, কনকচাঁপা ও অভিনেত্রী চমক ছিলেন। কিন্তু তাদের কাউকেই মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে সংরক্ষিত আসনে তারকা বা পরিচিত মুখকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। এতে দলগুলো একদিকে যেমন জনআকর্ষণ বাড়াতে চায়, অন্যদিকে সহজে বার্তা পৌঁছানোর একটি মাধ্যম হিসেবেও তা ব্যবহার করে। কিন্তু বিএনপির এই তালিকা সেই প্রচলিত ধারা থেকে সরে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি সচেতন রাজনৈতিক কৌশল। প্রথমত, দলটি তৃণমূল ও দীর্ঘদিনের সংগঠক নারী নেত্রীদের প্রাধান্য দিয়ে ‘গ্রাউন্ড পলিটিকস’-এর ওপর জোর দিতে চেয়েছে। এতে দলীয় কর্মীদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা যায়—রাজনীতিতে অবদানই প্রধান, পরিচিতি নয়।

দ্বিতীয়ত, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিশ্বাসযোগ্যতা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয় মুখ সবসময় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় বা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারেন। ফলে দলটি এমন প্রার্থীদের বেছে নিয়েছে, যাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট এবং সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তৃতীয়ত, এটি দলীয় ভাবমূর্তি গঠনের একটি অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। গ্ল্যামারনির্ভর রাজনীতির বাইরে গিয়ে নিজেদের একটি ‘গম্ভীর’ ও ‘সংগঠিত’ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা এখানে প্রতিফলিত হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বিনোদন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রতিনিধিত্ব কম থাকায় সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের কণ্ঠস্বর তুলনামূলকভাবে কম প্রতিফলিত হতে পারে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা জনসম্পৃক্ত ইস্যুগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং তাদের একটি বড় অনুসারী গোষ্ঠী থাকে—যা রাজনৈতিক যোগাযোগে কার্যকর হতে পারত।

সব মিলিয়ে বিএনপির এই তালিকা একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়—দলটি এবার জনপ্রিয়তার চেয়ে সংগঠন, পরিচিতির চেয়ে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং গ্ল্যামারের চেয়ে বাস্তব রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। নারী আসনের এই মনোনয়ন তালিকা তাই শুধু নামের তালিকা নয়; এটি বিএনপির কৌশল, অগ্রাধিকার এবং রাজনৈতিক বার্তার প্রতিফলন।