ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ১৭:১০:৩৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

নারী ইস্যুতে সরকার খুবই আন্তরিক : সুলতানা কামাল

আপডেট: ১০:৪৮ এএম, ৭ নভেম্বর ২০১৪ শুক্রবার

প্রশ্ন : খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক মানবাধিকার বাংলাদেশের গ্রাম পর্যায়ে মারাতœকভাবে লংঘিত। আপনারা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারগুলোর ভূমিকা কি যথার্থ মনে করেন? না হলে কীভাবে এসব মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার দিকে যাওয়া যায়। সুলতানা কামাল : বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করার চেষ্টা করছে। দুঃস্থ মানুষের জন্য খাদ্য , কার্ড ও রেশনিয় বৃদ্ধভাতাসহ নানা ব্যবস্থা করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব ব্যবস্থা যথার্থ হওয়া বেশ কঠিন। কারণ আমাদের দেশে লোক সংখ্যা এতো বেশি যে এত অল্প সময়ের মধ্যে সন্তুষ্ট করা কষ্টসাধ্য। তবে তারা এচেষ্টা যেন দুর্নীতিমুক্তভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে বজিয়ে রাখতে পারে। তাহলে তারা একটা জায়গায় পৌঁছাতে পারবে। তবে বলা প্রয়োজন গ্রামীণ জনপদে চিকিৎসা ব্যবস্থার খুবই করুণ দশা। গরীব জনগণ চিকিৎসা নিতে গিয়ে দেখে ডাক্তার, ওষুধ কিছুই পায় না। এবিষয়ে চিন্তা করা জরুরী। বাসস্থানের কথাতো বলাই বাহুল্য। দিনে দিনে বস্তিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে, মানুষ নিজের জমি থেকে উতখাৎ হয়ে যাচ্ছে। আবাসনের নামে বেদখল হয়ে যাচ্ছে জমি। এসব সমস্যার সমসাধান করে এখনই সরকার বস্তিবাসীদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা না করলে সরকার সমস্যায় পড়ে যাবে। এদিকে খাদ্য সমস্যাতো রয়েছেই। সারা পৃথিবীব্যাপী খাদ্য নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতেই হবে। শুধু খাদ্য মজুদ রাখলেও চলবে না। অমর্ত সেন বলেছেন, গুদামে খাদ্য থাকলেই হবে না মানুষের কাছে তা পৌঁছাতে হবে। অমর্ত সেনের কথাটা মনে রাখতে হবে আমাদের রাজনৈতিক কর্মীদের। যেখানে গণতন্ত্র থাকে সেখানে মানুষ খাবারের অভাবে পরতে পারে না। পরিবার পরিকল্পনার কাজ চরমভাবে ঝিমিয়ে পড়েছে। অধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপটা কিন্তু সব সরকারকেই বইতে হবে। সুতরাং এখনই উদ্যোগ না নিলে প্রচন্ড ঝুঁকিতে পড়বে দেশ। প্রশ্ন : ‘দারিদ্য এবং দুর্নীতি পরস্পর সম্পৃক্ত’। দুর্নীতি কমলে দারিদ্র হ্রাস পাবেÑএমন অভিমতে আপনার ব্যাখ্যা কী? সুলতানা কামাল : অবশ্যই দুর্নীতি কমলে দারিদ্র কমবে। দুর্নীতির মাধ্যমে মানুষ সম্পদ কুক্ষিগত করে নেয়। কিছু মানুষের হাতে এতো টাকা; কেউ আবার না খেয়ে থাকছে। এই যে তারতম্য তাও হচ্ছে কারণ সমাজে দূর্নীতি রয়েছে। এই যে সম্পদের তারতম্য এটা হচ্ছে কারণ সম্পদের সুষম বন্টন হচ্ছে না। ১৬ কোটি জনতার এটি দেশে আয়কর দেয় মাত্র ৬ লাখ মানুষ। জাকজমকপুর্ণ শপিংমল, রাজধানীর জৌলস এগুলোতো খালি ৬ লাখ মানুষের জন্য? এর চেয়ে আরও অনেক বেশি লোকের হাতে অনেক বেশি টাকা রয়েছে। কিন্তু এগুলোর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায়ই কালো টাকার সাদা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সেই সুযোগও আবার ধনীদের দিকেই যাচ্ছে। আমাদের দেশে একটি আয়কর নীতি থাকা দরকার। দেশের অনেক লোকেরই আয়কর দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তাদের আয়করের আওতায় নিয়ে আসা দরকার। আয়কর না দেওয়াও একধরণের দুর্নীতি। এছাড়া নানাভাবে অবৈধ টাকা লেনদেন হয়। দুর্নীতি কমাতে হলে তা বন্ধ করা প্রয়োজন। প্রশ্ন : বাংলাদেশে দুর্নীতি কমাতে হলে প্রধানত কী কী পদক্ষেপ জরুরী বলে মনে করেন? সুলতানা কামাল : প্রথমতই কথা হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্নীতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। যাতে মানুষ দূর্নীতিবাজদের গ্রহণ না করে। দুর্নীতির গ্রহণযোগ্যতা যেন তাদের মধ্যে না থাকে। নিজেরা দুর্নীতির মধ্যে জড়াবো না এবং কাউকে দুর্নীতি করতে দেবো না। কারো সামনে এ অন্যায় হতে দেখলে সোচ্চার হওয়া এবং সেটাকে সাহস দেওয়ার জন্য সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। কারণ একা একা কোন কাজ করতে মানুষ পাড়ে না। যেখানে পুরো সমাজের মধ্যে জাতির মধ্যে দুর্নীতির গ্রহণযোগ্যতা এতো সহজ হয়ে গেছে সেখানে আমি একা যদি কথা বলতে যাই তাহলে আমি কিন্তু কোণঠাসা হয়ে যাবো। আমি নিজেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বো। তখন এক সময় চাপে পরে আমি আতœসমর্পণ করবো এবং দূর্নীতিগ্রস্থদের দলে ভিড়ে যাবো। সেজন্য দুর্নীতি কমাতে হলে সরকার থেকে শুরু করে সামাজিক যে সংগঠনগুলো আছে তাদের প্রত্যকেরই সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে হবে। সবার সঙ্গে সংযোগ সৃষ্টি করে, আন্তঃযোগাযোগগুলো বৃদ্ধি করে, কোন একটি কাঠমো তৈরি করে দুর্নীতি, অসততা, মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে কাজগুলো করতে হবে। নানা রকম জোট তৈরি করতে হবে। এখন আমরা দেখি বাংলাদেশে অসৎ মানুষের জোট রয়েছে অনেক। এই জোটগুলো ভেঙ্গে দিয়ে সৎ মানুষের জোট তৈরি করতে হবে। প্রশ্ন : বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা কীভাবে দেখছেন? অতীত এবং বর্তমানের প্রেক্ষাপটে বর্তমান পরিস্থিতির আরও উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখেন কি? সুলতানা কামাল : দূঃখজনকভাবে বলতে হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো না। একারণে ভালো না যে মানবাধিকারের যে প্রধান শর্তগুলো রয়েছে তার সঠিক চর্চা হচ্ছে না। মানুষ স্বাধীনভাবে চলাচলের সুযোগ পাবে, ন্যায় বিচারে প্রতি আস্থাবান হবে, শান্তিতে বসবাস করবে পারবে, মানুষের অভাব এবং শংকা থাকবে নাÑএগুলোইতো মানবাধিকারের শর্ত। এই পাঁচটা জিনিস কিন্তু মানবাধিকারের কথা বলে দেয়। এ সুযোগগুলো আমাদের দেশে নেই। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে মানবাধিকার সার্বজনিন হতে হবে, সেখানে কোনো বৈষম্য থাকতে পারবে না। কিন্তু আমাদের সমাজে এ বিষয়ে চরম বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। প্রশ্ন : তার মানে মানবাধিকারের শর্তগুলো দেশে ঠিকমত পালিত হচ্ছে না? সুলতানা কামাল : অবশ্যই না। মানবাধিকারের যে শর্তগুলো রয়েছে তাতে প্রতিটি মানুষ আইনের চোখে সমান থাকবে, তাদের পাপ্য অধিকার ও মর্যাদা তারা পারে, মানুষের জন্য সর্বজনিন হবে মানবাধিকার। সে দিকটার প্রতি কোনো সরকারই নজর দিচ্ছেন না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো কারণ বাংলাদেশ একটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট হবে। এখানে ধর্ম দিয়ে কারো পরিচিতি নির্নয় করা হবে না। ধর্ম-বর্ণ এবং লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষ সমান মর্যদা এবং সমান অধিকারের দাবিদার হবে এ কথা সংবিধানে ১১ ধারায় বলা হয়েছে পরিস্কার ভাষায়। মানবাধিকারে সঙ্গে মানুষের মর্যাদা-অধিকারের বোধটা থাকা দরকার যা নেই বর্তমানে। বরং ভয়-ভীতি আছে মানুষের মনে। মতামত দিলে সমালোচনা করলে কিংবা অধিকারে কথা বললে বিপদে পরতে হচ্ছে। তা হলে মানবাধিকার থাকলো কোথায়! প্রশ্ন : তাহলে এ থেকে উত্তরণ...? সুলতানা কামাল : এখন আমরা যদি প্রকট মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখি তাহলে দেখবো এখন পর্যন্ত আমাদের সমাজে মানুষরা স্বস্তিতে বাস করে না। তাদের নানা রকমের শংকা বিব্রোত ও বিপর্যস্ত করতে থাকে। তার পর রাষ্ট্রের যে দায়িতœ মানবাধিকা সংরক্ষণ ও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া পদক্ষেপগুলো দৃশ্যমান হওয়া উচিত ছিলো তা হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে আচরণ রয়েছে তাতে আমরা খুব বেশি বিব্রোত হচ্ছি। বিশেষ করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, আইনবর্হিভূত হত্যাকান্ড চরম বিব্রোত করছে দেশকে। ফতোয়া নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে। ফতোয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের একটি চমৎকার নির্দেশন পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও আইন বিভাগ কাজ করতে পারে এবং সমাজের মধ্যে যদি সচেতনতা দেখা দেয় তাহলে বলবো এক্ষেত্রে মানবাধিকারের একটি বড় ইতিবাচক কাজ হয়েছে। কিন্তু তাছাড়া সাম্প্রায়িকতার বিষয়টিগুলো যদিও আলোচনায় এসেছে, চেষ্টাও করা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দূর হয়নি। আমরা আজ পর্যন্ত অর্জিত সম্পত্তি আইন বাতিল করতে পারিনি। প্রশ্ন : বিগত বছরগুলোতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মন্তব্য কি? সুলতানা কামাল : কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভালো হয়েছে। সরকারি সদিচ্ছারও প্রমান আমরা পেয়েছি। ছিনতাই অনেকটাই কমেছে। মানুষজন রাতে বের হতে পারছে। কিন্তু তারপরও আমি বলবো যতটা উন্নতি হওয়া প্রয়োজন ছিলো তা হয়নি। এর কারণ এই নয় যে সম্ভব না। একারণেই হচ্ছে না যে যখন এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তখন সমস্যার চেয়েও তারা নিজেদেরকে এতো বেশি রক্ষা করার তর্কে জড়িয়ে যায় যে তারা সন্দেহবাতিকগ্রস্থ হয়ে পড়ে। তারা জিনিসটাকে সহজভাবে দেখতে চান না এবং সমস্যা সমাধানে যে কাজ করা যায় তা করতে চান না। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলেই তারা মনে করেন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে। প্রশ্ন : মানবাধিকার এবং নারী অধিকার দুটো বিষয়কে সম্পৃক্ত করে দেখেন অনেকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর মৌলিক অধিকার কতটা সংরক্ষিত বলে মনে করেন আপনি? সুলতানা কামাল : দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মোটেও আশাপ্রদ নয়। তবে নারী ইস্যুতে বর্তমান সরকার খুবই আন্তরিক। এজন্যই আমরা পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন পেয়েছি, পেয়েছি একটি উন্নত নারী নীতি পেয়েছি। বিভিন্ন সেক্টরে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে, ভাইসচেয়াম্যান পদে নারীরা আসছেন। রাজনৈতিক দলে নারীকর্মী বৃদ্ধির নির্দেশসহ সংসদে নারীর সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকার প্রশংসা পেতে পারে। এগুলো অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। প্রশ্ন : বাংলাদেশের মৌলিক মানবাধিকারের ক্ষেত্রে র‌্যাবের ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। মানবাধিকার কর্মী হিসেবে এ ব্যাপারে আপনার সুপারিশ কী? সুলতানা কামাল : আমাদের সাংবিধানিক কতগুলোর নির্দেশনা রয়েছে। দেশে আইন-কানুন আছে। আইন-শৃগ্ধখলা রক্ষাকারি বাহিনী যারা এর দায়িত্বে আছে তাদেরও সরকারের পূর্ণ সমর্থন দিতে হবে। সরকারে পক্ষ থেকে যদি কঠিন নির্দেশ থাকে যে কোন কিছুই আইনবহির্ভূতভাবে হতে পারবে না। হলে তাদেরকে জবাবদিহিতার সমুক্ষিণ হতে হবে। তা হলে কিন্তু অনাকাংক্ষিত ঘটনাগুলো ঘটবে না। যারা এধরণের ঘটনা ঘটাচ্ছেন তাদের শাস্তির বিষয়টি দৃশ্যমান হওয়া দরকার। শুধু বিভাগীয় পর্যায়ে বিচার করলেই হবে না। তাদের এমনভাবে শাস্তি দিতে হবে যে তারা যেন জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করেন। এমন দুয়েকটি জবাবাদিহিতার ঘটনা ঘটলেই কিন্তু এ ধরণে এনকাউন্টারের গঠনা আর ঘটতো না। প্রশ্ন : সীমান্ত সংঘাত বাংলাদেশে একটি দীর্ঘজীবী সমস্যা। সীমান্ত সংঘাতের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় সরকারগুলোকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। সীমান্ত সংঘাত বন্ধ করতে পারছে না কোনো সরকারই। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছে। এ সমস্য থেকে উত্তরণের পথ কি? সুলতানা কামাল : সীমান্ত সংঘাতের বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করেছি। আমাদের কাছে সংবাদ আছে ভারত সরকার বিষয়টি বর্তমানে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে তা কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে তা অবশ্য পর্যবেক্ষণের ব্যাপার। তারা বলেছে এখন তারা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটা শেষ করবে। গোলাগুলি হতো তা কমাতে চেষ্টা করবে এবং মারনাস্র ব্যবহার না করে রাবার বুলেট ব্যবহার করবে। এই সিদ্ধান্তগুলো ইতিবাচক। মাদক পাচার, চোরাচালানী এসব কারণেইতো সংঘাতটা শুরু হয় এসব বন্ধে ভারতকেই ভূমিকা নিতে হবে। কারণ তারা বড় দেশ। এখানেও দূর্নীতি জড়িত। সৎভাবে মানুষকে আয় করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিলে মানুষ আর অসৎ পথে আয় করতে যাবে না। প্রশ্ন : পার্বত্য সমস্যার সঙ্গে মানবাধিকারের প্রশ্ন জড়িত বলে মনে করেন কেউ কেউ। আপনার অভিমত কী? সুলতানা কামাল : পার্বত্যবাসীর যে দাবিগুলো রয়েছে, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমিতে অধিকার সেগুলো তাদের দিতেই হবে। তাদের নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আদিবাসী পরিচয় কেড়ে নেয়া হচ্ছে। এগুলোতো অমানবিক। আজকে সারা পৃথিবীতে তাদের আদিবাসী নামে ডাকা হয়। কিন্তু আমরা তা করবো না। কেন? বর্তমানে পাহাড়ে প্রতিদিনই সংঘাত, হত্যা চলছে। এগুলো মানবাধিকারবহির্ভূত। এ সংঘাত বন্ধ করা জরুরী। তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি তারা তা পেয়ে যাবে। বর্তমান সরকারই ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি করেছিলো। তার অনেক শর্তই বাস্তবায়িত হয়েছে। সরকার নিশ্চয় নিজেদের প্রয়োজনেই অন্য শর্তগুলোও বাস্তবায়ন করবে। সেনাবাহিনীর অনুমতি নিয়ে আদিবাসীদের সব করতে হবে কেন? এটাতো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।

প্রশ্ন : আপা আপনাকে ধন্যকবাদ। সুলতানা কামাল : আপনাদেরও ধন্যবাদ। সাক্ষাৎকার গ্রহণে : রাতুল মাঝি