ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৯, জুলাই ২০২৬ ১৯:২১:২৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ৭০ বছর পর ব্রিটিশ নারীর সাজা পরিবর্তন এক দশকে ১৫শ নরমাল ডেলিভারি করিয়েছেন লিলি শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ আজ চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আয়াতুল্লাহ খামেনি সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হচ্ছেন আইরিন খান বান্দরবানে পাহাড়ধস, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুসহ ৫ জনের প্রাণহানি

নারী-পুরুষের আলাদা শিক্ষাব্যবস্থা চান এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:২৪ পিএম, ৯ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

জাপানের আদলে তুরস্কেও নারী-পুরুষের জন্য আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান৷ তবে তার এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়েছেন সেদেশের অনেক অধিকারকর্মী৷ জাপানে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে গিয়ে নারী-পুরুষের পৃথক শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য দেন এরদোগান৷ জাপানে ৮০ টি নারী বিশ্ববিদ্যালয় থাকাকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ হিসাবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট জানান, তুরস্কেও তিনি এটি চালু করতে চান৷

সম্মেলন থেকে ফিরে আঙ্কারায় ফিরে জাপানি মডেলে নারী-পুরুষের পৃথক শিক্ষার কথা বলেন এরদোগান৷ তিনি বলেন, তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পৃথক শিক্ষার মধ্যে ভালো কিছু দেখছেন তিনি৷ তুরস্কের উচ্চ শিক্ষা কাউন্সিল-(ওয়াইওকে) কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলার কথাও জানান প্রেসিডেন্ট এরদোগান৷

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে তার এমন ইচ্ছার তীব্র সমালোচনা করেছেন নারী অধিকার কর্মী ও নারীবাদীরা৷ তারা বলছেন, জাপানের আদলে সবদেশে এটা করে ফেলা কোনোভাবে উপযুক্ত নয়৷ কারণ নারী অধিকার বিবেচনায় বৈশ্বিকভাবে অনেক পিছিয়ে জাপান৷

২০১৮ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ)-এর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রে ১৪৯ দেশের মধ্যে ১১০তম স্থান জাপানের৷ যদিও তুরস্ক জাপান থেকে ২০ ধাপ পেছনে ছিল৷

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও নারী অধিকার বিশেষজ্ঞ ফাতমাগুল বার্কতাই বলেন, ১৯শতকে শিক্ষায় নারীদের এগিয়ে আনার জন্য জাপানে পৃথক শিক্ষাব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল৷ কারণ এমন এগিয়ে আনা জাপানে দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার ছিল৷ কিন্তু এখন তো নারী-পুরুষকে আলাদা করাকে বৈষম্য হিসাবেই বিবেচনা করা হয়৷

এই ধরনের উদ্ভট সিদ্ধান্ত না নিয়ে তুরস্কের শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নতিতে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ফাতমাগুল বার্কতাই বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা মৌলিকভাবে ভেঙে পড়া৷ এ কারণে আমাদের শিক্ষার উন্নতি দরকার৷ এমতাবস্থায় নারী-পুরুষের জন্য পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় করার কথা বলা নিতান্তই বোকামি৷’

এরদোয়ানের পৃথক শিক্ষা-পদ্ধতি পরিকল্পনাকে ‘অলীক কল্পনা’ হিসাবে অভিহিত করেন নারীবাদী শিক্ষাবিদ আকসু বোরা৷ ‘একবিংশ শতকে এসে কোনো নারী, এমনকি রক্ষণশীল নারীরাও এমন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাইবে না,’ ডয়চে ভেলেকে বলেন তিনি৷

কামাল আতাতুর্কের হাত ধরে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি নিয়ে ১৯২৩ সালে বর্তমান তুরস্ক প্রতিষ্ঠা লাভ করে৷ সে কারণে দেশটিতে নারী-পুরুষের জন্য পৃথক কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই৷

১৯৭৩ সালে পাস করা তুরস্কের জাতীয় শিক্ষা আইনেও বলা আছে, ‘নারী-পুরুষের একীভূত শিক্ষাপদ্ধতিই উত্তম৷’ সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে নানা রকম ধর্মীয় পদক্ষেপ নিয়ে চলছে এরদোগান সরকার৷

-জেডসি