পুরো সেটআপ বাংলাদেশের একটা অন্ধকূপ: শামান্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৯:২০ এএম, ৯ নভেম্বর ২০২৫ রবিবার
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই সনদ বাস্তবায়িত না হলে গণঅভ্যত্থানে অংশ নেওয়া তরুণদের ক্রিমিনালাইজেশন বা অপরাধীকরণ আদালত পর্যন্ত গড়াবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।
শনিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নারীর কণ্ঠে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন রূপরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারী শক্তি।
সামান্তা শারমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো এখনো পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ গোষ্ঠী চায় না এমন কোনো শক্তি মাঠে, কমিশনে বা সংসদে আসুক, যেই শক্তিটা আনপ্রেডিক্টেবল। আনপ্রেডিক্টেবল এই অর্থে যে, তাদের কন্ট্রোলের মধ্যে নয়। এই শক্তির সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশের সুপার করপোরেট অলিগার্কস, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, সিভিল ব্যুরোক্রেসি ও সামরিক শক্তির কিছু অংশ।’
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘এই পুরো সেটআপটাই বাংলাদেশের একটা অন্ধকূপ। এই অন্ধকূপ থেকে বের হওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষের ৫৩ বছরের লড়াই চলছে। কখনো ভোটের জন্য, কখনো স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, কখনো মিলিটারি শাসনের বিরুদ্ধে, আবার কখনো ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে। কিন্তু মূল লড়াইটা হলো এই গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে আসা।’
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো আজও পরাধীন। সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন- কোনো প্রতিষ্ঠানই স্বাধীন নয়। এ পরাধীন অবস্থায় রাখাটাই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রয়োজন। কারণ তাদের রাজনীতি এ ব্যবস্থার মধ্যেই নিরাপদ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরে সামান্তা শারমিন বলেন, ‘আমরা একে বলি জেন-জি রেভ্যুলেশন। কারণ, মাঠে আমরা বুক চেপে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি জেন-জিদের, তরুণ জনগোষ্ঠীকে। তাদের রক্তের ওপর দিয়েই এই সরকার (অন্তর্বর্তী) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, এখন এসে সেই তরুণদের এক ধরনের ক্রিমিনালাইজ করা হচ্ছে। ভুলে যাবেন না, আপনারা কেউ ভুল করবেন না, এই ক্রিমিনালাইজেশনের শেষ এখানেই নয়। এটা শুধু বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হবে না। জুলাই সনদ যদি আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত না হয়, যদি আইনি প্রক্রিয়ায় তা নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে এই ক্রিমিনালাইজেশন কোর্ট পর্যন্ত গড়াবে।’
পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে অচল উল্লেখ করে এ তরুণ নেত্রী বলেন, ‘তারা নিয়ম মেনে চলে, ঘুম থেকে ওঠে, ঘুমায়, কিন্তু তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা নেই। নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ার ক্ষমতাও তাদের নেই। অথচ তারাই এখন বড় বড় কথা বলে। এক বছর আগেও এই বড় দলের নেতারা ছিলেন হতাশা আর ক্রন্দনের মধ্যে। নিজেরাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সেটেলমেন্ট করে রেখেছিলেন। এখন এসে বিশাল বিশাল বক্তব্য দিচ্ছেন ‘
সামান্তা শারমিন বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য চার-পাঁচজন তরুণ যুক্ত হওয়ায় সেটি অনেকের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এখন তিন বছরের ট্রানজিশনের কথা বলেন। কিন্তু আমরা আমাদের শৈশব, কৈশোর ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কাটিয়েছি ফ্যাসিস্ট আমলে। হাসিনাকে হটাতে চেয়েছি এই কারণে নয় যে তার জায়গায় আরেক ফ্যাসিস্ট আসবে। পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলো দেশকে আবার সেই একই জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। তাদের কোনো বুদ্ধিভিত্তিক মেকানিজম নেই। বাংলাদেশকে নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দিকে নিতে হলে এই মানসিকতা ভাঙতেই হবে।’
গণঅভ্যুত্থানের পরও মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের কোনো লড়াই হয়নি উল্লেখ করে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘এর মূল বাধা হচ্ছে এস্টাবলিশমেন্ট ও পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলো। তারা এখন বলে জুলাই সনদ দরকার নেই, নির্বাচনই যথেষ্ট। কিন্তু আমরা জানি, এই নির্বাচনে কারা জেতে- খুনি, দালাল আর ঋণখেলাপি নেতারা।’
গণপরিষদ নির্বাচনই উত্তরণের পথ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এনসিপি শুরু থেকেই গণপরিষদ নির্বাচনের পক্ষে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনে তরুণদের কণ্ঠ দমন করা হয়েছে। কমিশনে যেমন গুন্ডামি-মাস্তানি হয়েছে, এলাকাতেও তারা তাই করছে। তারা ভাবে মাস্তানি করেই ভোট সংগ্রহ করা যাবে।’
সামান্তা শারমিন জানান, বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠী এখন আর আগের মতো নীরব নন। তাদের ভোটের শক্তি ও ভোট আন্দোলনের মধ্য দিয়েই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
- ‘এখন আরও দ্বিগুণ উদ্যমে কাজ করছি’
- চ্যাম্পিয়ন সাবিনাদের জন্য ছাদখোলা বাস
- পুকুর পাড়ে হলুদ শাড়িতে ভাবনা
- ‘শৈশবে ফিরলেন’ নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটাররা
- নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়া অর্থনীতিতে সতর্ক সংকেত
- ইরান অভিমুখে আরও মার্কিন নৌবহর
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ
- বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে থানায় আশ্রয় নিলেন কনে
- রাউজানে নলকূপের গর্তে পড়া সেই শিশুকে মৃত ঘোষণা
- ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শত শত তদবির, আগে টাকা দিলেই কাজ হতো’
- কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
- আমলকির তেল কি চুল পড়া বন্ধ করে?
- এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে
- হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল
- কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান
- নারী, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিষয়ে ১০ দফা সুপারিশ
- ‘কিছুই পাল্টায়নি, এখনও মেয়েদের হেনস্তা করা হচ্ছে’
- সারা দেশে অবাধে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি
- ৩ দিন চলবে না মোটরসাইকেল, একদিন মাইক্রো-ট্রাক
- সাবস্ক্রিপশন পরীক্ষা করবে মেটা
- নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই: পাপিয়া
- আয়রনের ঘাটতি, যে কারণে শুধু সাপ্লিমেন্ট যথেষ্ট নয়
- মেয়েদের টানা জয়ের প্রভাব পড়েছে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে
- ঋতুপর্ণার হ্যাটট্রিকে ১৩-০ গোলের জয়
- দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘স্বর্ণের রাস্তা’
- ১৭ বছর বড় বড় গল্প শুনেছি: তারেক রহমান
- প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ
- ৪০ হাজার কোটির রাজস্ব হলেও ক্ষতি ৮৭ হাজার কোটি
- গণভোট নিয়ে কারিগরি-মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ৮ উদ্যোগ
- স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব ভাঙলেন সাইফ কন্যা











