ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ১৮:৪৪:৪৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

ফূল চাষী পারভিনের সাতকাহন

আপডেট: ০৩:৪৩ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৪ বৃহস্পতিবার

উইমেননিউজ ডেস্ক, ঢাকা : ফুলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা কার না আছে। সে ভালোবাসা থেকেই টাঙ্গাইলের কান্দিলা গ্রামের খন্দকার পারভীন সুলতানা এখন সফল ফুল চাষি। তিনি ভিনদেশি ফুল জারবেরা চাষ করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। আলাদা তিনটি বাগান তার। এসব বাগানে ফুটে আছে লাল, হলুদ ও সাদা রঙের শত শত জারবেরা ফুল। সারি সারি গাছের ওপর লম্বা ডাঁটার মাথায় ফুলগুলো বাতাসে দুলছে। ফুলের প্রতি স্বামীর আগ্রহ দেখে তিনিও ফুলের প্রেমে পড়েন। স্বামী মাহবুবুর রহমান খান ছানু ছিলেন একজন সফল গোলাপ ফুল চাষি। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন মাহবুবুর রহমান খান ছানু। কয়েকটি গোলাপের চারা এনে বাড়ির সামনে বাগান করেন। কয়েক বছরের মধ্যে বাগানের পরিধি বেড়ে যায়। প্রায় ২০০ প্রজাতির গোলাপ সংগ্রহ করে টাঙ্গাইলে গোলাপ সমিতি গঠন করেন তিনি। তিনি ছিলেন এর সাধারণ সম্পাদক। টাঙ্গাইলে কয়েকবার পুষ্প মেলার আয়োজনও হয় তার উদ্যোগে। ২০০৪ সালে চিকিৎসার জন্য ছানু ভারতের মাদ্রাজ যান। এ সময় সন্ধান পান জারবেরা ফুলের। ৩০ থেকে ৪০টি জারবেরা ফুলের চারা কিনে এনে তিনি বাগানে লাগান। প্রথম বছরই চমৎকার ফুল ফোটে। সেখান থেকে নতুন চারা তৈরি করা হয়। পরের বছরই বাগানে প্রথম দফায় ৩০০ ফুল আসে। সেগুলো ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় বিক্রির জন্য। তিনি প্রতিটি ফুল বিক্রি করেন চার টাকা করে। তখন পরিকল্পনা করা হয় বাণিজ্যিকভাবে জারবেরা চাষের। তিন বছর পর ছানু আবার ভারতে গিয়ে তিনি জারবেরার ৫০০ হাইব্রিড চারা নিয়ে আসেন। ধীরে ধীরে বাগানের পরিধি বাড়তে থাকে। ফুলের চাহিদা বাড়ে। বিক্রি ভালো হয়। লাভও হয় আশানুরূপ। জারবেরা চাষের জমি ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে স্ট্রোক করে মারা যান মাহবুবুর রহমান খান ছানু। তাকে হারিয়ে ফ্যাকাসে হতে থাকে তার ফুলবাগান। পরিচর্যার অভাবে মরে যেতে থাকে অনেক গাছ আর চারা। একে তো স্বামীর ফুলের বাগান, তার ওপর ফুলের প্রতি ভালোবাসা, নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি পারভীন। স্বামীর ডায়েরি ঘেঁটে ফুলসংশ্লিষ্টদের ফোন নম্বর নেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে শিখতে থাকেন ফুল বাগানের পরিচর্যা পদ্ধতি। আগের শ্রমিকদের ডেকে আনা হয়। তিনি নতুন করে শুরু করেন জারবেরা ফুল ফোটানোর কাজ। তার হাতের পরশে আবার সতেজ হয়ে ওঠে জারবেরা বাগান। পারভীন সুলতানা জানান, জানুয়ারি থেকে মার্চ জারবেরা ফুলের মৌসুম। এ সময় সপ্তাহে তিনদিন ফুল সংগ্রহ করা যায়। একদিনে প্রায় পাঁচ হাজার ফুল সংগ্রহ হয়। ঢাকায় পাইকারি বিক্রি করা হয় এগুলো। বছরের অন্য সময় ফুলের উৎপাদন কমে যায়। তখন চাহিদা বাড়ে, দামও বাড়ে। তিনি একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ১৩.১১.২০১৪00