ঢাকা, রবিবার ১৮, অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫৩:২৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ছদ্মনামে লিখে সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ইসাবেল আলেন্দে বাঙালি মহীয়সী নারী ইলা মিত্রের জন্মদিন আজ ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদফতর রাজধানীর বাইরে অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ইনানীর রিসোর্ট টুপটুপ কলকাতায় পূজামণ্ডপ ভেঙে ১৩ নারীসহ ১৯ জনের প্রাণহানী হাসপাতালে ডাক্তারের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইনানী রিসোর্টে আগুন: নিহতদের ৬ জনের পরিচয় মিলেছে

বাঙালি মহীয়সী নারী ইলা মিত্রের জন্মদিন আজ

উইমেননিউজ২৪ ডেস্কঃ | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৪৭ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ইলা মিত্র একজন বাঙালি মহীয়সী নারী এবং সংগ্রামী কৃষক নেতা। তিনি মূলত তেভাগা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। ইলা মিত্র ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নগেন্দ্রনাথ সেন, ছিলেন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা- অবিভক্ত বাংলার ডেপুটি অ্যাকাউনট্যান্ট জেনারেল। মাতা মনোরমা সেন। তিন বোন তিন ভাইয়ের মধ্যে ইলাই ছিলেন বড়।

তিনি ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে বেথুন স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। অতঃপর ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে বেথুন কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে একই কলেজ থেকে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে এম.এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ছাত্রাবস্থায়ই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

১৯৪৬-৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ফসলের দুই-তৃতীয়াংশের ওপর কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বাংলার ১৯টি জেলায় গড়ে ওঠে তেভাগা আন্দোলন, তা চলমান থাকে ১৯৪৯-৫০ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত। তেভাগার দাবিতে রাজশাহী জেলার, বিশেষভাবে নাচোলের কৃষকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ইলা মিত্র অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন।

১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের মাধ্যমে যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতাসীন হলে চিকিৎসার প্রয়োজনে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে কলকাতা যাবার পর ইলা মিত্র আর পূর্ব বাংলায় ফিরে আসেননি।

ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিশ্চিত না হওয়ায় প্রচন্ড দুরবস্থায় কয়েক বছর বস্তিতে জীবনযাপন করেন। ১৯৬২-৭৮ সময়ের মধ্যে মানিকতলা নির্বাচনি এলাকা থেকে তিনি পর পর চারবার পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে দুবার তিনি ছিলেন বিধান সভায় কমিউনিস্ট পার্টির ডেপুটি লিডার। ভারতে শিক্ষা আন্দোলন ও নারী আন্দোলনে বিশিষ্ট ভূমিকা পালনকারী ইলা মিত্র ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রাদেশিক পর্যায়ের নেতৃত্বে সমাসীন ছিলেন।

তিনি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে তিনি জনমত সংগঠিত করতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা। বিবাহসূত্রে ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে তাকে চলে আসতে হয় চাঁপাই নবাবগঞ্জের রামচন্দ্রপুরে। সামন্ত পরিবারের রক্ষণশীলতাকে ভেঙে, তখনকার পল্লীর অচলায়তনকে অতিক্রম করতে তিনি যুক্ত হন মেয়েদের জন্য গড়া নতুন স্কুলের সঙ্গে, শিক্ষক হিসেবে। পরবর্তী সময়ে পরিবারের শ্রেণি-অবস্থানকে অতিক্রম করে, কমিউনিস্ট নেতা ও স্বামী রমেন্দ্রনাথ মিত্র এর সঙ্গে, তিনি যুক্ত হন জমিদারি উচ্ছেদ ও জোতদারি শোষণের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ের আন্দোলনে।

ভারত সরকার তাকে ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’ হিসেবে এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার অ্যাথলেটিক্সে অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করে। এ ছাড়া হিরোশিমার মেয়ে গ্রন্থানুবাদের জন্য তিনি সোভিয়েত ল্যান্ড নেহরু পুরস্কার লাভ করেন। তিনি অসাধারণ সাহসী ও সংগ্রামী জীবন বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার প্রগতিশীল মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎসে পরিণত হয়েছে।

২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ অক্টোবর ইলা মিত্র মৃত্যুবরণ করেন।