ঢাকা, শনিবার ২৭, জুন ২০২৬ ১৩:৫৭:১২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে ফ্রান্স গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইতিহাস গড়ে প্রথমবার নকআউটে কেপ ভার্দে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৫৪৮২ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৯২০, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি ইতালিতে নারী ও শিশুসহ তিন বাংলাদেশি খুন, গুরুতর আহত একজন

বিশ্বে তিনজন শিশুর দুইজন ভুগছে অপুষ্টিতে

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৩৮ এএম, ১৮ মে ২০২২ বুধবার

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

বিশ্বে বর্তমানে অন্তত ১ কোটি শিশু (প্রতি ৩ জনে ২ জন) অপুষ্টিতে ভুগছে। এসব শিশু চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য থেরাপিউটিক খাদ্যের প্রয়োজনীয় সরবরাহ থেকে বঞ্চিত। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া কোভিড মহামারীর ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ভুগতে থাকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কিছু দেশে বৈশ্বিক পর্যায়ে শিশুদের অপুষ্টি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। মঙ্গলবার ইউনিসেফ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির মাত্রা বাড়ছে। জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার জন্য ব্যয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও রুগ্ন শিশুদের জীবন বাঁচাতে বৈশ্বিক অর্থায়ন বর্তমানে হুমকির মুখে। বিশ্বব্যাপী পাঁচ বছরের কম বয়সী অন্তত ১ কোটি ৩৬ লাখ শিশু অপুষ্টির শিকার। যার কারণে এই শিশুদের প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জনের মৃত্যু হয়। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করার আগেই সংঘাত, জলবায়ুজনিত অভিঘাত ও কোভিড ১৯-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের খাদ্য জোগানের মূলে আঘাত করেছে। প্রতি বছর লাখ লাখ শিশুর জন্য থেরাপিউটিক পেস্টের প্যাকেটগুলো জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। বৈশ্বিক খাদ্য বাজারের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সামাল দেওয়া সম্ভব। সরবরাহ শৃঙ্খলের শেষ ভাগে রয়েছে নিদারুণ অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা। যাদের জন্য বিষয়টি সামাল দেওয়া একেবারেই অসম্ভব।

এদিকে, কাঁচামালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার কারণে আগামী ছয় মাসে ব্যবহারযোগ্য থেরাপিউটিক খাদ্যের দাম ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যা ব্যয়ের বর্তমান মাত্রা বিবেচনায় জীবন রক্ষাকারী এই চিকিৎসা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা আরও ৬ লাখ বাড়িয়ে দিতে পারে। অপুষ্টির শিকার শিশুরা তাদের উচ্চতার তুলনায় খুব বেশি শীর্ণ হয়ে থাকে। তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে মৃত্যুঝুঁঁকিও তৈরি হয়।


 
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বে অপুষ্টির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যেখানে প্রতি ২২ জনের মধ্যে ১ জন শিশু অপুষ্টির শিকার। যা সাব-সাহারা আফ্রিকার তুলনায় তিনগুণ। অন্যদিকে বাকি বিশ্বের দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ হারে অপুষ্টির সম্মুখীন হচ্ছে। আফগানিস্তানে ১১ লাখ শিশু এই বছর কৃশকায়তার শিকার হতে পারে। যা ২০১৮ সালের প্রায় দ্বিগুণ। আবার আফ্রিকা অঞ্চলে অপুষ্ট শিশুর সংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়ে ১৭ লাখ থেকে ২০ লাখে পৌঁছতে পারে।

অপুষ্ট শিশুদের চিকিৎসায় প্রাপ্ত সহায়তা অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে রয়ে গেছে। যা আগামী বছরগুলোতে আরও কমবে। ২০২৮ সালের আগে প্রাক-মহামারী পর্যায়ে পুনরুদ্ধারের আশাও খুব ক্ষীণ। নতুন বিশ্লেষণ অনুসারে, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য খাত ওডিএর (অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স) মাত্র ২.৮ শতাংশ এবং মোট ওডিএর মাত্র ০.২ শতাংশ ব্যয় হয় অপুষ্টি শিশুদের চিকিৎসায়।

অপুষ্টিতে শিশুদের জীবনরক্ষায় ইউনিসেফ আহ্বান জানিয়ে বলেছে, অপুষ্টির শিকার বেশিরভাগ শিশু থাকা শীর্ষ ২৩টি দেশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতে সরকারগুলোকে ২০১৯ সালের ওডিএর চেয়ে অন্তত ৫৯ শতাংশ বেশি সহায়তা দিতে হবে।