ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২২, এপ্রিল ২০২১ ৩:২৮:৪৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের মাদক কমিশনের সদস্য নির্বাচিত লকডাউনে দরিদ্রদের জন্য সাড়ে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রধানমন্ত্রীর করোনায় মারা গেলেন কবি শঙ্খ ঘোষ ‘‌লকডাউন ধনীবান্ধব, দরিদ্রবান্ধব নয়’ খালেদা জিয়ার শরীরে ব্যথা নেই, ২-৩ দিন পর ফের পরীক্ষা

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিতিল: অন্য এক প্রীতিলতা

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৫:৩৩ পিএম, ১ মার্চ ২০২১ সোমবার

বীর মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল।  ফাইল ছবি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল। ফাইল ছবি।

একাত্তরের মার্চ। উত্তাল সারা বাংলাদেশ। দেশ স্বাধীনের জন্যে পাগলপ্রাণ বাঙালি। গোলা-বারুদের শব্দ আর গন্ধে দিশেহারা চারদিক। সুশিক্ষিত মুসলিম পরিবারের মেয়ে শিরিন খাকি শার্ট, ফুল প্যান্ট আর ক্যানভাসের জুতো পরে নেমে পড়েন সম্মুখ সমরে। পাবনা জেলাকে হায়েনার থাবা থেকে উদ্ধার করার শক্ত সাধনায় তিনি অস্ত্র হাতে তুলে নিলেন।

শিরিন বানু মিতিল, পাবনা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, বামপন্থী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা মহীয়সী এই নারীর জন্ম ১৯৫১ সালের ২ সেপ্টেম্বর পাবনা জেলায়। বাবা খোন্দকার শাহজাহান মোহাম্মদ ও মা সেলিনা বানু।

তার বাবা ছাত্রজীবন থেকে ও ১৯৫২ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মা পাবনা জেলার ন্যাপ সভানেত্রী, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের এমপি ছিলেন। মাতামহ খান বাহাদুর ওয়াসিমউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক আদর্শ মিতিলকে প্রভান্বিত করে। শৈশব-কৈশোর কালের সূচনা-সময় থেকেই শিরিন ব্যতিক্রমী সমাজসচেতন তথা রাজনৈতিক মুক্ত চেতনার আবহে বিকশিত হয়ে উঠেছিল। স্বভাবতই গভীর চিন্তা চেতনার প্রগাঢ় দেশপ্রেম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার বোধ দৃঢ়মূল হয়ে বিস্তার লাভ করে এই কিশোরীর মননে। আর দশটা বালিকা বা তরুণীর মতো ছক বাঁধা সহজ সরল সুখি জীবনের চিত্র শিরিন লালন করেনি। মাতামোহের বাড়িটি ছিল একসময় বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হবার ফলে নিজেও ছিলেন রাজনীতি সচেতন। ছোটবেলা থেকেই ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন তিনি। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়ন পাবনা জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। এছাড়াও ১৯৭০-১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন পাবনা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভানেত্রী।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে শিরিনের অংশগ্রহণের বিষয়টি ছিলো প্রায় অবধারিত। একজন মেয়ে মুক্তিযুদ্ধে যাবে! এই সঙ্কট দৃঢ়প্রতিজ্ঞ শিরিনকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুর কবলে। ঘরে বসে বা নিরাপদ আশ্রয় আবিষ্কার করার অতি স্বাভাবিক মন মানসিকতা এই লড়াকু দৃঢ়চেতা মেয়েটির নেই। মামাতো ভাই জিদানের উৎসাহ শিরিনকে আরও উদীপ্ত করে তোলে। সেদিন জিদান বলেছিলেন, ‘তুমি প্রীতিলতার মতো শার্ট প্যান্ট পরে যুদ্ধে যেতে পার।’

আর নিজের বড় খালা দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন ‘যুদ্ধে যাচ্ছ যাও। তবে তোমাদের পিঠে যেন গুলি না লাগে।’

এই কথাগুলো আত্মপ্রত্যয়ী মিতলের চেতনাকে উদ্বেল করে। এ সময় তার চেতনাজুড়ে ছিলো কিউবা, ভিয়েতনাম। তিনি যুদ্ধে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুত হন। তখন পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী তিনি।

সুশিক্ষিত মুসলিম পরিবারের মেয়ে শিরিন খাকি শার্ট, ফুল প্যান্ট আর ক্যানভাসের জুতো পরে নেমে পড়েন সম্মুখ সমরে। পাবনা জেলাকে হায়েনার থাবা থেকে উদ্ধার করার শক্ত সাধনায়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের সেই ভয়াল রাতে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো পাবনা জেলাও আক্রমণ করে পাকবাহিনী। সাধারণ মানুষের ওপর নেমে আসে অবর্ণনীয় অত্যাচার। ২৭ মার্চ পাবনার মুক্তিযোদ্ধারা পাল্টা আক্রমণ করে। ২৭ মার্চ পাবনা পুলিশলাইনে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় সেখানে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।

বীরকন্যা প্রীতিলতাকে অনুসরণ করে পুরুষের পোশাক পড়ে পুরুষবেশে যুদ্ধে যোগ দেন মিতিল। ২৭ মার্চ টেলিফোন এক্সচেঞ্জে ৩৬ পাকসেনার সঙ্গে জনতার এক তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেই যুদ্ধে তিনি ছিলেন একমাত্র নারী যোদ্ধা। এই যুদ্ধে ৩৬ পাকসেনা নিহত হয় এবং দুজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পরদিন পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধের কন্ট্রোল রুমের পুরো দায়-দায়িত্ব এসে পড়ে অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা শিরিনের ওপর। পাবনার প্রাথমিক প্রতিরোধ পর্ব চলছিল পঁচিশ মার্চ থেকেই। চলে নয় এপ্রিল নাগাদ। ৯ এপ্রিল নগরবাড়ীতে প্রচন্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সে সময় কন্ট্রোল রুমের পুরো দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

এর পরপরই ভারতের স্টেটসম্যান পত্রিকার সাংবাদিক মানব ঘোষ তার ছবিসহ পুরুষ সেজে যুদ্ধ করার খবরটি পত্রিকায় প্রকাশ করলে তার পক্ষে আর পুরুষ সেজে যুদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তার যুদ্ধ থেমে থাকেনি।

ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষৎকারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান এই যোদ্ধা। তিনি জানান, আটাশ মার্চ পাবনা শহরের জেল রোডে টেলিফোন ভবনে দখলদার ভবনে ছত্রিশজন পাকিস্তানী সেনার সঙ্গে যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পাক সেনাদের সবাই মারা পড়ে। দু’জন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। এভাবে খন্ড খন্ড যুদ্ধ চলতেই থাকে। তখন যুদ্ধ চলছিল নগরবাড়ি ঘাট, আতাইকুলা ও কাশীনাথপুরে। পাক হায়েনাদের আক্রমণ হয় আকাশ পথে। পাশের জেলা কুষ্টিয়ায় প্রতিরোধ ভেঙ্গে পড়ছে। তাদের বিভিন্ন দল পিছিয়ে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গার দিকে। পাবনার ছাত্রনেতা ইকবালের দলের একটি গাড়িতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মিতিল ও তার এক ভাই থেকে যায় কুষ্টিয়ায়। পরে কুষ্টিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার পথে ভারতের ‘স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সাংবাদিক মানস ঘোষ শিরিনের ছবিসহ সাক্ষাৎকার ছাপেন। ছবি ছাপা হওয়ার কারণে এরপর পুরুষের ছদ্মবেশে আর যুদ্ধ করার সুযোগ পাননি শিরিন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন একদিনের ঘটনা প্রবলভাবে আন্দোলিত করে শিরিনের মুক্তিকামী মন। তিনি জানান, আমি যখন কুষ্টিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গার দিকে যাচ্ছিলাম তখন একদিন গভীর রাতে আমাদের দলটিকে পথের মাঝে আটকানো হয়। মূলত ঐ অঞ্চলে পাকি সেনাদের প্রতিরোধ করতেই সতর্কতামূলক পাহারায় যারা ছিলেন তারা আমাদের পরিচয় জানতে চায়। আমরা পরিচয় দিলেও তারা প্রথমে বিশ্বাস করতে চাচ্ছিল না। কারণ আমাদের সঙ্গে যিনি আর আই ছিলেন তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের। ফলে তার ভাষার টানটা ছিল বিহারিদের মতো।...কিন্তু আমার পরিচয় জানার পরই দেখা গেল যে, তারা সবাই আমাকে ঘিরে ধরল। তাদের মধ্যে এক বৃদ্ধ পিতা আমার কাছে এগিয়ে এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, ‘মা আমরা আর ভয় করি না। আমাদের মেয়েরা যখন আমাদের সঙ্গে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে তখন বিজয় আমাদের হবেই।’...  

পরবর্তীতে পাবনা শহর পাকবাহিনী দখল করে নিলে বিশ এপ্রিল আরও প্রশিক্ষণের জন্য ভারত চলে যান শিরিন। নাচোল বিদ্রোহের স্বনাধন্য নেত্রী ইলা মিত্রের বাড়িতে বেশ কিছুদিন ছিলেন শিরিন। প্রথমে কয়েকজন বিশিষ্ট নারীর সঙ্গে মিলে বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে ঘুরে ঘুরে বিপর্যস্ত মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দল গঠন শুরু করেন। এ সময় নারীনেত্রী ইলা মিত্র বেশ কয়েকবার শিরিনের সঙ্গে নেতৃত্ব দেন। অবশেষে ছত্রিশজন নারী নিয়ে গোবরা ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এক পর্যায়ে সদস্য সংখ্যা তিন শ ছাড়িয়ে যায়। গোবরা ক্যাম্পে শিরিনও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কলকাতায় বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য দিতে থাকেন। অস্ত্রে সঙ্কটের কারণে নারীদের গ্রুপের হাতে অস্ত্র সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। যে কারণে দলের একটি অংশ আগরতলা যায় মেডিকেল কোরের সদস্য হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। বাকিরা বিভিন্ন এলাকায় ভাগ হয়ে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেয়।  

এ সময়  মেজর জলিলের নেতৃত্বে পরিচালিত ৯ নম্বর সেক্টরে যোগ দেন শিরিন। দুঃসাহসী এ মুক্তিযোদ্ধার অবদান ও সাহসিকতা সর্বজন স্বীকৃত।

ভারতে সাংবাদিক মানস ঘোষের লেখায় পরবর্তিতে শিরিন বানুর মুক্তিযুদ্ধেরকালীন কর্মকাণ্ডের কিছু স্বচ্ছ চিত্র উঠে আসে।

.মানস ঘোষ লেখেন.. ‘শিরিনকে আমার অসামান্য লেগেছিল। আমি যশোর, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহীর বিভিন্ন রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের খবর যোগাড় করতে গিয়ে প্রচুর মুক্তিযোদ্ধাকে দেখেছি। কিন্তু কোন তরুণী-নজরে পড়েনি। আমি রোজ অফিসের গাড়ি করে দর্শনা হয়ে চুয়াডাঙ্গা যেতাম। চুয়াডাঙ্গা ছিল মুক্তিযুদ্ধের পশ্চিমাঞ্চলের সদর দফতর। কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী ছিলেন ওই অঞ্চলের প্রধান। একদিন সেখানে গিয়ে দেখা হলো পাবনার ডিসি বা ডেপুটি কমিশনার নুরুল কাদের খানের সঙ্গে। তিনি ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তানের (সিএসপি) এক দুদান্ত আমলা।... তিনি বললেন, চুয়াডাঙ্গায় তিনি অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ নিতে এসেছেন। কেননা পাক বাহিনী পাল্টা আক্রমণের ছক কষে পাবনা পুনর্দখল করতে চাইছে।...অতঃপর একটা প্রায় অকেজো বাষ্পচালিত ইঞ্জিন যোগাড় করে তার সঙ্গে দুটা রেলের বগি জুড়ে দিয়ে স্তূপীকৃত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঈশ্বরদীর পথে পাড়ি জমালাম। সে ছিল রুদ্ধশ্বাস পরিক্রমা বা অভিজ্ঞতা।...

ভোর পাঁচটায় যখন ঈশ্বরদী পৌঁছি স্টেশনের দেখি প্রচুর মুক্তিযোদ্ধা।... তখনই আমার চোখ পড়ে শিরিনের ওপর। শারীরিকভাবে রফিকুল ইসলাম বকুল বা ইকবালের মতো বলিষ্ঠ মুক্তি সে নয়। বরং সে খুব শীর্ণ ও লাজুক প্রকৃতির। আমার কাছে এসে বলল, ‘নিশ্চয়ই খুব ক্লান্ত।’ আমার হাত থেকে প্রায় জোর করে এয়ার ব্যাগটা কেড়ে নিয়ে সে জিজ্ঞাসা করল, ‘দামী কিছুই নেই তো?’ উত্তর দেয়ার আগেই সে বলে ওঠে, ‘যুদ্ধের খবর করতে এত ঝুঁকি নিয়ে আমাদের পাবনায় এসেছেন। আমাদের মেহমানদারি করতে দিন।...’ ডিসি আমাদের বকুল, ইকবাল ও শিরিনের হাতে সঁপে দিয়ে কালেক্টরে চলে গেলেন।... পাবনা শহরে বিভিন্ন রণাঙ্গন দেখে কালেক্টরে পৌঁছেই দেখি ডিসি সাহেব উৎকণ্ঠায় তার চেম্বারে পাঁয়চারী করছেন।...’

মানস ঘোষের সঙ্গে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে শিরিনের উত্তরে এই সাংবাদিক তাজ্জব বনে যান। শিরিন বলেছিল, ‘এখনকার বাংলা মেয়েরা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ও কল্পনা দত্তের উত্তরসূরি। তারা আমাদের যে পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন সেই পথে আমরা চলতে অভ্যস্ত। বঙ্গবন্ধু ঠিকই বলেছেন, বাঙালীর জন্য পাকিস্তান হয়নি। সে জন্য শুধু আমি নই, আমার পুরো পরিবার মুক্তিযুদ্ধে লড়াই করছে।’

সে লড়াইয়ে জয়ী হলেন শিরিন বানু মিতিল। মুক্তিযোদ্ধাদের একাগ্রতার কাছে পাক বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হলো। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলো। বিজয়ীর বেশে ঘরে ফিরে গেলেন শিরিন।

দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ায় পড়তে যান শিরিন। সেখানকার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়ায় নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা শেষ করে ১৯৮০ সালে দেশে ফিরে আসেন। শিরিন চাইল্ড অব মাদার কেয়ার নামে একটি সেবাকেন্দ্রের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত ছিল। পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রিপ ট্রাস্টে।

মুক্ত, স্বাধীন দেশ চেয়েছিলেন, স্বশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছিলে। এর বাইরে আর কিছু চাওয়ার ছিলো না এই বীর নারীর। তারপর...২০১৬ সালের ২১ জুলাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই বীর যোদ্ধা। এ সময় তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৬৫ বছর।

শিরিন বানু মিতিল এই মহাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনন্য রোল মডেল। দেশপ্রেমী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবনভর শুধু লড়াইই করে গেছেন। অথচ মেলেনি কোন যোগ্য রাষ্ট্রীয় সম্মান। যা তার অবশ্যই প্রাপ্য ছিল। অবশ্য তিনি কখনো কিছু চাননি। তাই তো আমৃত্যু মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটটি তোলারও প্রয়োজন মনে করেননি।