ভরাট হচ্ছে মধুপুরের খাল-বিল, হারাচ্ছে দেশি মাছ
নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ১২:৩৮ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ শনিবার
সংগৃহীত ছবি
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও দখল-ভরাটের কারণে ঐতিহ্য হারাচ্ছে টাঙ্গাইলের মধুপুরের খাল-বিলগুলো। দেশীয় প্রজাতির মাছ থেকে শুরু করে জলজ নানা উদ্ভিদ শেওলাসহ বিভিন্ন প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে। বিপণ্ন হচ্ছে পরিবেশ। এর প্রভাবে সৌন্দর্যও বিলীন হচ্ছে। খাল-বিলের পুটকা-পানা হিজল-তমালের ডালে ডালে বাসা বেঁধে বাস করা পাখিরও আগের মতো দেখা মেলে না। শামুক ঝিনুক শাপলা ঢেফল শিঙগিরাসহ জলজ উদ্ভিদও হারাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও দখল ভরাটের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিল-ঝিল, নদী, জলাশয় খনন, ড্রেজিং করা, মৎস্য সম্পদ রক্ষার জন্য অভয়াশ্রম তৈরি, মা মাছ পোনাসহ মৎস্য আইন মেনে চলাসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধুপুর উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট বিলের সংখ্যা ৩৬টি। একমাত্র নদীর নাম বংশাই। মোট পুকুরের সংখ্যা ৪৪৪৬টি। খালের সংখ্যা ৫টি। মৎস্য জীবির সংখ্যা ১৬১৭ জন। মধুপুরে মাছের চাহিদা ৫ হাজার ৯৫০ মে.টন। মোট উৎপাদনের পরিমান ৫ হাজার ৬৪৭ দশমিক ৬৩ মে. টন। মৎস্য চাষীর সংখ্যা ৩৩৯৫ জন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মধুপুরের অন্যতম বড় দিঘির নাম সুতানালী দিঘি। এটি শোলাকুড়ি গ্রামে অবস্থিত। এ দিঘিতে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে মাছ চাষ করা হয়। মাটি-পানির গুনাগুণ ভালো থাকার কারণে মাছের স্বাদও বেশি। উপজেলার সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী একটি বিলের নাম হাওদা বিল। এটি কুড়াগাছা-অরণখোলা ইউনিয়নের মাঝ খান দিয়ে বয়ে গেছে। এ বিলের মাছের স্বাদ ও ঐতিহ্য রয়েছে পুরো টাঙ্গাইল জেলা জুড়ে। উত্তর-দক্ষিণ বরাবর এটি। খিরনদী এসে মিলিত হয়েছে এ বিলে। আবার এ বিল গোঁজা খাল হয়ে বংশাই নদীতে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে। এক সময় সারা বছর জুড়ে জল থাকতো এ বিলে। দেশীয় প্রজাতির নানা মাছে ছিল ভরপুর। বিলের নালায় চৈত্র মাসে পানি থাকার কারণে মা মাছগুলো ডিম পাড়া সুযোগ পেত। পুটকা-পানাসহ নানা জলজ উদ্ভিদে ছিল সজ্জিত। হিজল-তমাল গাছ ছিল। গাছে গাছে পাখিরা বসত। শীতকালে অতিথি পাখি আসে এ বিলে। বিলের দু’পাশে কাশফুলে ভরে যেতে। শুধু এ বিলেই নয় এমন পরিবেশ ছিল মধুপুরের বিলগুলোতে। এখন কালের পরিক্রমায় চাষাবাদ নালা ভরাট ধানচাষে কীটনাশক প্রয়োগসহ বিরূপ প্রভাবে ঐতিহ্য হারাচ্ছে এসব বিল-নদী-নালা ও খাল। এমনটাই জানালেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার হোসেন জানান, এবার জাল কিনে মাছ ধরতে পারছেন না। খাল বিলে পানি না আসায় মাছ কমে গেছে। সামান্য মাছ ধরে খাওয়া চলছে বলে জানান তিনি। আব্দুল বাছেদ জানান, আগে বর্ষাকালে বৃষ্টি নামলে জাল-জালি নিয়ে পানি নামার ড্রেনে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। তারা রাতেও মাছ ধরতেন। শিং, মাগুর, কই, ডারকিনা, পুঁটি, চাটার কোন কমতি ছিল না। শামছুল হক বলেন, এ বিলের মাছ হাট বাজারে নিয়ে গেলে চড়া দামে বেচা যেত। শিং, মাগুর, কই, টেংরা, পুঁটি, টাকি, বোয়ালসহ নানা ধরনের দেশি মাছ পাওয়া যেত। কার্তিক মাসে পানি কমলে বাওয়া উৎসব করা হতো। নৌকা বাইস হতো বর্ষাকালে এখন আর আগের সেই ঐতিহ্য নেই।
মোতালেব জানান, শীতকালে এসব বিলের মাছ দিয়ে যে কোন তরকারি রান্না করে রেখে দিলে চর্বি জমে থাকতো। মাটির গুণাগুণের কারণে মধুপুরের বিলের মাছগুলো তুলাহীন। এখন আর আগের সেই মাছ, জলজ উদ্ভিদসহ বিলগুলোর ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দাবি, মৎস্য সম্পদ রক্ষা, জলজ পরিবেশ, উদ্ভিদসহ খাল খনন, অভয়াশ্রম করা, খাল-নদী-বিলগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করা। মাছে-ভাতে বাঙিালির প্রিয় খাবার পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলে খাল-বিল ফিরে পাবে হারানো ঐতিহ্য। স্থানীয়রা পাবে দেশি মাছের সমাহার। অবৈধ জাল বন্ধ করতে পারলে মা ও পোনা মাছের যোগান বাড়বে। হবে পুষ্টির চাহিদা পূরণ।
এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা ও বন্যা হচ্ছে। এ সময়ে পানি কম থাকায় মা মাছ ডিম দিতে পারছে না। অবৈধ জালে মা মাছ ধরা পড়েছে। যে কারণে পোনা মাছ বাড়ছে না। বর্ষা না হওয়ায় খাল-বিলে আগের মতো পানি হচ্ছে না। তিনি জানান, অভিযান করেও বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধ জাল। এজন্য জনসচেতনতা প্রয়োজন। দেশীয় মাছ রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।
- ‘এখন আরও দ্বিগুণ উদ্যমে কাজ করছি’
- চ্যাম্পিয়ন সাবিনাদের জন্য ছাদখোলা বাস
- পুকুর পাড়ে হলুদ শাড়িতে ভাবনা
- ‘শৈশবে ফিরলেন’ নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটাররা
- নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়া অর্থনীতিতে সতর্ক সংকেত
- ইরান অভিমুখে আরও মার্কিন নৌবহর
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ
- বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে থানায় আশ্রয় নিলেন কনে
- রাউজানে নলকূপের গর্তে পড়া সেই শিশুকে মৃত ঘোষণা
- ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শত শত তদবির, আগে টাকা দিলেই কাজ হতো’
- কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
- আমলকির তেল কি চুল পড়া বন্ধ করে?
- এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে
- হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল
- কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান
- নারী, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিষয়ে ১০ দফা সুপারিশ
- ‘কিছুই পাল্টায়নি, এখনও মেয়েদের হেনস্তা করা হচ্ছে’
- সারা দেশে অবাধে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি
- ৩ দিন চলবে না মোটরসাইকেল, একদিন মাইক্রো-ট্রাক
- আয়রনের ঘাটতি, যে কারণে শুধু সাপ্লিমেন্ট যথেষ্ট নয়
- সাবস্ক্রিপশন পরীক্ষা করবে মেটা
- নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই: পাপিয়া
- মেয়েদের টানা জয়ের প্রভাব পড়েছে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে
- ঋতুপর্ণার হ্যাটট্রিকে ১৩-০ গোলের জয়
- দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘স্বর্ণের রাস্তা’
- ১৭ বছর বড় বড় গল্প শুনেছি: তারেক রহমান
- প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ
- ৪০ হাজার কোটির রাজস্ব হলেও ক্ষতি ৮৭ হাজার কোটি
- গণভোট নিয়ে কারিগরি-মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ৮ উদ্যোগ
- স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব ভাঙলেন সাইফ কন্যা


