ঢাকা, শুক্রবার ২৪, জুলাই ২০২৬ ১৯:১৩:৫৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
কে হতে পারেন নতুন রাষ্ট্রপতি? রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরছে যেসব নাম প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ ইস্যুতে বিকাল ৫টায় ব্রিফিং করবেন স্পিকার পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কারাগারের নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে এআই প্রযুক্তি দেশের বাজারে কমল সোনার দাম, ভরিতে কত কমলো ভারতে শিশুদের চেয়ে গরু বেশি নিরাপদ: মেহবুবা মুফতি সরকার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শত্রু মনে করছে: সোনিয়া গান্ধী উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি বৃষ্টিতে সরবরাহে ধাক্কা, সবজি-ডিম-মাছের বাজারে অস্বস্তি

ভাঙাচোরা সড়কে দুর্বিষহ অবস্থা, দুর্ভোগে নগরবাসী

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৩৭ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

বর্ষা মৌসুম এলেই রাজধানীর সড়ক যেন নতুন করে দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে ওঠে। কোথাও পিচ উঠে বড় বড় গর্ত, কোথাও চলমান উন্নয়নকাজ, আবার কোথাও জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকে সড়ক। ফলে প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসায়িক কাজে বের হওয়া লাখো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান সড়ক সংস্কার, বিভিন্ন সেবা সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি এবং টানা বৃষ্টির কারণে নগরজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মালিবাগ, কাকরাইল, শান্তিনগর, ধোলাইপাড়, দয়াগঞ্জ, জুরাইন ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়কে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় গর্তগুলো চোখে পড়ে না। এতে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে। গণপরিবহনও বাধ্য হয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের সড়কেও, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

মালিবাগ এলাকায় ফয়জুর রহমান আইডিয়াল স্কুলের পাশের সড়কে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ চললেও কাজের অগ্রগতি খুবই ধীর। প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, অফিসগামী মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, কাজের ধীরগতির কারণে প্রতিদিনই যানজট ও দুর্ভোগ বাড়ছে।

একই চিত্র কাকরাইল এলাকাতেও। ফুটপাত নির্মাণ, ড্রেন সংস্কার এবং বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়নকাজ একসঙ্গে চলায় পথচারী ও যানবাহন উভয়কেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কোথাও নির্মাণসামগ্রী পড়ে আছে, কোথাও খোঁড়া অংশ অস্থায়ীভাবে ভরাট করা হলেও বৃষ্টিতে তা আবার ধসে যাচ্ছে।

ধোলাইপাড় থেকে দয়াগঞ্জ, জুরাইন রেলগেট থেকে দয়াগঞ্জ এবং পুরান ঢাকার আরমানিটোলাসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কের অবস্থাও নাজুক। বড় বড় গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলাচল করায় প্রায় সারাদিনই যানজট লেগে থাকে। অনেক চালক বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রতিবছর যানবাহনের নিবন্ধন, ফিটনেস, রুট পারমিট, টোকেন ট্যাক্স, অগ্রিম আয়করসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারকে পরিশোধ করতে হলেও সেই অনুপাতে নিরাপদ ও টেকসই সড়কব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

মালিবাগের স্থায়ী বাসিন্দা নিয়াজ মোরশেদ বলেন, "একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা আর রাস্তা থাকে না। কোথায় গর্ত, কোথায় পানি—বোঝার উপায় থাকে না। প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়।"

রূপলাল দাস লেনের বাসিন্দা কাজী সাঈদ আহমেদ বলেন, "বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই যদি রাস্তার কাজ শেষ করা হতো, তাহলে এত দুর্ভোগ হতো না। এখন একই রাস্তা মাসের পর মাস খুঁড়ে রাখা হচ্ছে।"

বাসচালক মো. শাহ আলম বলেন, "ভাঙা রাস্তার কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোও সম্ভব হচ্ছে না।"

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, উন্নয়নকাজের আগে সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবই এ ধরনের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। একই সড়ক বারবার খোঁড়াখুঁড়ি, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং কার্যকর ড্রেনেজব্যবস্থার অভাবে প্রতিবছর বর্ষায় একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ প্রফেসর ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বর্ষা মৌসুমে উন্নয়নকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ পরিকল্পনা, বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা এবং দ্রুত কাজ শেষ করার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে নতুন রাস্তাও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়নকাজে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে, যাতে একই রাস্তা বারবার খুঁড়তে না হয়। সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে পারলে বারবার একই রাস্তা খোঁড়ার প্রয়োজন কমবে। 

তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে এবং নিম্নমানের কাজের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলে বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অবহেলিত ও জনদুর্ভোগ পূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। উন্নত সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে যান চলাচল সহজ হবে, জনদুর্ভোগ কমবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

এদিকে নগরবাসীর দাবি, উন্নয়নকাজ শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সড়ক সংস্কার শেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দূর করার স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় প্রতি বছরই রাজধানীবাসীকে একই দুর্ভোগের চক্রে ঘুরপাক খেতে হবে।