ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ১১:০৭:০৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
৪ অঞ্চলে‘অতি ভারী’বৃষ্টির পূর্বাভাস, চট্টগ্রামে ভূমিধসের শঙ্কা চারদিন পর বন্ধ হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে ফিফা ভারতে ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন বাড়ছে, আন্দোলনে সংসদ অচ জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার

ভুয়া জন্ম তারিখ দেখিয়ে বিয়ে আইন করেও বন্ধ করা যাচ্ছে না বাল্যবিয়ে

আপডেট: ০৪:৪০ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০১৩ শুক্রবার

01552601805_20130801043805স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : একাধিক আইন ও নীতিমালা থাকার পরও দেশে বেড়েই চলেছে বাল্যবিয়ে। মেয়ে সন্তানের স্কুল সার্টিফিকেটে বয়স বাড়িয়েও বিয়ে দেয়া হচ্ছে কিশোরীদের। বাল্যবিয়ের হারের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। অশিক্ষা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিভাবকদের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার কারণে কমানো যাচ্ছে না এই প্রবণতা। সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তি, অবৈতনিক শিক্ষা ও বিনা বেতনের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার পরও এই প্রবনতা কমছে না। আইন করে ১৮ বছরের নিচের মেয়েদের বিয়ে দেয়া দন্ডনীয় অপরাধ নিয়ম করা হলেও ঠেকানো যাচ্ছে না বাল্যবিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিকতার পরিবর্তন না হলে আইন করে কোন লাভ হবে না। অনুসন্ধানে জানা গেছে কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার জন্য মেয়েদের জন্মসনদে ভুয়া জন্ম তারিখ দেখানো হচ্ছে। এমন কি অভিভাবকরা কন্যা সন্তানের স্কুল সার্টিফিকেটেও বয়স বাড়িয়ে বিয়ে দিচ্ছেন কিশোরীদের। অনেক মেয়েরই স্কুলের জন্ম তারিখ এবং জন্মসনদ তারিখের হেরফের রয়েছে। গ্রামের স্কুলের ছাত্রীদের জন্মসনদে মিথ্যে তথ্য দিয়ে বয়স বাড়ানোর ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে বাল্যবিয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে। মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, আমাদের দেশে জন্মনিবন্ধন, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট আইন থাকলেও বাস্তবে তা গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করা হয় না। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন, রিসার্চ এন্ড ট্রেনিংয়ের (নিপোর্ট) এক তথ্য মতে, ১৮ বছর হওয়ার আগেই দেশের ৬৬ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়। গত দুই দশক ধরে এই হার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক এন্ড হেলথ সার্ভের সাম্প্রতিক তথ্য মতে, এ হার ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বর্তমানে মেয়েদের বিয়ের গড় বয়স সাড়ে ১৫ বছর। দেশে বর্তমানে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে বেশি। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর এক হিসাবে দেখা গেছে, দেশে মেয়েদের গড় বিয়ের বয়স ১৬ দশমিক ৯ বছর। ‘জাতীয় ক্যান্সার ইনষ্টিটিউট ও গবেষণা হাসপাতাল’এর তথ্যমতে, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন সত্ত্বেও দেশের ৭৫ শতাংশ মেয়ের কৈশোরেই বিয়ে হয়ে যায়। শতকরা ৪৫ ভাগ কিশোরী বিয়ের আইন সম্পর্কে কিছুই জানে না। মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার পেছনে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, দারিদ্রতা ও ফতোয়া। এছাড়া যৌন হয়রানী ও ইভটিজিংসহ নানা রকম সহিংসতার কারণেও বাল্য বিয়ে বাড়ছে। গ্রামের অভিভাবকরা নিত্যদিনের এসব সহিংসতার ভয়ে ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের মধ্যে বাল্যবিয়ের হার তিনগুণ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবম-দশম শ্রেণীতে ছাত্রীদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বস্তি ও গ্রামাঞ্চলে এখনও কমেনি। তাদের মতে, স্কুল থেকে ছাত্রী ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ বাল্যবিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে বাল্যবিয়ের কুফল দীর্ঘমেয়াদী। পরিস্থিতি উন্নয়নে রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব না হলেও পরিবর্তনের প্রাত্রয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। বাল্যবিয়ে সম্পর্কে মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, প্রচলিত আইনে বাল্যবিয়ে দন্ডনিয় অপরাধ। তবে তা নিষিদ্ধ নয় বলে সাধারণ জনগণ এ আইনটিকে গুরুত্ব দেয় না। তারপরও দরিদ্রতা, কুসংস্কার ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কারণে সমাজ থেকে আজও বাল্যবিয়ে বন্ধ করা যাচ্ছে না। ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার শতকরা ৬৬ ভাগ। একই বয়সের ছেলে শিশুর বিবাহের হার শতকরা ৫ ভাগ। ইউনিসেফ বলছে, বাল্যবিয়ের পরিনতি অপরিণত গর্ভধারণ ও মাতৃমৃত্যু। দেশের ২০ ভাগ বিবাহিত কিশোরী তাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে সন্তান ধারণ করতে বাধ্য হয়। ১৯ বছরের মধ্যে মা হয় শতকরা ৫৮ জন মেয়ে। শতকরা ৫০ ভাগ কিশোরী অপুষ্ঠিজনিত রোগ, ৭৫ ভাগ রক্তস্বল্পতা, ৪৭ ভাগ ভিটামিন বি’র অভাব ও ৩ ভাগ গলগন্ড রোগে ভোগে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০ বছর বয়সী ও তার উর্দ্ধের নারীদের তুলনায় ১৮ বছর বয়সের কম প্রসূতিদের মৃত্যুর সম্ভবনা ২ থেকে ৫ গুণ বেশি। বাল্যবিয়ে এবং অল্প বয়সে সন্তান ধারণের প্রবণতা পরিবর্তনে মেয়েদেরকে মাধ্যমিক শিক্ষা এবং গ্রামের মেয়েদের মধ্যে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কিশোরীদের মধ্যে বালবিয়ে বিরোধী প্রচারণা ব্যাপক করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের নির্বাহী পরিচালক নাসিমা আক্তার জলি বলেন, প্রথমত অবশ্যই অভিভাবকদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। বাল্যবিয়ের কারণে একটি মেয়ে তার পরের জীবনে কতটা ভুক্তভোগী হচ্ছে তা প্রতিটি মানুষের বোঝা দরকার। শিক্ষা ছাড়া এসব সমস্যার সমাধার করা কঠিন। সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জানিয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী বলেন, দেশে বাল্যবিয়ে কমাতে মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি, অবৈতনিক শিক্ষা এবং বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি কন্যাশিশুর মা-বাবাকে সচেতন হতে হবে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন আরও কঠিনভাবে প্রয়োগ করা যায় কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে। শুধু সরকার নয় সাধারণ মানুষসহ পুরো রাষ্টকেই এব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সচেতনতাই পারে বাল্যবিয়ে রোধ করতে।