ঢাকা, সোমবার ১০, মে ২০২১ ২:০০:১১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারছেন না দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ৫৬ মার্কেটে মানুষের ঢল, নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই একটা ঈদ বাড়িতে না করলে কী হয়: প্রধানমন্ত্রী ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েনের পরও ঘরমুখো মানুষের ঢল কাবুলে বিস্ফোরণে নিহত ৫৫ জনের অধিকাংশই ছাত্রী আজ মা দিবস, মাগো…ওগো দরদিনী মা

মুক্তিযুদ্ধে গোয়েন্দা ও সংবাদকর্মীর কাজ করেন রাজিয়া

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০১ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২১ রবিবার

মুক্তিযুদ্ধে গোয়েন্দা ও সংবাদকর্মীর কাজ করেন রাজিয়া

মুক্তিযুদ্ধে গোয়েন্দা ও সংবাদকর্মীর কাজ করেন রাজিয়া

বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজিয়া সরকার। নারীদের কর্মকান্ড যখন ছিল নানা বিধি-নিষেধের বেড়াজালে বাঁধা। সেই ১৯৬২ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও খাবার সরবরাহ এবং মূল ভূখন্ড থেকে তথ্য সরবরাহের কাজ করতেন রাজিয়া।

ঢাকার ঘোড়াশালে জন্ম রাজিয়া সরকারের৷ পিতা রইসুদ্দিন আহমেদ এবং মা জগত বেগম৷ তরুণ বয়স থেকেই বাম আদর্শে উজ্জীবিত রাজিয়া৷ ১৯৬০ সালে বৈবাহিক সূত্রে দিনাজপুর চলে যান৷

১৯৬২ সাল থেকে ভাসানী ন্যাপ করলেও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন৷ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে ঘিরে আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে ছিলেন তিনি৷ এছাড়া পূর্ববাংলা স্বাধীন করার জন্য মাওলানা ভাসানীর ডাক ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, পূর্ববাংলা স্বাধীন করো' এই স্লোগানে সাড়া দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন রাজিয়া৷

স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে কালিয়াগঞ্জ অঞ্চলে জুন মাস পর্যন্ত অবস্থান করেন তিনি৷ সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহায়তা করতেন এই সাহসী নারী৷ মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সংরক্ষণ ও খাবার সরবরাহ করতেন৷ তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে লুকিয়ে রেখে রাতের আঁধারে ভারতে পাঠাতেন প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য৷ রাজিয়ার এসব কর্মকাণ্ডের কথা জানার পর কেরোসিন ঢেলে তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয় পাকসেনা ও তাদের দোসররা৷ যুদ্ধ শেষে স্বাধীন দেশে ফিরে নিজের সাজানো-গোছানো সংসারের কিছুই পাননি রাজিয়া৷ এমনকি বাড়ির দরজা, জানালাও অবশিষ্ট ছিল না৷ ছিল শুধু ছাদ আর মেঝে৷.

কালিয়াগঞ্জে কর্মরত অবস্থায় রণকৌশল হিসেবে রাজিয়া এবং তার কলেজ শিক্ষক স্বামী যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও গাইবান্ধায় পাড়ি জমান৷ সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলেজে শিক্ষকতা চালিয়ে যেতে থাকেন রাজিয়ার স্বামী৷ সে সময় সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করতে পারতো না। তাই শিক্ষকের ভূমিকায় শহরে বাস করে পাকসেনাদের গতিবিধি এবং যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সরবরাহ করা ছিল রাজিয়া ও তার স্বামীর মূল কাজ৷ একদিকে গোয়েন্দাগিরি এবং অন্যদিকে সংবাদকর্মীর দায়িত্ব পালন করতেন রাজিয়া এবং তার স্বামী৷

এই ভয়ংকর গোপনীয় কাজের জন্য রাজিয়া সরকার ও তার স্বামী জুন মাসের শেষের দিকে সপরিবারে গাইবান্ধা চলে যান৷ সেখান থেকে প্রতিদিন সারাদিনের খবরা খবর তারা চিঠিতে কিংবা কোন কাগজের টুকরায় লিখে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে আসতেন৷ মুক্তিযোদ্ধারা এসে তাদের সুবিধামতো সময়ে তা নিয়ে যেতো৷ আবার তারাও তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানার জন্য কাগজে লিখে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে যেতো। রাজিয়ারা সেখান থেকে নিয়ে আসতেন এবং সেগুলোর জবাব দিতেন৷

মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও দেশ ও জাতির কাজে নিবেদিত রয়েছেন রাজিয়া সরকার৷ মহিলা পরিষদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে কাজ করছেন তিনি৷