ঢাকা, শনিবার ৩১, জুলাই ২০২১ ২১:৪৭:৫০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
লকডাউনে আটকেপড়া পোশাক শ্রমিকরা চাকরি হারাবে না দেশে একদিনে করোনায় ২১৮ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৯৩৬৯ ডেল্টার নতুন ধরনে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম শিল্পকারখানা খোলার খবরে ঢাকামুখী মানুষের ঢল হেলেনার বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় আরেক মামলা

মুক্তিযুদ্ধে গোয়েন্দা ও সংবাদকর্মীর কাজ করেন রাজিয়া

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০১ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২১ রবিবার

মুক্তিযুদ্ধে গোয়েন্দা ও সংবাদকর্মীর কাজ করেন রাজিয়া

মুক্তিযুদ্ধে গোয়েন্দা ও সংবাদকর্মীর কাজ করেন রাজিয়া

বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজিয়া সরকার। নারীদের কর্মকান্ড যখন ছিল নানা বিধি-নিষেধের বেড়াজালে বাঁধা। সেই ১৯৬২ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও খাবার সরবরাহ এবং মূল ভূখন্ড থেকে তথ্য সরবরাহের কাজ করতেন রাজিয়া।

ঢাকার ঘোড়াশালে জন্ম রাজিয়া সরকারের৷ পিতা রইসুদ্দিন আহমেদ এবং মা জগত বেগম৷ তরুণ বয়স থেকেই বাম আদর্শে উজ্জীবিত রাজিয়া৷ ১৯৬০ সালে বৈবাহিক সূত্রে দিনাজপুর চলে যান৷

১৯৬২ সাল থেকে ভাসানী ন্যাপ করলেও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন৷ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে ঘিরে আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে ছিলেন তিনি৷ এছাড়া পূর্ববাংলা স্বাধীন করার জন্য মাওলানা ভাসানীর ডাক ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, পূর্ববাংলা স্বাধীন করো' এই স্লোগানে সাড়া দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন রাজিয়া৷

স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে কালিয়াগঞ্জ অঞ্চলে জুন মাস পর্যন্ত অবস্থান করেন তিনি৷ সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহায়তা করতেন এই সাহসী নারী৷ মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সংরক্ষণ ও খাবার সরবরাহ করতেন৷ তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে লুকিয়ে রেখে রাতের আঁধারে ভারতে পাঠাতেন প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য৷ রাজিয়ার এসব কর্মকাণ্ডের কথা জানার পর কেরোসিন ঢেলে তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয় পাকসেনা ও তাদের দোসররা৷ যুদ্ধ শেষে স্বাধীন দেশে ফিরে নিজের সাজানো-গোছানো সংসারের কিছুই পাননি রাজিয়া৷ এমনকি বাড়ির দরজা, জানালাও অবশিষ্ট ছিল না৷ ছিল শুধু ছাদ আর মেঝে৷.

কালিয়াগঞ্জে কর্মরত অবস্থায় রণকৌশল হিসেবে রাজিয়া এবং তার কলেজ শিক্ষক স্বামী যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও গাইবান্ধায় পাড়ি জমান৷ সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলেজে শিক্ষকতা চালিয়ে যেতে থাকেন রাজিয়ার স্বামী৷ সে সময় সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করতে পারতো না। তাই শিক্ষকের ভূমিকায় শহরে বাস করে পাকসেনাদের গতিবিধি এবং যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সরবরাহ করা ছিল রাজিয়া ও তার স্বামীর মূল কাজ৷ একদিকে গোয়েন্দাগিরি এবং অন্যদিকে সংবাদকর্মীর দায়িত্ব পালন করতেন রাজিয়া এবং তার স্বামী৷

এই ভয়ংকর গোপনীয় কাজের জন্য রাজিয়া সরকার ও তার স্বামী জুন মাসের শেষের দিকে সপরিবারে গাইবান্ধা চলে যান৷ সেখান থেকে প্রতিদিন সারাদিনের খবরা খবর তারা চিঠিতে কিংবা কোন কাগজের টুকরায় লিখে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে আসতেন৷ মুক্তিযোদ্ধারা এসে তাদের সুবিধামতো সময়ে তা নিয়ে যেতো৷ আবার তারাও তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানার জন্য কাগজে লিখে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে যেতো। রাজিয়ারা সেখান থেকে নিয়ে আসতেন এবং সেগুলোর জবাব দিতেন৷

মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও দেশ ও জাতির কাজে নিবেদিত রয়েছেন রাজিয়া সরকার৷ মহিলা পরিষদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে কাজ করছেন তিনি৷