ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ১৮:৪৪:৪৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

যৌতুকের কারণে নির্যাতন বেড়েছে

আপডেট: ১০:৪৬ এএম, ৩ নভেম্বর ২০১৪ সোমবার

প্রতুল মাঝি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : দেশে যৌতুকের কারণে নারী নির্যাতনের হার বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। গত এক বছরে প্রায় ১শ নারী যৌতুকের দাবি না মেটাতে পেরে প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক নির্যাতনের অন্যতম কারণ যৌতুক। প্রতিনিয়ত দেশের অনেক মেয়েই যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, প্রাণ দিচ্ছে অসহায়ভাবে। দেশে যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০ (সংশোধিত) থাকলেও তা মূলত কাজে আসছে না। images (1) সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পারিবারিক নির্যাতনের বিভিন্ন কারণের মধ্যে অন্যতম যৌতুক। এ কারণে দেশে বর্তমানে পারিবারিক নির্যাতনের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এই নির্যাতনে প্রতি বছর অসংখ্য নারীর মৃত্যু ঘটছে। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে বহু নারী দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা বিকশিত বাংলাদেশ’এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক বছরে ১ হাজার ১০৯টি নির্যাতনের ঘটনায় ৭শ ৭২জন নারী নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১শ জনের মৃত্যু ঘটেছে যৌতুকের কারণে। ব্যুরো অব হিউম্যান রাইটস বাংলাদেশ ১ হাজার ১২০জন নির্যাতিতা নারীর আতœহত্যার ঘটনা রেকর্ড করেছে। এই আত্নহত্যার অধিকাংশই ঘটেছে যৌতুকের জন্য নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে। মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা (মানবাধিকা) জানিয়েছে, গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে যৌতুকের বলি হয়েছে কমপক্ষে ৬০ নারী। মারাত্নক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৫ জনের বেশি নারী। যৌতুকের ওপর ইউএনডিপি’র গত ১০ বছরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যৌতুকের কারণে বাংলাদেশের বিবাহিত নারীর শতকরা ৫০জন মানসিক বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার বলছে, দেশে গত ৩ বছরে যৌতুকের কারণে প্রাণ হারিয়েছে ৫৭৫ জন নারী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন গবেষণায় যৌতুকের কারণে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। অথচ বাংলাদেশের প্রায় ৮৩ শতাংশ নারীই যৌতুকের আইন সম্পর্কে কিছুই জানে না। দেশের উপকূলীয় এলাকায় নারী অধিকার বিষয়ক গবেষণায় সাউথ এশিয়ান পার্টনারশীপ (স্যাপ) দেখিয়েছে, যৌতুক নিরোধ আইন ও নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ওই এলাকায় কার্যকর নয়। এই আইন উপকূলীয় এলাকার নারীদের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারেনি। যৌতুকের দাবি মেটাতে দরিদ্র্য পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়লেও নির্যাতনের মাত্রা কমে না। সমীক্ষার আওতায় পাত্রপক্ষের দাবির মুখে যৌতুক প্রদানকারী ৫৭ ভাগ পরিবারের মধ্যে ৫৮ ভাগ পরিবার যৌতুকের দাবি মেটাতে গিয়ে তাদের সামান্য আবাদযোগ্য জমি বিক্রি বা বন্ধক রেখেছে। ২৪ শতাংশ পরিবার হালের গরু, দুধের গাভি, ছাগল অথবা অন্যান্য গৃপালিত পশু বা সম্পদ বিক্রি করেছে। ১১ শতাংশ পরিবার নতুনভাবে ঋণের জালে আবদ্ধ হয়েছে। এরপরও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে যৌতুকের কারণে নারীর প্রতি সহিংস ঘটনা ঘটছে শতকরা ৯৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌতুক, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ, তালাকসহ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগ নেই। এসব আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষ সচেতন নয়। আইন প্রয়োগকারী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী ও দরিদ্র মানুষের প্রবেশাধিকার নেই। ইউনিয়ন পরিষদ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেনা। এগুলো নারী নির্যাতন প্রতিরোধের অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট সালমা আলী বলেন, যৌতুকবিরোধী আইনগুলো সম্পর্কে জনসাধারণ সচেতন নয়। এবিষয়ে তাদের সচেতন করে তোলা জরুরি। যৌতুকের প্রবণতা প্রতিরোধে পুরুষদের এগিয়ে আসতে হবে। সমাজের সকল স্তরের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকলেও আমাদের দেশে নেই। আমাদের দেশে আইন হয়, কিন্তু তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পরে। বর্তমানে দেশে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ভয়াবহভাবে বেড়েছে। দেশের দরিদ্র পরিবারে শুধু নয়, যৌতুকের কারণে পারিবারিক নির্যাতন ছড়িয়ে পড়েছে শহরের বিত্তবানদের গন্ডিতেও। এ নির্যাতন প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে রাষ্ট্রসহ সকলকে।

০৩.১১.২০১৪