ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ১৩:১৯:৫৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
উত্তাল দিল্লি, বিশেষ ঘোষণা মোদির টানা বৃষ্টিতে তছনছ কৃষি-অর্থনীতি ৪ অঞ্চলে‘অতি ভারী’বৃষ্টির পূর্বাভাস, চট্টগ্রামে ভূমিধসের শঙ্কা চারদিন পর বন্ধ হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে ফিফা

রাজনৈতিক কর্মকান্ডে শিশু: বিপন্ন শৈশব

আপডেট: ০৮:১৭ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ শুক্রবার

সোমা দেব, উইমেননিউজ করসপন্ডেন্ট : মিছিল, সমাবেশ, পিকেটিংসহ রাজনৈতিক কর্মকান্ডগুলোতে অনৈতিকভাবে শিশুদের ব্যবহার বেড়েছে। জাতীয় শিশুনীতিতে এধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও কেবলমাত্র দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে।  শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশেই এধরনের কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। শিশুরা লাঠিসোটা এমনকি বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নেমে পড়ছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শিশুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য তাদের টাRazniti O Shishu_01কা, খাবার দিয়ে প্রলুব্ধ করা হয়। গরিব ও ছিন্নমূল শিশুদের এসব কাজে সহজেই ব্যবহার করা হয়। মানবাধিকারকর্মী ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, গরিব ও ছিন্নমূল শিশুদের এই ভয়ঙ্কর কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ও বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার করবে না। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও এ কথা উল্লেখ রয়েছে। অথচ দুটি দলেরই রাজনৈতিক মানববন্ধন, সমাবেশ এবং হরতালের পিকেটিংয়ে শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে অহরহ। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতায় শিশুদের ব্যবহার করেছে। সম্প্রতি রাজধানীতে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে ব্যাপকহারে শিশুদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভা শিশু আইন ২০১৩-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে। এতেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহারের বিরোধিতা করা হয়েছে। শিশু আইনে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহারের শাস্তি হিসেবে পাঁচ বছরের জেল ও এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে বলে সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইয়া। তিনি জানান, এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা, ভোগান্তি সৃষ্টি বা শিশুর অঙ্গহানি হয়। এ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুকে শোষণ এবং শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তিতে উৎসাহিত করা হলে তাও অপরাধের আওতায় আসবে। তিনি আরও জানান, এই আইনের আওতায় শিশুর কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় জেলা পর্যায়ে শিশু আদালতও স্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিচ্ছে, এটা চরম লজ্জাজনক। এটা শুধু দেশের প্রচলিত আইনকেই অবজ্ঞা করা নয়, মানবতার বিরুদ্ধেও একটি অপরাধ। এতে শিশুরা তাদের শৈশব হারায়, তাদের অপরাধপ্রবণতা বাড়ে। তিনি আরও বলেন, যে দলগুলো শিশুদের ব্যবহার করছে, তাদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। এ থেকে উত্তরণ করতে হলে সর্বপ্রথম রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আত্মোপলদ্ধি ঘটাতে হবে। দলগুলোকে সচেতন হতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রকে এই অপরাধ চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহারকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে খুব খারাপ স্বার্থে শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। অনেক এলাকায় সহিংসতায় শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে রাজনৈতিক কাজে শিশুদের ব্যবহারকে তিনি সংবিধান, আন্তর্জাতিক শিশু সনদ এবং জাতীয় শিশুনীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরীন বলেন, সাধারণত ছিন্নমূল শিশুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। শিশুকে রাজনীতিতে ব্যবহারের ফলে যেমন তার সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ হয় না, তেমনি এতে তার স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠাও বাধাগ্রস্ত হয়। রাজনৈতিক সহিংসতায় সরাসরি অংশ নিলে তার আচরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা সারা জীবনে শিশুর বিকাশে অন্তরায় হয়ে দেখা দেয়। তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে ব্যবহারের ফলে শিশু আর শিশুসুলভ আচরণ করে না। আচরণে এক ধরনের উন্মাদনা দেখা দেয়। শিশুরা বারবার রাজনৈতিক কাজে অংশ নিলে এক ধরনের অভ্যস্ততা তৈরি হয়। সব মিলে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার শিশুর মনস্তাত্ত্বিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। শব্দ : ৪৯৯