ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:২২:৫৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পোস্টাল ভোট: ১৪৮ দেশে নিবন্ধন, সৌদি আরব শীর্ষে এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই: প্রধান উপদেষ্টা ‘ডেইরি ফার্ম জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত’

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হেলেনা : একাত্তরের আকাশে তারকা

শিহাব শাহীন | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৮:০৮ পিএম, ২৯ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার

স্বাধীনতার জন্য কত মানুষকে যে জীবন দিতে হয়েছে, কত পরিবারকে যে কতভাবে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, যার রেস এখনো সে সব পরিবারে চলছে, তার কতুটুকুই বা আমরা জানি! ১৯৭১ সালে পবিত্র শবে বরাতের রাতে পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের বীভৎসতায় নিহত মাগুড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লুৎফুন নাহার হেলেনা তেমনি একজন।


একাত্তরের ৫ অক্টোবর দিনে রাজাকাররা হেলেনাকে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার এক গ্রাম থেকে শিশুপুত্রসহ আটক করে। পরে তাকে মাগুরা শহরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তানি সেনারা তাকে হত্যার পর তার মৃতদেহ জিপের পেছনে বেঁধে টেনে নিয়ে শহরের অদূরে নবগঙ্গা নদীর ডাইভারশন ক্যানেলে। পরে তার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ সেখানে ফেলে দেয়।


বীভৎস এ ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায় তার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা আলী কদরের লেখায়। তিনি লিখেছেন, ‘হেলেনের মৃত্যুঘটনা ছিল করুণ ও মর্মান্তিক। মহম্মদপুর থানার এক গ্রামে অবস্থানকালে রাজাকার ও ঘাতক দালালদের গুপ্তচরের সহায়তায় হেলেন ২ বছর ৫ মাস বয়সের শিশু পুত্র দিলীরসহ রাজাকারদের হাতে ধরা পড়ে। তাকে তারা সরাসরি নিয়ে যায় মাগুরা শহরে। এরপর পাকিস্থান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে তাকে সোপর্দ করা হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

 

হেলেনের এ অবস্থায় তার বৃদ্ধ বাবা ও কয়েকজন আত্মীয় দুধের শিশুর মা হেলেনের মুক্তির জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু শত অনুরোধ সত্ত্বেও জামাতপন্থি ঘাতক দালালরা তার মুক্তির ব্যাপারে সব চাইতে বেশি বাধা সৃষ্টি করে। তারা পাকবাহিনীর কর্মকর্তাকে জানায়, হেলেনা মাগুরার বামপন্থি নেতা মাহফুজুল হকের বোন এবং মহম্মদপুর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের বাহিনী প্রধান বামপন্থি নেতা আলী কদরের স্ত্রী। সুতরাং তার মুক্তির প্রশ্নই ওঠে না।


লুৎফুন নাহার হেলেনা ’হেলেন’ নামেও পরিচিত ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের মাগুরার আঞ্চলিক শাখার নেত্রী এবং মাগুরা কলেজের ছাত্রী সংসদের মহিলা কমনরুম সম্পাদিকা ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাগুরা শহর থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের কর্মসূচির সংবাদ জেনে তার স্বামীর কাছে পাঠাতেন। সেপ্টেম্বরে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের কাজ করার জন্য মহম্মদপুর এলাকায় যান তিনি। সেখানে নারীদের বিশেষত ভূমিহীন গরিব কৃষক পরিবারের নারীদের অনুপ্রাণিত করেন। পাশাপাশি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়া-দাওয়া, দেখাশোনা ও অসুস্থদের সেবাযত্নে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন।


লুৎফুন নাহার হেলেনার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর মাগুরা শহরে। বাবা মুহাম্মদ ফজলুল হক। মা মোসাম্মৎ ছফুরা খাতুন। তারা ছিলেন পাঁচ ভাই ও নয় বোন। বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ। মেধাবী ছাত্রী হেলেন বাবার হাত ধরে বই পড়ার অভ্যেস পান। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের বই পড়ে তার জ্ঞান ও চেতনার বিকাশ ঘটে। ১৯৬৮ সালে বিএ পাস করে মাগুরা গার্লস হাইস্কুলে (বর্তমানে সরকারি গার্লস হাইস্কুল) সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি মাগুরার বাম রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।


স্যালুট ও ভালবাসা অফুরান।

তথ্য সংগ্রহ : স্মৃতিঃ ১৯৭১, অষ্টম খণ্ড, প্রথম প্রকাশ ১৯৯৫, সম্পাদনা রশীদ হায়দার।