ঢাকা, শনিবার ০৮, আগস্ট ২০২৬ ১১:৫৩:০০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বলাকা লাউঞ্জে আগুন সয়াবিন তেলের সংকট, বাড়ছে পোলাও চালের দাম ‘জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি’, মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা খুলনায় ধর্ষণ মামলায় দু’জনের যাবজ্জীবন বগুড়ায় গাড়ির ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

সবুজ পাতায় সুস্বাস্থ্যের ভাণ্ডার, কচুশাকের যত গুণ

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০১ পিএম, ৭ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

বাংলার রান্নাঘরে কচুশাকের কদর বহু দিনের। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এটি জনপ্রিয় একটি শাক। ভাতের সঙ্গে কচুশাক ভাজি, চিংড়ি দিয়ে কচুশাক কিংবা ডাল-কচুশাকের স্বাদ যেমন অতুলনীয়, তেমনি পুষ্টিগুণেও এটি সমৃদ্ধ। অনেকেই শুধু স্বাদের জন্য কচুশাক খান, কিন্তু এই শাক যে শরীরের জন্য কতটা উপকারী, সে সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা নেই।

ভিটামিন ও খনিজের দারুণ উৎস

কচুশাকে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফলেট, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রন। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, হাড় মজবুত রাখতে এবং রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

চোখের সুস্থতায় উপকারী

কচুশাকে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। এটি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং রাতকানা বা চোখের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস চোখের সার্বিক সুস্থতার জন্যও উপকারী।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়

ভিটামিন সি ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ কচুশাক শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এসব উপাদান শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে রক্ষা করতেও ভূমিকা রাখে।

রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়ক

আয়রন ও ফলেটসমৃদ্ধ হওয়ায় কচুশাক রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। বিশেষ করে নারী, কিশোরী এবং বেড়ে ওঠা শিশুদের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে কচুশাক রাখা উপকারী হতে পারে।

হাড় ও দাঁতের যত্নে

ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন কে হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

হজমে সহায়ক

কচুশাকে রয়েছে পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ। এই আঁশ হজমে সহায়তা করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে ভূমিকা রাখে। যারা কম আঁশযুক্ত খাবার খান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো খাদ্য হতে পারে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

কচুশাকে থাকা পটাশিয়াম শরীরের সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলতে পারে। পাশাপাশি আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

কচুশাকে ক্যালরি কম, কিন্তু আঁশ বেশি। ফলে এটি খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি থাকে। যারা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে চান বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য কচুশাক হতে পারে ভালো একটি খাবার।

রান্নায় কিছু সতর্কতা

কচুশাকে প্রাকৃতিকভাবে ক্যালসিয়াম অক্সালেট নামের স্ফটিকজাতীয় উপাদান থাকে, যা ঠিকমতো রান্না না করলে গলা বা জিহ্বায় চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে। তাই কচুশাক ভালোভাবে ধুয়ে পর্যাপ্ত সময় ধরে রান্না করা উচিত। অনেকে রান্নায় লেবুর রস, তেঁতুল বা সামান্য টক উপাদান ব্যবহার করেন, যা চুলকানির প্রবণতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সুস্বাদের সঙ্গে সুস্বাস্থ্য

চিংড়ি, ইলিশের মাথা, শুঁটকি, ডাল কিংবা শুধু রসুন-শুকনা মরিচ দিয়ে ভাজি—যেভাবেই রান্না করা হোক না কেন, কচুশাক বাঙালির রসনায় আলাদা স্থান দখল করে আছে। স্বাদের পাশাপাশি এর পুষ্টিগুণও একে করে তুলেছে একটি মূল্যবান দেশীয় সবজি।

প্রকৃতির সহজলভ্য এই সবুজ শাকটি শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার নয়, বরং পুষ্টির এক অনন্য ভাণ্ডার। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কচুশাক খেলে শরীর পেতে পারে নানা প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশ। তাই মৌসুমি সবজির তালিকায় কচুশাককে গুরুত্ব দিলে স্বাদ ও স্বাস্থ্য—দুই-ই মিলবে একসঙ্গে।