ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ১:৩৬:৫৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সারা দেশে অবাধে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ নিবন্ধন নারী, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিষয়ে ১০ দফা সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ ইরানের পরিস্থিতি খারাপ হলে কঠোর হবে তুরস্ক

সহজে কাটছে না এলপিজি সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:০০ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রান্নার লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকট এ জানুয়ারিতেও কাটছে না। এমনকি বড় উদ্যোগ না নিলে আগামী মাসের শুরুতেও এলপিজি নিয়ে বিপাকে পড়তে পারে সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে এলপিজির চাহিদা ১ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি হলেও এখন পর্যন্ত আমদানি নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে ১ লাখ ২০ হাজার টন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, চাহিদার বাকি এলপিজি আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। এজন্য তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছে সরকার।

এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিরুল হক শনিবার বলেছেন, রান্নার গ্যাসের সংকট কবে কাটবে তা বলা কঠিন। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে সবাই আমদানির চেষ্টা করছেন। কিন্তু জাহাজ ভাড়াসহ বিভিন্ন সমস্যা আছে। সংকট কাটাতে সরকার সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ফিলিপাইনের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে এলপিজি আমদানি কিছুটা সময় সাপেক্ষ। জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম বলেছেন, সরকারিভাবে ১ লাখ টনের এলপিজি আনার চেষ্টা হবে। কিন্তু সেই এলপিজি আসতে মার্চে লেগে যেতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবকিছু মিলিয়ে এলপিজির সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন।

বাজারে এখনো সহজে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। পেলেও ১৩০৫ টাকার এলপিজি কিনতে হচ্ছে ২৩০০ থেকে ২৬০০ টাকা দামে। এলপিজির বাড়তি দামে এখন নিু এবং মধ্যবিত্তের খরচের হিসাব বেশ বেড়েছে। অনেকে এলপিজির বিকল্প হিসাবে ইলেকট্রিক বা মাটির চুলা ব্যবহার করছেন।

মূলত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে উদাসীনতা এবং ইরানের অভ্যন্তরে বিক্ষোভের কারণে সংকট ঘনীভূত হয়েছে। ফলে সংকট কবে কাটবে কেউ বলতে পারছেন না।

বিইআরসি জানায়, ২০২৪ সালে এলপিজি আমদানি হয়েছে ১৬ লাখ ১০ হাজার টন। কিন্তু ২০২৫ সালে কমে হয়েছে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন। অথচ এ সময়ে পাইপলাইনে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে এলপিজির ব্যবহার অনেক বেড়েছে শিল্প খাতে।

এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশের (লোটাব) হিসাবে শিল্পে এলপিজি ব্যবহার হয় মোট চাহিদার ৩০ শতাংশ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর বেক্সিমকোসহ ৫ বড় কোম্পানি এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক তাদের এলসি করতে দিচ্ছে না। অথচ এ ৫ কোম্পানির এলপিজি চাহিদা অন্য কোম্পানি আমদানি করতে পারেনি। এছাড়া চীনসহ বিভিন্ন দেশ ইরান থেকে এলপিজি আমদানি করত। ইরানে গত এক মাস টানা বিক্ষোভে চীন ওই এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। তাই চীন স্পট মার্কেট থেকে এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ কিছুটা বিপাকে পড়ে। এর বাইরে ইরানের গ্যাস পরিবহণের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২২ জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যার কারণে এখন জাহাজ সংকটও আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মূল সমস্যা হচ্ছে ছোট জাহাজে এলপিজি আমদানি। বিইআরসির চেয়ারম্যান জানান, চীনসহ বিভিন্ন দেশ বিক্রেতার কাছ থেকে একসঙ্গে ১ লাখ টনের জাহাজে এলপিজি কিনে নিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা চাইছেন ১০ থেকে ২০ হাজার টন। এখানে বিক্রেতারা বড় ক্রেতাদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহে এলপিজি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এমন কি যারা এলপিজি আনতে পারছে না সেই ৫ কোম্পানির সঙ্গেও। আজও তাদের অনেকের সঙ্গে বৈঠক আছে। সরকার এলপিজি সংকট কাটাতে সব চেষ্টা করছে।

যমুনা এলপিজির পরিচালক ইয়াসির আরাফাত জানান, সরকার এলপিজিকে গ্রিন এনার্জি হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এজন্য ব্যাংক থেকে যে ধরনের সহায়তা পাওয়ার কথা সেটি পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির সংকট আছে। বেঙ্গল এলপিজির পরিচালক ফিরোজ আলম জানান, এলপিজির সরবরাহকারী অর্ডার নিয়ে সরবরাহ দিতে পারছে না। যার কারণে চলতি মাসে তারা কোনো এলপিজি বটলিং করতে পারেননি।

বিএম এনার্জির মহাব্যবস্থাপক অলক কুমার পন্ডিত বলেন, দুবাই থেকে এলপিজি কিনতে অনেক আগে এলসি করা হয়েছে। এখন সরবরাহকারী কবে এলপিজি জাহাজে লোড করতে পারবে তার তারিখ দিচ্ছে না। তবে বিএম এনার্জি মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এলপিজি কিনে রেখেছে আগে থেকে। সেগুলো দিয়ে পুরোদমে এখন সিলিন্ডার বটলিং করছে বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিমাসে এখন এলপিজির চাহিদা দেড় লাখ টন থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমদানি নিশ্চিত করা গেছে ১ লাখ ২০ হাজার টনের মতো। আমদানির কাগজপত্র সব সংগ্রহ করে বিইআরসি জ্বালানি বিভাগে পাঠিয়েছে। চাহিদার বাকি এলপিজি নিয়ে চিন্তিত সরকার। এ জন্য সরকার টু সরকার (জিটুজি) অর্থাৎ দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এলপিজি আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফিলিপাইন সরকারের সঙ্গে আলাপ করে ৮-১০ দিনে এলপিজি আনার চিন্তা করছে সরকার। বাংলাদেশ-ফিলিপাইন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, দ্রুত এলপিজি আমদানি না হলে দেশে এর সংকট কাটবে না। এজন্য ফিলিপাইন থেকে কয়েক হাজার টন এলপিজি আমদানি করে পরিস্থিতি সমাল দেওয়া যায়। এ পরামর্শ তারা সরকারকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফিলিপাইনের কয়েক হাজার দ্বীপ আছে। সেগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ১ লাখ টনের বেশি এলপিজি মজুত আছে। বাংলাদেশ দূতাবাস বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফিলিপাইন সরকারকে অনুরোধ করলে ৮-১০ দিনের মধ্যে কয়েক হাজার টন এলপিজি পাওয়া সম্ভব।

এদিকে, আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, জাহাজ সংকটের কারণে পরিবহণ ভাড়া বেড়েছে। আগে প্রতি টন এলপিজির জাহাজ ভাড়া ১১০ ডলারে করা গেলেও এখন ১৮০ ডলার পর্যন্ত নিচ্ছে। কিন্তু সেই এলপিজি এখনো দেশে আসেনি। এরপরও দেশে যে এলপিজি মজুত আছে তার দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে কেন। এর জবাবে লোটাবের সভাপতি বলেন, কোনো বটলিং কোম্পানির বিইআরসির বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে এক টাকাও বেশি দামে বিক্রি করছে না। কিন্তু ১৩০৫ টাকার এলপিজি ২০০০ হাজার টাকার বেশি কে বিক্রি করছে-এটা দেখার দায়িত্ব সরকারের। তিনি বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে আনা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এ ব্যাপারে কিছু করছে না।