ঢাকা, রবিবার ১৮, অক্টোবর ২০২৬ ৯:১৩:১৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
হাসপাতালে ডাক্তারের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইনানী রিসোর্টে আগুন: নিহতদের ৬ জনের পরিচয় মিলেছে ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানী বেড়ে ৭ বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি পেল নারী শ্রমিকদের কারখানা আজ মহাসপ্তমী পাঁচ দিনের মাথায় চাকরি হারালেন ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি আজ খোলা থাকবে সব ব্যাংক এক দিনে হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের প্রাণহানি

সাহারা মরুভূমি পাড়ি দেওয়া থেকে ইয়ামাল ও নিকোর বিশ্বজয়

স্পোর্টস  ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৩৯ পিএম, ২২ জুলাই ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

মাঠের খেলায় তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণবিচূর্ণ করে দেন, আর মাঠের বাইরে তাদের নাচ কিংবা খুনসুটি মাতিয়ে রাখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্পেনের বিশ্বজয়ী দুই ফুটবল তারকা লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দুই নাম। রবিবার রাতে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পেছনেও বড় ভূমিকা রেখেছেন এই দুই তরুণ। তবে আজ তারা ফুটবল বিশ্বের চূড়ায় অবস্থান করলেও, এই সাফল্যের পেছনের গল্পটি রূপকথাকেও হার মানায়। এটি মূলত আফ্রিকান অভিবাসী পরিবারের সংগ্রাম, চরম ত্যাগ আর দুই তরুণের অবিশ্বাস্য কঠোর পরিশ্রমের ইতিহাস।

মরুভূমি পেরিয়ে নতুন জীবনের খোঁজে উইলিয়ামস পরিবার
নিকো উইলিয়ামসের আজকের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে তার বাবা-মায়ের রক্তভেজা এক সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৯৪ সালে ঘানা ছেড়ে এক কাপড়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তার বাবা ফেলিক্স উইলিয়ামস ও মা মারিয়া। উন্নত জীবনের আশায় সাহারা মরুভূমির তপ্ত বালু পথ পাড়ি দিয়েছিলেন তারা। ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর মারিয়াকে সেই যাত্রাপথের বেশ কিছু অংশ হাঁটতে হয়েছিল খালি পায়ে।

স্পেনের মেলিয়ায় পৌঁছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য নিজেদের যুদ্ধবিধ্বস্ত লাইবেরিয়ার নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন তারা। পরবর্তীতে বিলবাওয়ে জন্ম নেন নিকোর বড় ভাই ইনিয়াকি উইলিয়ামস। এরপর পরিবারটি পাম্পলোনায় চলে গেলে ২০০২ সালে জন্ম হয় নিকোর।

সংসার চালাতে নিকোর বাবা দীর্ঘ ১০ বছর লন্ডনে গিয়ে ক্লিনার ও শ্রমিকের কাজ করেন। বাবার অনুপস্থিতিতে ছোট ভাই নিকোর অভিভাবক হয়ে ওঠেন বড় ভাই ইনিয়াকি। তিনিই নিকোকে খাইয়ে দেওয়া, স্কুলে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ফুটবলের হাতেখড়ি দেন। ফুটবলার হয়ে ওঠার পর ২০২১ সালে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের হয়ে এই দুই ভাই একসঙ্গে মাঠে নেমে ইতিহাস গড়েন। নিকো সবসময়ই বলেন, ইনিয়াকি শুধু তার ভাই নন, তার বাবার মতো।

রোকাফোন্দার সেই লড়াকু ছেলে ইয়ামাল
লামিন ইয়ামালের গল্পটাও অন্যরকম সংগ্রামের। তার বাবা মুনির নাসরাউই এসেছিলেন মরক্কো থেকে এবং মা শেইলা এবানা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বাসিন্দা। ইয়ামালের দাদি প্রথমে মরক্কো থেকে স্পেনে এসে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ নেন, পরে পুরো পরিবারকে স্পেনে নিয়ে আসেন। বার্সেলোনার চরম শ্রমজীবী ও অবহেলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ‘রোকাফোন্দা’তেই বড় হয়েছেন ইয়ামাল।

শৈশবেই ফুটবলের জাদুকরী প্রতিভা দেখে বার্সেলোনার বিখ্যাত ‘লা মাসিয়া’ একাডেমিতে জায়গা পেয়ে যান তিনি। এরপর বাকিটা ইতিহাস। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে মাত্র ১৬-১৭ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকায় পরিণত হন এই উইঙ্গার। সম্প্রতি ইউনিসেফের একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে শিশু ইয়ামালকে লিওনেল মেসির গোসল করিয়ে দেওয়ার একটি ছবি ইন্টারনেটে ঝড় তোলে। অনেকেই মজা করে একে ‘মেসির আশীর্বাদ’ বলে অভিহিত করেন।

মাঠের রসায়ন ও গভীর বন্ধুত্ব
স্পেন জাতীয় দলে আসার পর থেকেই ইয়ামাল ও নিকোর মধ্যে গড়ে ওঠে এক অভেদ্য প্রাচীর। স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তরুণ ইয়ামালের দেখভালের মূল দায়িত্ব দিয়েছিলেন নিকোকে। সেই থেকে মাঠ এবং মাঠের বাইরে তারা হরিহর আত্মা। গোল করার পর তাদের সিগনেচার নাচ বিশ্বজুড়ে তরুণদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়।

বহুসংস্কৃতির আধুনিক স্পেনের নতুন প্রতীক
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোইসেস রুইসের মতে, ইয়ামাল ও নিকো কেবল ফুটবলার নন, তারা আধুনিক ও বহুসাংস্কৃতিক স্পেনের নতুন প্রতীক।

স্প্যানিশ ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, একসময় স্পেনে যারা ছিলেন ব্রাত্য, আজ তাদের হাত ধরেই বিশ্বমঞ্চে স্পেনের পতাকা সবচেয়ে উঁচুতে উড়ছে। ইয়ামাল ও নিকোর এই গল্প প্রমাণ করে—সুযোগ, ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটলে ফুটবলের সবুজ গালিচায় যেকোনো প্রতিকূলতাকেই জয় করা সম্ভব।