ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৯:৫৮:৫৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

হরতাল কোনো সমাধান নয়: মন্তব্য নারীনেত্রীদের

আপডেট: ১০:৪৮ এএম, ১১ নভেম্বর ২০১৩ সোমবার

আইরীন নিয়াজী মান্না, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : নির্দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচনের দাবিতে আবারও তিন দিনের হরতাল ডেকেছে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট৷ আজ থেকে শুরু হচ্ছে ৬০ ঘন্টার হরতাল৷ শেষ হবে ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায়৷ দেশের শীর্ষস্থানীয় নারীনেত্রীবৃন্দ হরতালের সমালোচনা করে বলেছেন, দেশের দুই প্রধাণ রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক মতাদর্শের সমস্যার সমাধান করতে হবে সংলাপের মাধ্যমে৷ তারা বলেছেন, নির্দলীয় বা সর্বদলীয় সরকার ব্যবস্থা যাই হোক না কোনো তা নিয়ে টেবিলে বসতে হবে৷ আগামী নির্বাচন নিয়ে যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে তার দ্রুত সমাধান করা দরকার৷ হরতাল কোনো সমাধান নয়৷ পাল্টাপাল্টি সমাবেশও কোনো সমাধান নয়৷ এতে বরং উত্তেজনা বাড়ে৷ এই উত্তেজনা কমাতে এবং দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে দুপক্ষের সংলাপে বসা খুবই জরুরী৷ বিশিষ্ট নারীনেত্রী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, বিশিষ্ট বাম নেতা, শিরীন আখতার এবং সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী হরতাল এবং দুই নেত্রীর সংলাপ বিষয়ে কথা বলেছেন উইমেননিউজের সঙ্গে৷ পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো৷ আয়শা খানম : Aisa-khanom অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নারীর ক্ষতায়নের ক্ষেত্রে আমাদেও দেশ বর্তমানে বিশাল অর্জন করেছে৷ অর্থনৈতিক সূচকে এগারো ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ৷ এ অবস্থায় হরতাল ডেকে নৈরাজ্য করে দেশকে অস্থিতিশীল করা মানে আবারও পিছিয়ে যাওয়া৷ হরতাল আইন করে বন্ধ করা দরকার৷ নিয়ম করা উচিত কোনো রাজনৈতিক দলই হরতাল করতে পারবে না৷ হরতাল ডাকলে তা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ সন্ত্রাসী তত্‍পরতা চালিয়ে, আগুন জ্বালিয়ে, রক্তপাত করে, মানুষ মেরে হরতালের মাধ্যমে রাজনৈতিক অধিকার আদায় করা বন্ধ করা জরুরী৷ রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য জনগণের সমস্যা সৃষ্টি করা অগণতান্ত্রিক৷ রাজনৈতিক অধিকার আদায় করার সংগ্রাম করে সহিংস কার্যক্রমের মাধ্যমে আপনি দেশের মানুষের অধিকার খর্ব করতে পারেন না৷ সহিংসতা করে গণতন্ত্র চর্চা করা যায় না৷ দেশটা কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, দেশটা জনতার৷ তাই জনতার শান্তিও কথা ভেবে সংলাপে বসুন৷ হরতাল করে অধিকার আদায় করা যায় না৷ বাচ্চাদের পরীক্ষার সময়ে সারা দেশজুড়ে এই যে রাজনৈতিক নৈরাজ্য চলছে এটা অমঙ্গলের কথাই বলে৷ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নয়৷ এটি জনতার বিশাল ক্ষতি৷ জনতার ক্ষতি করে আপনি হরতাল কর্মসূচি দিতে পারেন না৷ আমাদের দুটো দাবি, কোনো রাজনৈতিক দলই হরতাল করতে পারবে না এবং সংসদ বর্জন করতে পারবে না৷ শিরীন আখতার : আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় সংকট সৃষ্টি হয়েছে৷ সংবিধান সংশোধন করে বর্তমান সরকার সুষ্ঠু, অবাদ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সিদ্ধন্ত নেয়৷ এসময় বারবার বিরোধী দল ও অন্যান্য পেশাজীবীদের মতামত আহবান করা হয়৷ তত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে গত চারটি নির্বাচনে কেউই সন্তুষ্টু হতে পারেনি৷ তাই স্পষ্টতই বলা যায় একজন বিচারপতিকে প্রধান করে তত্বাবধায়ক সরকারের গ্রহণযোগ্যতা আর নেই৷ Shirin Akhter তত্বাবধায়ক সরকার বা সর্বদলীয় সরকার যাই হোক এ বিষয়ে গত তিন বছরে আলোচনার অনেক সুযোগ ছিলো৷ কিন্তু বিরোধী দল আসেনি৷ বরং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বানচল করতে তারা বার বার হরতাল ডেকে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে৷ সমপ্রতি প্রধানমন্ত্রী সংলাপের আহবান জানালে তাতেও বিরোধী দলীয় নেতা রাজি হলেন না৷ বরং তিনি হরতাল দিলেন৷ আজ থেকে আবারও হরতাল দেয়া হলো৷ আমাদের প্রত্যাশা হরতাল প্রত্যাহার করে খালেদা জিয়া সংলাপে বসবেন৷ সংলাপ যখন করতেই হবে তখন হরতাল করে কি লাভ! হরতালের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে কোমলমতি পরীক্ষার্থদের সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ এটা কাম্য নয়৷ আশা করি বিএনপি আলোচনার টেবিলে বসবে৷ আলোচনা ছাড়া এ সমস্যার সমাধানের আর কোনো পথ নেই৷ গণতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং একটি সুষ্টু ও অবাদ নির্বাচনের জন্য দুপক্ষের আলোচনা এখন খুবই জরুরী৷ রাশেদা কে চৌধুরী : অধিকার আদায়ের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো কর্মসূচি দেবে তা স্বাভাবিক৷ কিন্তু যখন সহিংraseda kস সংঘাতের কারণে স্বাভাবিক নাগরিক জীবন ব্যহত হয় তখনই উদ্বেগ তৈরি হয়৷ যেমনটি এখন হচ্ছে৷ জেএসসি পরীক্ষার সময় বিরোধী জোটের হরতাল ডাকার কারণে ছাত্র এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ এবং আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে৷ ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যত নিয়ে অভিভাবকরা আজ আতঙ্কিত৷ যেভাবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হচ্ছে তাতে আগামী ২০ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া প্রায় ৩১ লাখ পরীক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নিয়েও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন৷ এই দুই পরীক্ষা মিলিয়ে ৫০ লাখের ওপর পরীক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চিত হয়ে গেছে৷ তারপর নভেম্বর-ডিসেম্বররে রয়েছে বার্ষিক পরীক্ষা৷ আছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা৷ এগুলো বাদ দিলেও ওই ৫০ লাখ পরীক্ষার্থীর বাবা-মা মিলিয়ে এক কোটির বেশি ভোটার কিন্তু রয়েছে৷ এসব ভোটারের কথা চিন্তা করতে হবে৷ হরতাল করে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, মানুষ হত্যা করে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি খারাপ করা যায়৷ কিন্তু গণতন্ত্র রক্ষা করা যায় না৷ নির্বাচনের নামে যে ইসু্য তারা তৈরি করেছে তা রাজনৈতিক৷ এর সমাধান তাদেরই দিতে হবে৷ দুই রাজনৈতিক দলকে ছাড় দিয়েই সমাধানের দিকে যেতে হবে৷ কল্যাণের পথ খুঁজতে হবে৷ তা না হলে দেশের মানুষ কলা গাছকে ভোট দেবে৷ দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন৷ তারা ভুল করে না৷ হরতাল বা কোনো অস্থিতিশীলতা নয়, পড়াশুনা, ব্যবসা-বানিজ্য, সার্বিক জীবন ও রাজনীতি স্বাভাবিকভাবে চলবে এটাই তাদের কামনা৷ এ প্রসঙ্গে হাঙ্গার প্রজেক্টেও কান্ট্রি ডিরেক্টও ও কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার উইমেননিউজকে বলেন, সমাজের সর্বক্ষেত্রেই হরতালের বিরুপ প্রভার পরছে৷ নারী ও শিশুদেও ওপর এর প্রভাব অবশ্যই পরছে৷ অনেকক্ষেত্রে বেশিই পরছে৷ পোশাকশিল্পের বিরাট সংখ্যক নারী শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মক্ষেত্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন৷ হরতালে বিপদগামীতর শিকার হচ্ছে শিশুরা৷ তারা নাশকতায় জড়িয়ে পরছে, বোমার আঘাতে প্রাণও হারাচ্ছে৷ এটা গ্রহণযোগ্য নয়৷ তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদরা সরাদেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি করছেন৷ তাদেরকেই এর সমাধান দিতে হবে৷ হরতালের নামে নারী-শিশুর জীবন বিপন্ন করার রাজনীতি দেশবাসী মেনে নেবে না৷ ১১ অক্টোবর'২০১৩