ঢাকা, শনিবার ২০, এপ্রিল ২০২৪ ১০:৩৬:৪৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
হাসপাতালের কার্ডিয়াক আইসিইউ পুড়ে ছাই, রক্ষা পেল ৭ শিশু সবজির বাজার চড়া, কমেনি মুরগির দাম সারা দেশে তিন দিনের হিট অ্যালার্ট জারি কৃষক লীগ নেতাদের গণভবনের শাক-সবজি উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি, হিট এলার্ট জারি শিশু হাসপাতালের আগুন সম্পূর্ণ নিভেছে

হাঁস পালন করেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে গৃহবধূ শিল্পী

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৫৯ পিএম, ৭ আগস্ট ২০২৩ সোমবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশের দরিদ্র গৃহবধূ শিল্পীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা তার লালন পালন করা ৫০০ হাঁস নিয়েই। খুব অল্প সময়ে একটি অসচ্ছল পরিবারের ইতি টেনে সচ্ছলতার পথ দেখাতে হাঁসই যেন জাদুর মতই শিল্পীর অভাবের সংসারটাকে গর্তের কিনারা থেকে তুলে এনেছে। হাঁস পালন করে সংসারে এখন সুখের ছোঁয়া পেয়েছেন।

বর্তমানে তার খামারের ৫০০ হাঁসের মধ্যে ২৫০টি ডিম দিচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার ডিম বিক্রি করতে পারছেন।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের আড়ংগাইল গ্রামের উত্তর মাঠে হাঁস চরাতে এসে শিল্পী তার মুখে রাজ্যের একরাশ হাসি মেখেই যেন জীবন যুদ্ধের গল্প বলছিলেন।

অনেকটা বাল্য বিয়ের শিকার শিল্পী। বিয়ে হয় উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের আড়ংগাইল গ্রামের মহরম আলীর ছেলে জফের আলীর সঙ্গে। বিয়ের পরপরই জন্ম হয় মেয়ে জুঁইয়ের। মেয়ে জুঁই বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে স্থানীয় মাদরাসায় পড়ালেখা করছে। আর ছেলে জুনাইদের বয়স এখন দেড় বছর। বর্তমানে ত্রিশ বা বত্রিশের কোঠার গ্রাম্য গৃহবধূ শিল্পীর ১৫ বছরের সংসার জীবনে অভাবটা যেন তাদের স্বামী-স্ত্রীকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।

শিল্পী জানান, মাত্র দুই বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে টেনেটুনেও সংসারটা চলছিল না। আর মেয়ে জুঁইয়ের জন্মের পর তাদের নতুন সংসারে খরচও বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে স্বামী জফের আলী ভ্যান চালাতে থাকেন। কিন্তু তাতে কোনো মতে দিন পার হলেও সংসারে সচ্ছলতা আসছিল না।

মেয়েটাকে স্কুলে ভর্তি করার কারণে মেয়ের পোশাক, খাবারসহ আনুসাঙ্গিক খরচ বাড়তে থাকে। তারপর মেয়ে ও ছেলেকে ভবিষ্যতে পড়ালেখা শেখানোর আশা নিয়ে তারা স্বামী স্ত্রীতে ভাবতে থাকেন কি করে সংসারে সচ্ছলতা এনে সন্তানদের জন্য কিছু সঞ্চয় করা সম্ভব। তারা স্থির করেন বাড়িতে হাঁসের খামার করবেন। সে চিন্তা থেকেই দু’জনে পরামর্শ করে বছর তিনেক আগে সামান্য জমানো টাকাসহ ধারদেনা করে প্রথমে ২০০ হাঁস কিনে নিজ বাড়িতেই লালন পালন করতে থাকেন।

শিল্পী আরও জানান, হাঁসের খামার করার পর হাঁসকে প্রাকৃতিক খাদ্য খাওয়ানোর জন্য স্বামী-স্ত্রী পালা করে দিনে গ্রামের মাঠে চরাতে থাকেন। আর নিয়ম করে হাঁসগুলোকে খাদ্য খাওয়ানো ওষুধ দেওয়াসহ তাদের পরিচর্যা করার পর ছয় মাসের মধ্যেই প্রায় ১৫০টি হাঁস ডিম দেওয়া শুরু করে। আর প্রতিদিন শিল্পী জফের দম্পতির হাঁসের খামারে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার ডিম বাড়ি থেকেই পাইকাররা নগদ টাকায় কিনতে থাকেন। এভাবে রান্নাবান্না ছেলে মেয়েকে সামলানো সংসারের অনান্য কাজসহ দুই বিঘা জমির ফসল ঘরে তোলার মতো কঠোর পরিশ্রমের মধ্যেও এক বছরের মাথায় খামারে আরও ৩০০ হাঁস যুক্ত করে খামারের পরিধি বাড়ান তারা।

শিল্পীর স্বামী জফের আলী জানান, বর্তমানে তাদের খামারে ৫০০ হাঁসের মধ্যে ২৫০টি হাঁস ডিম দিচ্ছে। এতে তারা প্রতিদিন তারা প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকার ডিম বিক্রি করছেন।

আর শিল্পী জানান, এখন তাদের খামারে হাঁসের খাওয়া ওষুধপত্রসহ যাবতীয় খরচ বাদে বছরে অনন্ত ৩ লাখ টাকা আয় করতে পারেন। আর সে থেকেই শিল্পী জফের দম্পতির সংসারে ওই হাঁসগুলো যেন জাদুর মতই কাজ করছে বলে আবারও স্বস্তির হাসি হাসেন গৃহবধূ শিল্পী।

তবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশার তাড়াশ শাখা অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিল্পী-জফের দম্পতির হাঁসের খামার রয়েছে বিষয়টি আমরা জানি। তারা খামারটি বড় করতে চাইলে আমাদের প্রতিষ্ঠান তাদেরকে জামানত বিহীন ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে সহযোগিতার চেষ্টা করব।