ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, অক্টোবর ২০২০ ২০:০২:০৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
করোনায় আরও ২৫ মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৮১ করোনার সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী এবার নতুন বছরে হচ্ছে না বই উৎসব: শিক্ষামন্ত্রী ৮ ব্যক্তি ১ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী ফের বাড়ল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি একদিনে করোনা আক্রান্ত ৫ লাখ পার, মৃত ৭ হাজার

৭৫ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:১৫ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০২০ বুধবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের সময় ৭৫ বারের মতো পেছাল।

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল।কিন্তু মামলার তদন্ত সংস্থা র্যাব প্রতিবেদন দাখিল করেনি।এজন্য ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরি নতুন এ দিন ধার্য করেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে রাজধানীর রাজাবাজারে তাদের ভাড়া বাসায় হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

আট বছর আগে সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলিট ফোর্স র‍্যাবের মত সংস্থার কাছ থেকে আজ পর্যন্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন না পেয়ে বিশ্মিত ও হতাশ দেশের সাংবাদিক নেতারা এবং সুশীল সমাজ।

সাংবাদিক দম্পতির হত্যার তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সোচ্চার সাংবাদিক সমাজের অন্যতম নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ক্ষোভ ব্যক্ত করে জানান, বাংলাদেশের কোন মামলায় কেবল তদন্ত প্রতিবেন দেবার জন্য এতবার তারিখ পরিবর্তন করা হয়নি। আট বছরের বেশী সময় পার করেও যদি তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া যায় তাহলে এ মামলার বিচারকার্য কবে শুরু হবে এবং কবে নাগাদ শেষ হবে তার তো কোন নিশ্চয়তা নেই।

তিনি আরো বলেন, আলোড়ন সৃষ্টিকারী এরকম একটি হত্যা মামলার দীর্ঘসূত্রিতা থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে, দেশে বিচার হীনতার সংস্কৃতি কতটা গেড়ে বসেছে। এ অবস্থায় সরকারকেই এর দায়ভার বহন করতে হবে। উল্লেখ্য, এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান মন্তব্য করেছেন সরকারের উচ্চমহল থেকে আশ্বাস দেওয়ার পরও যখন এরকম একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দিতে এত দীর্ঘ সময় নেয়া হয়, তখন সেটি বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই তুলে ধরে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার প্রথম তদন্তভার দেওয়া হয় রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানার এক উপ-পরিদর্শককে। চারদিন পর মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে অপারগ হয় ডিবি।

পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের (২০১২ সাল) ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারপর নিহত সাংবাদিকদের মৃতদেহ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয় দফা ময়না তন্ত করা হয়। ডিএনএ টেস্টের জন্য তাদের নমুনা আমেরিকার তদন্ত সংস্থা এফবিআই’র কাছে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রিপোর্টও পাওয়া গেছে। আটক সন্দেহভাজনদের সাথে তার মিল-অমিল যাচাই করা হয়েছে। রহস্য প্রায় উন্মোচিত হবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে নানা সময়।

পিতা-মাতার নৃশংস হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী একমাত্র সন্তান শিশু মেঘ দুঃস্বপ্নের স্মৃতি নিয়ে মাস-বছর পেরিয়ে এখন কিশোর। তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের রাজপথে আন্দোলন, মানববন্ধন, মহাসমাবেশ, অফিসে কর্ম-বিরতি আর সরকারর সাথে বৈঠকি দেন-দরবার সবই এখন স্তিমিত। বিচার দেখার আশায় বছরের পর অপেক্ষা করে দেশবাসীর স্মৃতিতেও এতদিনে ঝাপসা হয়ে গেছে বিষয়টি। আর সাগরের মা সালেহা মনির কয়েক বছর আগেই সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার বা বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তার দুঃখ যে তিনি আজও জানতে পারলেন না কেন তার ছেলে এবং ছেলের বউকে হত্যা করা হলো। কারা হত্যা করল? হত্যাকারীরা প্রভাবশালী বলেই তাদের আড়াল করা হয়েছে বলে মনে করেন সালেহা মনির। তাই চরম হতাশা আর দুঃখ নিয়ে তিনি বলেছেন, এখন আল্লাহর কাছে বিচার চাওয়া ছাড়া আর কোনো ভরসা নেই তার।

-জেডসি