ঢাকা, শুক্রবার ১০, জুলাই ২০২৬ ২:২৬:২১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না ইতালি: মেলোনি শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: শামা ওবায়েদ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ৭০ বছর পর ব্রিটিশ নারীর সাজা পরিবর্তন শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হচ্ছেন আইরিন খান বান্দরবানে পাহাড়ধস, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুসহ ৫ জনের প্রাণহানি

আটজনের কাছে বিক্রি করা হয় মরিয়ামকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:৩৬ পিএম, ১২ মে ২০১৯ রবিবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

তারা আমার শরীরে বিস্ফোরক লাগানো একটি আত্মঘাতী পোশাক পড়ায়। তারপর বলে ট্রিগার চেপে দিতে’- চার বছর ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের হাতে বন্দী থাকা মরিয়াম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

২০১৪ সালে ইরাকের ইয়াজিদি গ্রামগুলোর দখল নেয় আইএস জঙ্গিরা। সেসময় ৬ হাজারের বেশি নারী ও শিশুকে বন্দী করে তারা- যাদের মধ্যে ছিল মরিয়াম ও তার মা।

তিনি বলেন, ‘আইএস যখন আমাকে বন্দী করে তখন আমার বয়স ১২। আমাকে আটজনের কাছে বিক্রি করা হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে তিনজন আমাকে ধর্ষণ করত, বাকিরা আমাকে দাসী হিসেবে ব্যবহার করত।’

আইএস জঙ্গিদের হাতে বন্দী থাকা অবস্থাতে কথা বলায় সমস্যা তৈরি হয় মরিয়ামের। তাকে তার মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে দেয়া হয়। তিনি বলেন, ‘ধরা পড়ার আগে আমার কথা বলতে কোনো সমস্যা হতো না। বন্দী থাকা অবস্থাতে এই সমস্যা শুরু হয়। আমি বহুবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বন্দী থাকা অবস্থায় মার সঙ্গে একবার আমার দেখা করার সুযোগ হয়েছিল। তখন মাকে প্রতিশ্রুতি দেই যে আত্মহত্যার চেষ্টা করবো না।’

মরিয়াম পালিয়ে আসতে পারলেও তার মার এখনো কোনো খোঁজ নেই। মরিয়াম ও তার মায়ের সঙ্গে হওয়া ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় মরিয়ামের বাবাকে। তার বাবা বলেন, ‘এমন যদি হতো যে আমার মৃত্যু হলে মরিয়ামের মা ফিরে আসত, তাহলে সে মৃত্যুই ভালো হতো আমার জন্য। মারিয়ামকে আমি বলি যেন ওই সময়ের (বন্দী থাকাকালীন সময়ের) স্মৃতি ভুলে যায়। সেসব স্মৃতি যত মনে করবে, ততই মানসিক কষ্ট বাড়বে।’

তবে বাবার সেসব কথা মরিয়ামের অতীতের দু:সহ স্মৃতি ভুলতে সাহায্য করে না। ইরাকে মরিয়ামের মত অনেক মানুষই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় জীবনযাপন করেন।

গত ৪০ বছরে ইরাকে তিনটি বড় পরিসরের যুদ্ধ, একটি সামরিক অভ্যুত্থান ছাড়াও তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের দুটি অভ্যুত্থান এবং জঙ্গিবাদী মিলিশিয়াদের সঙ্গে সরকার সমর্থিত বাহিনীর গৃহযুদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও ইরাকে প্রায় এক দশক ধরে চলেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলা।

প্রায় চার দশক ধরে এরকম একের পর এক সহিংস ঘটনার প্রভাব পড়েছে দেশটির মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। ইরাকে প্রতি ৩ লক্ষ মানুষের জন্য মনোরোগবিদ বা মানসিক সমস্যার চিকিৎসক রয়েছে একজন।

-জেডসি