ঢাকা, সোমবার ১৩, জুলাই ২০২৬ ৫:১১:০৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
প্রাথমিকের বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানা যাবে আঝোর বৃষ্টিতে ডুবেছে রাজধানী, দুর্ভোগে নগরবাসী বন্যা-পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে ৬ দিনে ৪৩ জনের মৃত্যু ঢাকায় বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ, কিছু স্কুলে পরীক্ষা বন্ধ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ডিএমপির জরুরি নির্দেশনা ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙলেন মেসি সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ কারা

আফগান নারীদের এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন

সালেহীন বাবু | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৩:০১ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৮ রবিবার

নতুন করে দেশ গড়ায় অবদান রাখছেন আফগান নারীরা। সমাজের প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়নে শ্রম দিচ্ছেন তারা। শিক্ষা, আইটি, অর্থনীতি, সংস্কৃতিসহ সবক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি কাজ করছেন নারীরা। ক্ষুদ্র শক্তি থেকে বৃহৎ শক্তিতে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন আজ আফগান নারীর চোখে।


আফগানিস্তানে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ, হাঙ্গামা ও অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। যার ফলে সে দেশের মানুষেরা সব দিক থেকে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে এ অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। আফগানিস্তানের এ ধারাবাহিক পরিবর্তনের কৃতিত্বে সে দেশের নারীদের অবদানই সবচেয়ে বেশি।


আজ থেকে ১৫ বছর আগে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানের কাবুল আক্রমণ করে। সে সময় কাবুল ছিল বিশ্বের পঞ্চম দ্রুত ক্রমবর্ধমান শহর। ২০০১ সালে সে শহরের জনসংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এরপর থেকেই আফগানরা এক ধরনের খারাপ মানবতাবাদী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। সাধারণত আফগানিস্তানের মত দেশগুলো যেখানে দারিদ্র, দুর্যোগ, অভাব, সামরিক যুদ্ধ এখনও বিরাজমান সে সব দেশের দায়িত্ব সহজেই কেউ নিতে চায় না। সার্বিক বিষয়টি তখন বোঝা হিসেবেই ধরা হয়। এর সামগ্রিক দায়দায়িত্ব গিয়ে বর্তায় সেই ভঙ্গুর দেশ ও অলাভজনক কিছু সংস্থার উপর।


তবে আশার বিষয় হলো এখন এ অবস্থার অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী সৈন্য ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মীরা ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোক্তরা এগিয়ে আসছেন। আফগানিস্তানেও এরকমই ঘটেছে। এ সমস্ত সামাজিক উদ্যোক্তরা সেসব ভঙ্গুর দেশে বিনিয়োগ করছে। আফগানিস্তানে এসব বিদেশী উদ্যোক্তরা প্রাথমিকভাবে ভঙ্গুর টালমাটাল অবস্থায় যাত্রা শুরু করেছিল। ধীরে ধীরে তারা দেশের বিশ্বস্ত সরকারি কর্মচারী, তরুণ ছাত্র এবং পেশাদারদের সাথে নিবীড় সম্পর্ক গড়ে তোলে।

 

পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক সম্পর্কও গড়ে তোলে। তাদের সাথে হাত মিলিয়ে একযোগে কাজ করছে আফগান নারীরাও। তারাও এখন নিজেরাই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন। একযোগে কাজ করছেন দেশটির কর্মসংস্থানবৃদ্ধিসহ নারীর সক্রিয়তা বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ সহ সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি সচল করার জন্য। এভাবে সেই দেশের বেসরকারী খাতগুলো অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিণত হয়েছে। ফলে দেশটি বৈদেশিক সাহায্যের উপর পর নির্ভরশীলতাও কাটিয়ে উঠছে।

 

আফগান নারীদের অগ্রযাত্রায় পূর্ন সমর্থন দিচ্ছেন সে দেশের প্রতিটি নাগরিক। এমনকি আফগান বড় বড় ব্যবসায়ী নেতারাও নারীদের পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন বড় বড় সামাজিক উদ্যোক্তারা এই দেশের নারীদের উপর সহজে ভরসা করতে পারছেন। অনেক নারী নিজেরা কাজ করতে করতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছেন। এত দেশটিতে যেমন নারীরা সাফল্য পাচ্ছে এবং স্বাবলম্বী হচ্ছে তেমনি দেশটি তার অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা কাটিয়ে উঠছে। এভাবে চলতে থাকলে আফগানিস্তান অচিরেই তার আগের জৌলুস ফিরে পাবে।