ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ১৫:২৭:৩৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

আরতির আরাধনা বাঁশশিল্প

আপডেট: ০২:৪৭ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৪ মঙ্গলবার

উইমেননিউজ ফিচার, মাদারীপুর : মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার খালিয়া কারুপল্লী গ্রামের বাসিন্দা আরতি দাস। বয়স চলি্লশের কাছে। স্বামী সুবাস দাস, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। স্বামী অন্যের বাঁশ-বেত কারখানায় কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। কারখানা থেকে যে টাকা পেতেন, তা দিয়ে কোনো রকমে তাদের সংসার চলত। নিত্য অভাবের সংসারে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির যন্ত্রণা সহ্য করতে হতো তাকে। তার স্বামী কারখানা থেকে যে বেতন পেতেন, তাতে সংসারের খরচ, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া কোনোটাই ভালোভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। ছিল নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর অবস্থা। একদিকে সামাল দিলে অন্যদিকে বেহাল অবস্থা। আরতি সাংসারিক অসচ্ছলতার হাত থেকে রেহাই পেতে নিজেই এগিয়ে গেলেন। খুব সামান্য মূলধন নিয়ে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র বানানোর কাজে হাত দিলেন তিনি। কারণ বাঁশের তৈরি কুলা, চালনি, ডালা বানানো ছাড়া অন্য কোনো হাতের কাজ তার জানা ছিল না। তবে অল্প সময়েই তিনি তা শিখে নিলেন। অদম্য উৎসাহ আর কঠিন পরিশ্রমে সামান্য পুঁজি নিয়েই তিনি একদিন আয়ের মুখ দেখলেন। গ্রাম-গঞ্জে পাটি, কুলা, চালনি, ডালা বাজারে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি শুরু করেন। এসব তৈরি করতে কাঁচা বাঁশের দরকার হয়। কাঁচা বাঁশ থেকে চিকন করে বাতা (বাঁশের চিকন ফালি) তুলে সেসব দিয়ে কুলা, চালনি, ডালা তৈরি করেন আরতি রানী। আরতি রানী দাস বলেন, প্রায় ১৫০ টাকার বাঁশ কিনলে ১০ থেকে ১২টি খলই তৈরি করা যায় যার একেকটার বাজারদর ৫০ থেকে ৭০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর জন্য অনেকেই আরতি রানীর বাড়ি থেকে এসব জিনিস কিনে নিয়ে যান। আবার দোকানদার এসে পাইকারি দরে একসঙ্গে অনেকগুলো কিনে নিয়ে যান। গ্রামের মেলায় এসব সামগ্রী সবাই সুলভে কেনেন। অভাবের সংসারে তিনি আয়ের মুখ দেখলেন। ছেলেমেয়েরা এখন লেখাপড়ার জন্য স্কুলে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে অরতি এখন একজন সফল নারী। পরিশ্রম এবং ঐকান্তিক ইচ্ছায় তিনি নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। ১৮.১১.২০১৪