ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:২৭:৩৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

ঈদের তৃতীয় দিনেও কোরবানি হচ্ছে পশু

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৫৮ এএম, ৩০ মে ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

পবিত্র ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলছে পশু কোরবানি। ঈদের প্রথম দিন ও দ্বিতীয় দিনের তুলনায় সংখ্যা কম হলেও এখনো অনেক পরিবার, ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কোরবানির পশু জবাই করছেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন মহল্লা, গ্রাম ও শহরের অলিগলিতে কোরবানির প্রস্তুতি, মাংস কাটা এবং বণ্টনের দৃশ্য দেখা গেছে।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, ঈদুল আজহার দিনসহ পরবর্তী দুই দিন কোরবানি করার সুযোগ থাকায় অনেকেই শেষ দিনে কোরবানি দিচ্ছেন। কেউ পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে, কেউ কসাই সংকটের জন্য আবার কেউ সুবিধাজনক সময়ের অপেক্ষায় থেকে তৃতীয় দিনকে বেছে নিয়েছেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “ঈদের দিন আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। দ্বিতীয় দিনও কিছু পারিবারিক ব্যস্ততা ছিল। তাই আজ কোরবানি দিলাম। এতে কাজগুলো ধীরেসুস্থে করা যাচ্ছে।”

মিরপুরের গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, “প্রথম দিনে কসাই পাওয়া কঠিন ছিল। খরচও বেশি চাওয়া হচ্ছিল। তাই পরিবারের সিদ্ধান্তে তৃতীয় দিন কোরবানি করেছি। এতে ঝামেলা অনেক কম হয়েছে।”

কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজেও এখনো ব্যস্ত সময় পার করছেন কসাইরা। রাজধানীর এক কসাই আবদুল করিম জানান, “ঈদের তিন দিনই কাজ থাকে। অনেকে আগে থেকে সময় বুক করে রাখেন। তাই আজও সকাল থেকে একের পর এক কোরবানির কাজ করছি।”

এদিকে কোরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করতেও দেখা গেছে অনেককে। অনেকে তৃতীয় দিনেও প্রতিবেশী ও অসচ্ছল পরিবারের কাছে মাংস পৌঁছে দিচ্ছেন। ফলে কোরবানির সামাজিক ও মানবিক দিকটিও সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক মাওলানা আবদুল হান্নান বলেন, “কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ এবং মানবকল্যাণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে দিনই কোরবানি করা হোক না কেন, তা শরিয়তসম্মত। তাই শেষ দিনেও কোরবানি করার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক মানুষ মনে করেন প্রথম দিনেই কোরবানি করতে হবে। কিন্তু ইসলাম কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাই যারা বিভিন্ন কারণে প্রথম বা দ্বিতীয় দিনে কোরবানি করতে পারেননি, তারা তৃতীয় দিনেও নিশ্চিন্তে এ ইবাদত আদায় করতে পারেন।”

অন্যদিকে, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে কাজ করছে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শেষ দিনের কোরবানির পরও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি না হয়।

ঈদের আনন্দের শেষ প্রান্তে এসেও কোরবানির এই দৃশ্য যেন ত্যাগ, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তাই ছড়িয়ে দিচ্ছে। তৃতীয় দিনের কোরবানির মধ্য দিয়ে অনেক পরিবারের ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র মানুষের মুখেও ফুটছে হাসি।