ঢাকা, সোমবার ১৩, জুলাই ২০২৬ ৯:৩৫:৫৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
প্রাথমিকের বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানা যাবে আঝোর বৃষ্টিতে ডুবেছে রাজধানী, দুর্ভোগে নগরবাসী বন্যা-পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে ৬ দিনে ৪৩ জনের মৃত্যু ঢাকায় বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ, কিছু স্কুলে পরীক্ষা বন্ধ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ডিএমপির জরুরি নির্দেশনা ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙলেন মেসি সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ কারা

উত্তপ্ত ছাইয়ের নিচে পরিবারের খোঁজে গার্সিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ১১:৪২ পিএম, ২৩ জুন ২০১৮ শনিবার

রাক্ষসী আগ্নেয়গিরি, গুয়াতেমালার সান মিগুয়েল লস সোটস গ্রামটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। সবার বুকফাটা আহাজারিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে আকাশ বাতাস। এর মাঝেও একাকী এক নারী এখনও মাটি-ছাই খুঁড়ছেন তার স্বজনদের বের করার জন্য আর চোখের পানিতে দিন পার করছেন।

 

বারো দিন পেরিয়েছে, গুয়াতেমালার সান মিগুয়েল লস সোটস গ্রামটি যেন এখনও মৃত্যুপুরী। আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছে অগণিত মানুষ। সেই লাশও চাপা পড়েছে উত্তপ্ত ছাইয়ের নিচে।

 

৪৮ বছর বয়সী উফেমিয়া গার্সিয়া, পেশায় ফল ব্যবসায়ী। ফুয়েগোর অগ্ন্যুৎপাতে পরিবারের সব মিলিয়ে ৫০ জন সদস্যকে হারিয়েছেন তিনি। চার্চে গিয়ে প্রার্থণা সেরে তিনি ফিরে আসেন বাড়ির কাছে। পুড়ে ধসে পড়া বাড়ি আর মাটি-ছাইয়ের গভীরে চাপা পড়েছে তার কাছের মানুষগুলো।

 

একটি দেহ বেরিয়ে আসতেই গার্সিয়া চাপা গলায় বললেন,  এটা আমার বোন লোলা। গার্সিয়া দৌড়ে দিয়ে একটা কাগজ আর মার্কার নিয়ে নাম লিখে ওটা বোনের দেহে লাগিয়ে দিলেন। বোনের মৃতদেহ একটি স্কুলে নেয়া হলো। ওখানেই অস্থায়ী মর্গ বানানো হয়েছে।

 

অন্যান্য বেঁচে যাওয়াদের সঙ্গে একটি স্কুলে থাকছেন তিনি। প্রতিদিন ভোর ৫টায় উঠে পড়েন ঘুম থেকে। মাত্র দুটো কাপড় রয়েছে সঙ্গে। আগের দিনেরটা ধুয়ে অন্যটা পরে নেন। তারপর ছোটেন বাড়ির দিকে। ওখানেই জীবন্ত কবর হয়েছে তার পরিবারের বাকি সদস্যদের। অবশ্য গার্সিয়ার সঙ্গে আছেন তার একমাত্র বন্ধু ফিটো।

 

আমার মায়ের দেহাবশেষ খুঁজে পেয়েছি। আমাদের পরিবারের আরেকটা বাচ্চাকেও পেয়েছি। এভাবে মাটি খুঁড়ে আমরা ওদের খুঁজে পাচ্ছি, বললেন গার্সিয়া।

 

আরো কারো মরদেহ উদ্ধার হয়েছে কিনা তা দেখতে হাসপাতাল আর মর্গেও ঢুঁ মারেন এই সর্বহারা নারী। কোনো উদ্ধারকর্মী তার দিকে খাবারের বাটিটা এগিয়ে দিলেই তিনি খান। এ ছাড়া খাওয়ার কথা মনেও থাকে না।

 

ঘটনার পর গার্সিয়া ভেবেছিলেন তার সব সন্তান মারা গেছে। কিন্তু ছয় সন্তানের মধ্যে তিনজনকে ভিন্ন ভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে খুঁজে পেয়েছেন। তার নয় ভাইয়ের মধ্যে চারজন বেঁচে গেছেন।

 

উদগীরণের পর গুয়াতেমালার উদ্ধারকর্মীরা প্রথম তিনটি দিন কাজ করেছেন।কিন্তু প্রচণ্ড তাপে তারা আর টিকতে পারেননি। তাদের জুতার তলা গলে যাচ্ছিলো।কিন্তু হাল ছাড়েননি গার্সিয়া। কোনো ভ্রূক্ষেপ আর ভয় নেই তার। নিজের অভিযান অব্যাহতই রাখছেন তিনি।