ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ১০:৪৮:৫০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে ফিফা ভারতে ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন বাড়ছে, আন্দোলনে সংসদ অচ জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ

কন্যাশিশুরা ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতার বলয়ে বেড়ে উঠছে

আপডেট: ০৬:৪৯ এএম, ৩ অক্টোবর ২০১৩ বৃহস্পতিবার

নাসিমা আক্তার জলি নাসিমা আক্তার জলি মানবাধিকার কর্মী। নারী ও শিশু কল্যাণে কাজ করছেন দীর্ঘদিন। বর্তমানে কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের কন্যাশিশুদের নানানধর্মী সমস্যা নিয়ে আলাপ হয় তার সাথে। তিনি জানিয়েছেন কন্যাশিশুদের সার্বিক অবস্থা। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন উইমেননিউজ ২৪.কম’ এর পক্ষে সুমন রহমান উইমেননিউজ : আপনারা তো দেশের কন্যাশিশু/মেয়েশিশুদের নিয়ে কাজ করছেন। আপনার মতে তাদের সার্বিক অবস্থা কেমন? নাসিমা আক্তার জলি : আমার মতে, আমাদের দেশের কন্যাশিশুরা এখনও ছেলেশিশুদের তুলনায় কাঙ্খিত মাত্রার সুযোগ সুবিধা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারছে না বরং তারা বেড়ে উঠছে নিরানন্দ পরিবেশে, বৈষম্য-সহিংসতা-বঞ্চনা ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে। বিরাজমান পুরুষতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণা, পারিবারিক অসচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণেই তাদের জীবন হয়ে ওঠে দূর্বিসহ। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় কবি পাওনী মাথুরের লেখা কবিতার একটি লাইন আমি উল্লেখ করতে চাই-"She was the keeper of the house, but the house was not her keeper.” তিনি কন্যাশিশুদের নিয়ে তাঁর উদ্বিগ্নতার কথা লিখেছিলেন এভাবেই তাঁর কবিতায়।  কবির এই কবিতার লাইনের সাথে সুর মিলিয়ে আমিও বলতে চাই  কন্যাশিশুদের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আমিও উদ্বিগ ও শংকিত। উইমেননিউজ : দেশে মোট শিশুর কত শতাংশ কন্যাশিশু? বলা হয়ে থাকে কন্যাশিশুরা ভালো নেই, কেন ভালো নেই? নাসিমা আক্তার জলি : বাংলাদেশে মোট জনগোষ্ঠীর ৪৫ শতাংশ ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। আর এ শিশুদের ৪৮ শতাংশই হলো কন্যাশিশু। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা এবং পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে অবস্থান-এই পরিমাপকগুলোর বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি, আমাদের দেশে কন্যাশিশুরা ভালো নেই। যেমন: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ব্যান্ডবেইস’এর তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরে ছেলে শিশুর শিক্ষার হার কন্যাশিশুর তুলনায় বেশি। ছেলে শিশুর শিক্ষার হার ৬১.১২ ভাগ এবং কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে এই হার ৫৬.৮ ভাগ। অপরদিকে দেখা যায় প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের চাইতে মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে ঝড়ে পড়া কন্যা শিশুর সংখ্যা অনেক বেশি। মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়া কন্যাশিশুর সংখ্যা শতকরা ৪৮ ভাগ, ছেলে শিশুর ঝরে পড়ার হার শতকরা ৩৮ ভাগ। এই সব ঝরে পড়া কন্যাশিশুদেরই একটি বিরাট অংশ বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে। ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে শিশুবিবাহের হার শতকরা ৬৬ ভাগ। একই বয়সের ছেলে শিশুর বিবাহের হার শতকরা ৫ ভাগ। শিশুবিবাহের হারের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশে ৫ বছর বয়সের নিচে শতকরা ৫৭ ভাগ কন্যাশিশু অপুষ্টিতে ভোগে। এর মধ্যে কন্যাশিশুরা ছেলে শিশুর তুলনায় প্রায় ৩ গুন অপুষ্টিতে ভোগে। ১ থেকে ৪ বছর বয়সী কন্যাশিশুর মৃত্যু হার ছেলে শিশুর মৃত্যু হারের চাইতে বেশি। বাংলাদেশে প্রায় ৪ লাখ ২১ হাজার শিশু গৃহপরিচারিকার কাজ করে। এই শিশু গৃহপরিচারিকাদের মধ্যে তিন চতুর্থাংশই হলো কন্যাশিশু, যারা অত্যন্ত স্বল্প মজুরিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনা মজুরিতে কাজ করে। এই সকল কর্মরত কন্যাশিশুর শতকরা ৬০ ভাগ নানামুখী শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। শহর ও গ্রামাঞ্চলে স্কুল যাওয়া আসার পথে কন্যাশিশুরা ইভটিজিং এর শিকার হয়। কোনো কিশোরী প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেই তার মুখ/শরীর এসিডে ঝলসে দেয়া হয়। পারিবারিক দ্বন্দ, কলহ, জমি নিয়ে বিরোধের ফলে সহিংসতার শিকার কন্যাশিশু। ফলে আমাদের দেশের কন্যাশিশুরা সবসময়ই এক ধরণের ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতার বলয়ে বেড়ে উঠছে। এর প্রভাব পড়ছে কন্যাশিশুর পরবর্তী জীবনগুলোতে। উইমেননিউজ : তাহলে দেখা যাচ্ছে শিক্ষাক্ষেত্রে ঝরে পড়া শিশুদের মধ্যে মেয়েশিশুই বেশি। এমনটি কেন হচ্ছে। এর থেকে বের হয়ে আসার উপায় কি? নাসিমা আক্তার জলি : শিক্ষা ক্ষেত্রে ঝরে পড়া শিশুদের মধ্যে একটি বড় অংশই হলো কন্যাশিশু। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। যেমন দারিদ্রতা একটি অন্যতম কারণ। পারিবারিক সচেতনতার অভাব বিশেষ করে পিতা-মাতাসহ পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের অসচেতনতা। সামাজিক  কুসংস্কার, যথাযথভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা না থাকা সর্বোপরি কন্যাশিশুর নিরাপত্তার অভাব। এ ধরণের প্রতিবন্ধকতা থেকে বের হয়ে আসতে হলে মূলত পরিবারকেই দায়িত্ব নিতে হবে, তাদেরকে সচেতন হতে হবে একই সাথে কন্যাশিশুদেরকেও সচেতন হতে হবে। তাদের পছন্দ, মতামত অভিভাবকদের সাথে শেয়ার করতে হবে। প্রয়োজনে পরিবারে বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে আলাপ করে সহযোগিতা নিতে হবে। একইভাবে রাষ্ট্রীয় পলিসিতে কন্যাশিশুদের শিক্ষার জন্য আরও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। উইমেননিউজ : শিক্ষাবিষয়ে সরকারের বেশ কিছু প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প নিয়ে কিছু প্রশ্নও ...। নাসিমা আক্তার জলি : প্রশ্ন উঠতেই পারে কন্যাশিশুদের শিক্ষার জন্য আমাদের সরকার অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্কীম চালু করেছে। এ জন্য সরকারকে অভিনন্দন, তবে প্রয়োজনের তুলনায় এটি অত্যন্ত সামান্য। এই সব কর্মসূচি যথায়থভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা দেখতে সরকারের মনিটরিং বাড়াতে হবে। কারণ এই সকল কার্যত্রম অনেক প্রশ্ন বিদ্ধ। এখনও বাংলাদেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে চাহিদা অনুয়ায়ী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল নাই। মেয়ে এবং ছেলেরা ৩-৪ কি:মি: হেটে, নৌকায় পাড়ি দিয়ে স্কুলে যায়। অন্যদিকে এর বিপরীত চিত্রও আছে। প্রয়োজনের তুলনায় স্কুল বেশি। সরকারি বিধি না মেনে নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি খাটিয়ে, অথবা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে স্কুল/কলেজ গড়ে তোলেন। এখানেই শেষ হয়না, সরকারের সাথে লবি করে এসকল স্কুলে সরকারি অনুমোদন নেয়া হয়। এর ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ হয়, কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষ লাভবান হয়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে যাদের উপকার হওয়ার কথা তারা কোনো উপকার পায় না। আমি মনে করি, এসকল পদক্ষেপ গ্রহণের আগে সরকারকে আরও সতর্ক হতে হবে। উইমেননিউজ : কন্যাশিশুদের ভালো রাখার জন্য কি কি করা জরুরি? নাসিমা আক্তার জলি : কন্যাশিশুদের জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অর্থাৎ কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন করতে হবে। তাদের প্রতি সহানূভূতিশীল এবং আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিসহ, ধর্মীয় কুসংস্কার, অপসংস্কার দূর করতে হবে। সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় পলিসিগুলো যুগোপযোগী করা জরুরী। যে সকল পলিসি বা আইন রয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে যাতে বাস্তবায়িত হয় এজন্য সরকারকে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। শুধু সরকারই নয় সকল রাজনৈতিক দলের কমিটমেন্ট থাকতে হবে। কন্যাশিশুর অবস্থা ও অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রত্যেকটি মানুষের ব্যক্তিগত কমিটমেন্ট থাকতে হবে। তা না হলে নির্যাতনকারীরা নির্যাতন করে পার পেয়ে যাবে। আর কন্যাশিশু তথা নারীর অবস্থা ও অবস্থানের প্রকৃতভাবে কোনো পরিবর্তন আসবে না। উইমেননিউজ : কন্যাশিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পর্কে কিছু বলুন। গত পাঁচ বছরে এদের শিক্ষার হার কতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে? নাসিমা আক্তার জলি : কন্যাশিশুদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভর্তির হার আগের তুলনায় অনেকগুণই বেড়েছে। বাংলাদেশ বু্যূরো অব এডুকেশনাল ইনফরমেশন অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস এর (ব্যানবেইস:২০১১ ) তথ্য মতে নারী শিক্ষার হার প্রাথমিক স্তরে ১৯৯০ সালে ছিল শতকরা ৪৫ ভাগ, বর্তমানে এটি ৫১.৫০ ভাগ। মাধ্যমিক স্তরে ১৯৯০ সালে ছিল শতকরা ৩৪ ভাগ, ২০১১ সালে ৫৩.৮২ ভাগ। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে ১৯৮০ সালে ছিল শতকরা ২৭.১ ভাগ বর্তমানে ৩৩.৬০ ভাগ। শিক্ষকতা পেশায় নারীর অংশগ্রহণ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ১৯৯৫ সালে নারী শিক্ষকের হার ছিল গড়ে ২৫ শতাংশ। বর্তমানে এই হার ৫০.৭ শতাংশ। উইমেননিউজ : আপনারা তো কন্যাশিশুদের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের উন্নয়নের জন্য আপনারা কতটুকু উদ্যোগী? নাসিমা আক্তার জলি : জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফেরামের একটি বড় নেট ওয়ার্ক রয়েছে সমগ্র বাংলাদেশে। এই নেটওয়ার্কের শেকড় ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত। ফোরামের সদস্য সংগঠণের সংখ্যা কেন্দ্রীয়ভাবে ১৬৮। ৫০টি জেলা, ৬৭ টি উপজেলা এবং ১২৭টি ইউনিয়নে ফোরাম নেটওয়ার্ক আরও তিন হাজারের বেশি সংগঠন রয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিবছর নভেম্বর-ডিসেন্বর মাসে যে সকল শিশুর বয়স স্কুল যাওয়ার মতো তাদের অভিভাবদের সাথে ওয়ার্ড ভিত্তিক উঠান বৈঠক করা হয়। ইউনিয়নব্যাপী স্থানীয় সরকারের সহযোগিতা নিয়ে প্রচারাভিযান চালানো হয়। জানুয়ারী মাসে শিশুরা স্কুলে ভর্তি হলো কিনা ফলোআপ দেয়া হয়। শিশুরা যাতে ঝড়ে না পড়ে এজন্য অভিভাকদের সাথে সভা করা হয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি বিধি মোতাবেক প্রাথমিক শিক্ষা কমিটি সাথে নিয়ে ইউপির সাথে সভা করা হয়। কন্যাশিশুদের মধ্যে গণিত ভীতি দূর করার লক্ষ্যে এবং কন্যাশিশুদেরকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার জন্য উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ’এর সহযোগীতায় ইউনিয়নভিত্তিক গণিত অলিম্পিয়াড কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। কন্যাশিশুদের মধ্যে নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য ইয়্যুথ লীডারশীপ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। শিক্ষক/শিক্ষিকাদের সহায়তায় স্কুল ভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা পরিচালনা করা হয়। যেমন: পুষ্টি, বাল্য বিয়ে বন্ধের জন্য কি করণীয় ইত্যাদি। উইমেননিউজ : প্রায়ই দেখা যায় গৃহকর্মী কন্যাশিশুরা নানারকম নির্যাতনের শিকার হয়। এরই মধ্যে রাজধানীতে আদুরি নামের এক কিশোরী তার গৃহকর্তী দ্বারা অমানবিকভাবে নিয়ৃাতনে শিকার হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় আপনাদের ভূমিকাটি কী হয়? নাসিমা আক্তার জলি : হ্যা। আদুরির ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক ও লজ্জাজনক। এ ধরণের ঘটনা ঘটলে আমরা ঐ সকল কন্যাশিশুদেরকে প্রথমত উদ্ধার করার চেষ্টা করি। ফোরামের মেম্বার সংগঠন বিএনডাবলিওএলএ, আইন শালিশ কেন্দ্র অথবা সরাসরি স্থানীয় উকিলের সহযোগিতায় আইনী সহায়তা প্রদান করি। প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা করি। উইমেননিউজ : বিভিন্ন ক্ষেত্রের কন্যাশিশু শ্রমিকদের জন্য আপনারা কতটুকু কাজ করছেন? নাসিমা আক্তার জলি : নীতিগতভাবে আমরা শিশুশ্রম চাই না। এ কারণে যে বয়সে স্কুলে যাবার কথা খেলার সাথির সাথে খেলবার কথা ঠিক সেই বয়সে সে শ্রমিক হিসেবে কাজ করবে এ বিষয়টি আমরা সম্পূর্ণভাবে অনুৎসাহিত করি। তবে চরম বাস্তবতার সাথে লড়াই করে কাউকে যদি এ পথে আসতে হয় সেক্ষেত্রে আমরা তাদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলি এবং বিকল্প কিছু করার চেষ্ট করি। তবে উল্লেখ করা প্রয়োজন কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম এখন পর্যন্ত কোনো দাতা সংস্থার অর্থ সরাসরি গ্রহণ করেরি বা দাতাদের অর্থায়নে কোনো প্রকল্পও বাস্তবায়ন করে না। তাই সরাসরি কোনো অর্থ নির্ভর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে না। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশমের ভিত্তিতে সংগঠনটি পরিচালিত হয়। উইমেননিউজ : নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয় কি? নাসিমা আক্তার জলি : শুরুতে বিশেষ করে ২০০০ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে যখন এই ইস্যুকে নিয়ে কথা বলতে গিয়েছি তখন অনেকেই কটাক্ষ করেছে। দাতার টাকা নিয়ে আর এক ব্যবসা করতে গিয়েছি এসব বলেছে। তবে যে সব কন্যাশিশু/কিশোরী মা কিংবা ভুক্তভোগী অভিভাবক, তাদের অভিব্যক্তি ছিল হৃদয় ছোঁয়া তাদের চোখের পানি, নিষ্ঠুর বাস্তবতার গল্প আমাদেরকে কাজ করতে আরও প্রতিশ্র“তিবদ্ধ করে তুলেছে। আমার ফোরাম সদস্যরা সবসময় আমার পাশে থেকে শক্তি যুগিয়েছে। বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের প্রতি আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ তারা আমার সাথে জেলা/উপজেলা/ ইউনিয়ন পর্যায় গিয়েছেন। আমার নেতৃত্বকে বিকাশের লক্ষ্যে পাশে থেকে সাহস যুগিয়েছেন। আমি একজন মানুষের কাছে অত্যন্ত ঋণী। তিনি হলেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি আমাকে প্রতিমূহুর্তে সাহস ও শক্তি যুগিয়েছেন। একই সাথে কাজ করার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাও দিয়েছেন। একজন মানুষকে সফলভাবে কাজ করার যে পরিবেশ প্রয়োজন তা আমি আমার মূল সংগঠন থেকে পেয়েছি। দ্যা হাঙ্গার প্রজেক্ট থেকেই ফোরামের বীজ বপন হয়েছিল। হাঙ্গার প্রজেক্ট আমাকে সর্বোতোভাবে সহযোগিতা করেছে। উইমেননিউজ : এধরণের কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা  কতটুকু সহায়ক বলে মনে করেন? নাসিমা আক্তার জলি : আমি মনে করি এধরণের একটি বৃহৎ কাজ যা কেবলমাত্র একটি গোষ্ঠীর জন্য নয়। এটি সমাজ পরিবর্তনের কাজ, দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও এই কাজটির একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে। এজন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরী শুধু বলব না। সরকারের স্থায়ী উন্নয়ন কার্যক্রমের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনায় এনে সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। উইমেননিউজ : আপা আপনাকে ধন্যবাদ। নাসিমা আক্তার জলি : উইমেননিউজকেও অনেক ধন্যবাদ। ৭ অক্টোবর’২০১৩