ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৩০:১৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

ক্ষুধার তীব্র জ্বালায় সন্তান বিক্রি করছে আফগানরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩৮ পিএম, ১৯ মে ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

আফগানিস্তানে গভীর অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাবে বহু পরিবার এখন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্যসংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কিছু পরিবার সন্তানের চিকিৎসা বা বেঁচে থাকার খরচ জোগাতে শিশুদের অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে সতর্ক করেছে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় ঘোর প্রদেশের রাজধানী চাগচারানে প্রতিদিন ভোর থেকেই শত শত দিনমজুর কাজের আশায় রাস্তার পাশে জড়ো হন। কনকনে ঠান্ডা আর ধুলাবালির মধ্যেও তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। কিন্তু কাজের সুযোগ এতটাই সীমিত যে অধিকাংশ মানুষ খালি হাতেই বাড়ি ফিরছেন। স্থানীয় শ্রমিক জুমা খান জানান, গত কয়েক সপ্তাহে তিনি হাতে গোনা কয়েক দিন কাজ পেয়েছেন। দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ আফগানি আয় দিয়ে পরিবারের খাবার জোগানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “আমার সন্তানরা না খেয়ে ঘুমায়। কখনো কখনো ধার করে ময়দা কিনতে হয়।”

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের বড় অংশের মানুষ এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। লাখো মানুষ জরুরি খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ খরা, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চাগচারানের বাসিন্দা আব্দুল রশিদ আজিমি তার সাত বছর বয়সী যমজ কন্যাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, দারিদ্র্য তাকে অসহায় করে তুলেছে। পরিবারের জন্য খাবার জোগাতে না পেরে তিনি প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আফগানিস্তানে শিশু বিয়ে, ঋণের বিনিময়ে সন্তান হস্তান্তর এবং শিশু শ্রমের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

আরেক বাসিন্দা সাঈদ আহমদ জানান, মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি আত্মীয়ের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক পরিবার এমন চুক্তিতে বাধ্য হচ্ছে যেখানে ভবিষ্যতে শিশুকে অন্য পরিবারের কাছে পাঠানোর শর্ত থাকে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব ঘটনাকে চরম দারিদ্র্যের নির্মম প্রতিফলন হিসেবে দেখছে এবং শিশু সুরক্ষায় জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর আফগানিস্তানের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খায়। বিদেশি সহায়তার বড় অংশ স্থগিত হয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক সীমিত হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের কারণে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তালেবান প্রশাসন অবশ্য বর্তমান সংকটের জন্য দীর্ঘ যুদ্ধ, আগের সরকার এবং বিদেশি হস্তক্ষেপকে দায়ী করছে।

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সহায়তা তহবিল কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘোরসহ বিভিন্ন প্রদেশের হাসপাতালগুলোতে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ, অক্সিজেন ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে অসুস্থ শিশুদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানের এই সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি একটি গভীর মানবিক বিপর্যয়। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা জরুরি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, দ্রুত সহায়তা না বাড়ালে দেশটিতে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও শিশুমৃত্যুর হার আরও বাড়তে পারে। 

তথ্যসূত্র : বিবিসি