ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৬:৫৮:৩২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৪১ পিএম, ১১ মে ২০২৬ সোমবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় জানানো বা প্রকাশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাবরেটরি কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ বা তা জানানো যাবে না।

আজ সোমবার (১১ মে) প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, দেশের কোনো হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাবরেটরি কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। অর্থাৎ চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে—এ তথ্য আর জানানো যাবে না।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রায় ঘোষণা করেন। সোমবার প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির মাধ্যমে সেই রায়ের বিস্তারিত নির্দেশনা সামনে এসেছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তীর্থসলিল রায়।

রায়ের পর আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ জানাতে পারবে না। এই নির্দেশনা অমান্য করা হলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

এই জনস্বার্থে রিটটি প্রথম দায়ের করা হয় ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি। পরে একই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন।

রুলে জানতে চাওয়া হয়েছিল, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ রোধে নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা তৈরির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।

রিটে স্বাস্থ্য সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়।

আইনজীবী ইশরাত হাসান আদালতে যুক্তি দেন, গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ অনেক ক্ষেত্রে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে ছেলে সন্তানের প্রতি সামাজিক পক্ষপাতের কারণে গর্ভবতী নারীরা পারিবারিক ও সামাজিক চাপে পড়েন। কিছু ক্ষেত্রে এর পরিণতি গড়ায় গর্ভপাত পর্যন্ত।

তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের মতো কয়েকটি দেশে আইন করে গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য রোধ করা।

রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে। এর নাম ‘ন্যাশনাল গাইডলাইন ফর প্রিভেনশন অব সন প্রিফারেন্স অ্যান্ড দ্য রিস্ক অব জেন্ডার বায়াসড সেক্স সিলেকশন।’

এই নীতিমালা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে।

এছাড়া সহযোগী অংশীদার হিসেবে রাখা হয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।

নীতিমালাটি হলফনামার মাধ্যমে হাইকোর্টে দাখিল করা হয়, যা সরকার আপত্তি ছাড়াই গ্রহণ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় শুধু একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়; এটি নারী ও অনাগত শিশুর অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বাংলাদেশে এখনও অনেক পরিবারে ছেলে সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ দেখা যায়। এর ফলে কন্যাসন্তান গর্ভে আছে জানতে পারলে অনেক নারী মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।

চিকিৎসাবিদদের মতে, গর্ভকালীন মানসিক চাপ মা ও শিশুর উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাইকোর্টের এই নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য কমবে, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাতের ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সবশেষে এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—অনাগত শিশুর পরিচয় ছেলে না মেয়ে, সেটি নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সে যেন সুস্থভাবে পৃথিবীতে আসতে পারে।