গার্মেন্টস শিল্পে ন্যূনতম মজুরির জন্য আন্দোলন বদলায়নি নারী শ্রমিকের ভাগ্য
আপডেট: ০২:৩৭ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০১৩ শুক্রবার
সোমা দেব/আহমেদ আল আমীন, উইমেননিউজ২৪.কম
ঢাকা : পঞ্চগড়ের সাথী। বয়স ২০ বছর। মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার শাহ্মখদুম গার্মেন্টসে। প্রতিদিন ৮ ঘন্টা কাজ করতে হয় তাকে। মাসে সর্বসাকুল্যে আয় মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা। মালিবাগেই একটি বাসায় তিন বোন মিলে সাবলেটে ছোট্ট একটি রুমে গাদাগাদি করে থাকেন। বেতনের টাকা থেকেই তাকে দিতে হয় ঘরভাড়ার দুই হাজার টাকা, খাওয়ার খরচ, পোশাকসহ যাবতীয় খরচ। অল্প আয়ের কারণে স্বামী পরিত্যক্তা সাথী একমাত্র সন্তানকে দিয়ে রেখেছেন বাবার বাড়িতে। বেতন বাড়লে বাবা-মাকে সাহায্য করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
শুধু সাথীই নয়, পোশাকশিল্পের প্রতিটি নারী শ্রমিকের জীবনচিত্র একই। গত শতাব্দীর ’৮০-র দশক থেকে শুরু হওয়া গার্মেন্টস শিল্পের রাতারাতি এতটাই বিকাশ হয় যে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গার্মেন্ট শিল্প গড়ে উঠেছে। বিজিএমইএ সূত্র মতে তাদের তালিকাভুক্ত গার্মেন্টসের সংখ্যাই ৫ হাজার ৬শ’। তাতে শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ৪০ লক্ষ। ছোট-বড় মিলিয়ে আরো অনেক বেশি গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। এই শ্রমিকদের শতকরা ৯০ জনই নারী শ্রমিক এবং এদের গড় বয়স ১৭ বছর। এই খাত থেকে সরকার বছরের সর্বোচ্চ বৈদেশীক মুদ্রা অর্জন করছে যার প্রায় শতভাগই নারী শ্রমিকদের অবদান। কিন্তু বদলায়নি তাদের ভাগ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্রাজ্যবাদের সস্তা শ্রম লুণ্ঠন এবং মালিকদের অতি মুনাফা অর্জনের যাঁতাকলে শ্রমিকরা পিষ্ট হচ্ছেন। রাষ্ট্রের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শতকরা ৭৬ ভাগ আসে এই গার্মেন্টস শিল্প থেকে। কিন্তু শ্রমিকদের জীবন চলে নির্মম দুর্বিসহ অবস্থায়। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থায় শ্রমিকদের দৈন্যদশা পৃথিবীর দেশে দেশে থাকলেও বাংলাদেশের শ্রমিকদের, বিশেষতঃ গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিকরা প্রায় মধ্যযুগীয় দাস প্রথার মধ্যেই রয়ে গেছেন। বুর্জোয়াদের দ্বারা স্বীকৃত আইনও গার্মেন্টস মালিকরা মানছে না। বুর্জোয়া আইনের সুবিধাগুলো থেকেও গার্মেন্টস শ্রমিকরা বঞ্চিত, বিশেষত নারী শ্রমিকরা।
সম্প্রতি পোশাকশিল্পে মজুরি বাড়ানোর দাবি নিয়ে শ্রমিক আন্দোলন চলছে দেশজুড়ে। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও চাপ আসছে। ২০০৬ সালে প্রথম পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হয়েছিল। গত ২০১০ সালে আরেক দফা বাড়ানোর পর থেকে এই বেতনকাঠামো আর বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে গার্মেন্টসে ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ৮ হাজার করার দাবি জানিয়েছেন গার্মেন্টস কর্মীরা। এদিকে গার্মেন্টস মালিকরা তা ৫ হাজার ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১০-এর জুলাই-এ যে মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে তা বিশ্বের যে কোনো দেশের চেয়ে কম। প্রতিবেশী দেশ ভারতের মজুরী প্রতি ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৮ সেন্ট। অর্থাৎ বাংলাদেশের ৩৯ টাকা থেকে ৪৮ টাকা। কিন্তু বাংলাদেশের পোশাক শিল্প শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরী প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ১৪ টাকা ৪২ পয়সা। অথচ বাংলাদেশের গার্মেন্টে মালিকদের মুনাফার হার ৪৩.১০ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় ৩১ শতাংশ, ভারতে ১১.৮ শতাংশ, ইন্দেনেশিয়ায় ১০ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৬.৫ শতাংশ, নেপালে ৪.৪ শতাংশ, এবং চীনে ৩.২ শতাংশ। এতে দেখা যায় বাংলাদেশী মালিকরা অনেক বেশি মুনাফা করলেও শ্রমিকদের সবচেয়ে কম মজুরি দেয়। আর এ কারণেই শ্রমিকরা মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শ্রমিকনেত্রী শিরিন আখতার উইমেননিউজ২৪.কম’ কে বলেন, শ্রমিকদের প্রতিটি ন্যায্য আন্দোলন দমনে প্রত্যেক সরকারই এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। বুর্জোয়া আইনে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার বিধান থাকলেও মালিকরা সে অধিকার দিচ্ছে না। ইউনিয়ন করতে গেলে বা কোনো ইউনিয়নের সাথে যুক্ত আছে জানতে পারলে সে শ্রমিককে ছাঁটাই করে। শ্রমিকদের উপর মালিকদের এই মধ্যযুগীয় শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে কোনো সরকারই কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, নিচ্ছে না। আর নারী শ্রমিকদেরতো ইউানয়ন করাই নিষেধ।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ এর ‘রিভিশন অব দ্য মিনিমাম ওয়েজ ইন দ্য আরএমজি সেক্টর ইন ২০১৩ প্রপোজালস অ্যাজ রিগার্ডস ডেফিনিশন, মেথড অব দ্য ডিটারমিনেশন এন্ড দ্য লেভেলস’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, বর্তমানে ন্যূনতম ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী সর্বসাকুল্যে একজন প্যাটার্ন মাস্টার, চিফ কোয়ালিটি কন্ট্রলার পান ৯ হাজার ৩০০ টাকা। একজন ম্যাকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান, কাটিং মাস্টার পান ৭ হাজার ২০০ টাকা, সেম্পল ম্যাকানিস্ট, সিনিয়র মেশিন অপারেটর পাচ্ছেন ৪ হাজার ২১৮ টাকা, স্যুয়িং মেশিন অপারেটর, কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর, কাটার, প্যাকার, লাইন লিডার পান ৩ হাজার ৮৬১ টাকা, জুনিয়র মেশিন অপারেটর, জুনিয়র কাটার, জুনিয়র মেকার পাচ্ছেন ৩ হাজার ৫৫৩ টাকা, অপারেটর অব জেনারেল স্যুয়িং, বাটন মেশিন পান ৩ হাজার ৩২২ টাকা, অ্যাসিসটেন্ট স্যুয়িং মেশিন অপারেটর, অ্যাসিসটেন্ট ড্রাই ওয়াশিং ম্যান, লাইন আয়রণ ম্যান ৩ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি পান দুই হাজার ৫০০ টাকা।
গার্মেন্টস শিল্পে প্রায় ৯০ শতাংশ নারী কাজ করলেও গার্মেন্টস কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ নারীই শুধুমাত্র সেলাই কাজের সাথেই জড়িত। যারা জুনিয়র বা সিনিয়র মেশিন অপারেটর হিসেবে নিয়োজিত আছেন। উচ্চপদে তাদের সাধারণত নিয়োগ দেয়া হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বেতন কাঠামো বাড়ানো হলেও এ সেক্টরের নারী শ্রমিকদের অবস্থার তেমন উন্নতি হবে না। ২০১০ সালে নতুন মজুরী কাঠামোর পর সরকার দফায় দফায় গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি করায় নিত্য পণ্যের মূল্য, বাড়ি ভাড়া, পরিবহন ভাড়া গত আড়াই বছরে দ্বিগুণ বেড়েছে। বস্তিতে ছোট এক রুমের ভাড়া ৩ হাজার টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না ঢাকা শহরে। তা-ও ৫/৭টা পরিবার মিলে এক বাথরুম, ১/২টা টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। রাত ৯/১০টায় ঘরে ফিরে রান্না করে খেয়ে রাত ১২টার আগে ঘুমাতে যাওয়ার উপায় নেই। আবার ভোর ৫টা থেকে লাইন ধরে গোসল, রান্না, খাওয়া সেরে সকাল ৮টার আগে কারখানায় পৌঁছাতে হয়। ১মিনিট লেট হলেই হাজিরা বোনাস কেটে নেয়া হয়। এরকম ঘর ভাড়া দিতেই ৩ হাজার টাকা চলে যায়। ওভার টাইমের টাকা দিয়ে সারা মাসের খাওয়া, চিকিৎসা, কাপড় ইত্যাদি খরচ চালাতে হয়। উপরন্তু মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানতো রয়েছেই। উপায়ান্তর না পেয়ে শ্রমিকরা একরুমে ৪/৫ জন গাদাগাদি করে আলো-বাতাসহীন দুর্গন্ধযুক্ত ঘরে বাস করেন। কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে অন্যদের দায়িত্ব পালন করেন। এই কারণেই শ্রমিকরা ওভার টাইম করতে চান। তারা ন্যয্য মজুরী পেলে এই অমানুষিক পরিশ্রম তারা করতেন না। শ্রমিকদের অনাবিল দাম্পত্য জীবন, বিনোদন বলতে কিছু নেই। ভাড়া বাড়িতেও শ্রমিকদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। সন্তান-ভাই-বোনদের নিয়ে বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না বাড়িওয়ালারা।
অন্যদিকে গার্মেন্টস শিল্পে যে পদগুলো রয়েছে তার মধ্যে ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী পোশাকশ্রমিকদের সর্বোচ্চ পদ প্যাটার্ন মাস্টার, চিফ কোয়ালিটি কন্ট্রলারের ন্যূনতম মজুরি ৯ হাজার ৩০০ টাকা। দ্বিতীয় পদটিতে আছেন ম্যাকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান, কাটিং মাস্টার যারা মজুরি পাচ্ছেন ৭ হাজার ২০০ টাকা। শাহ্ মখদুম গার্মেন্টসে কাজ করা গার্মেন্টস কর্মী সাথী জানান, এই পদগুলোর বেশিরভাগের দায়িত্বেই রয়েছেন পুরুষরা। নারীরা সাধাণত কাজ করছেন সিনিয়র মেশিন অপারেটর স্যুয়িং মেশিন অপারেটর, কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর, কাটার, প্যাকার, লাইন লিডার পান পাচ্ছেন জুনিয়র মেশিন অপারেটর, জুনিয়র কাটার, জুনিয়র মেকার পাচ্ছেন অপারেটর অব জেনারেল স্যুয়িং, বাটন মেশিন অ্যাসিসটেন্ট স্যুয়িং মেশিন অপারেটর, অ্যাসিসটেন্ট ড্রাই ওয়াশিং ম্যান, লাইন আয়রন ম্যান, ট্রেইনি পদগুলোতে। যারা দুই হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বেতন পান ৪ হাজার ২১৮ টাকা পর্যন্ত।
অভিযোগ রয়েছে এই অল্প পরিমান বেতন-ভাতাও তারা ঠিকমত পাচ্ছেন না। অনেক কারখানায় হাজিরা বোনাস, বিশেষ ভাতা, পারদর্শী ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিত। বর্তমানে সেগুলো কমিয়ে দেয়া হয়েছে, বেশির ভাগ কারখানায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শ্রমিকদের সর্বশেষ বেতন বাড়ানোর ছয় মাসের ব্যবধানেই ডলার মূল্যে শ্রমিকদের বেতন কমেছে। জুলাই, ’১০-এ ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৬৯ টাকা ৫০ পয়সা, কিন্তু ফেব্র“য়ারি, ’১১-তে এসে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ টাকা ১৯ পয়সা। অর্থাৎ জুলাই, ’১০-এ যে বেতন ছিল ৪৩ ডলার ছয় মাস পরেই সেটি কমে ৪২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এখন সেই ডলার ৮০ থেকে ৮২ টাকা প্রায়। এভাবে মজুরী বৃদ্ধি শ্রমিকদের কোন কাজেই লাগেনি। অন্যদিকে বিবিধভাবেই নূন্যতম মজুরী ৩ হাজার টাকা করা হলেও শ্রমিকরা অনেকেই পাচ্ছেন তারও কম। এসব অভিযোগ শ্রমিক নেতারা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ে জানালেও এর প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা সরকারপক্ষ নেয়নি।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক ছুটি, মেডিকেল ছুটি দেয়া হয় না। অসুস্থতাজনিত বা অন্য কোন অনিবার্য কারণে একদিন হাজির না থাকলেও বেতন কেটে নেয়। এবং হাজির না থাকার কারণে বেতন আটকে রাখে। স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয় না। বিশেষ কোনো কারণে কোনো শ্রমিক পরপর কয়েকদিন হাজির না থাকলে ছাঁটাই করে অথবা নতুন করে নিয়োগ দেয়, যাতে পুরনো শ্রমিকের সুবিধা (ঈদ বোনাস ইত্যাদি) ভোগ করতে না পারে। রাত ৮/১০টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য হলেও খাতায় হাজিরা তোলে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। তারা অভিযোগ করে বলেন, এটা করা হচ্ছে বিদেশী বায়ারদের চোখ ফাঁকি দেয়ার জন্য। মালিকদের ইচ্ছা-খুশিমত ছাঁটাই করা হয়, ছাঁটাই করার সময় পাওনা বেতন-ভাতা দেয়া হয় না। নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেয়া হয় না অধিকাংশ গার্মেন্টসে। প্রসবকালীন তাদের চাকরি হারাতে হয়। অধিকাংশ কারখানায় সন্তান প্রতিপালনের জন্য কোনো ডে-কেয়ার সেন্টার নেই। ৮ ঘণ্টা শ্রম দিবসের স্বীকৃতি থাকলেও গার্মেন্টস শ্রমিকদের শ্রম করতে হয় দৈনিক ১২/১৪/১৬ ঘণ্টা। এ ছাড়া হোল নাইটও করতে হয় বাধ্যতামূলক। ওভার টাইম মজুরী দ্বিগুণ করার আইন থাকলেও তা দেয়া হয় না।
গুলশানের সুমন গার্মেন্টসে কাজ করা সেলিনা জানান, তিনি বেশ কয়েক বছর কাজ করছেন পোশাকশিল্পে। যা বেতন পাচ্ছেন তা দিয়ে ঘর ভাড়া দেওয়ার পর চারশত টাকা থাকে হাতে যা দিয়ে মৌলিক কোন প্রয়োজনই মেটাতে পারেন না। বাড্ডা থেকে গুলশানে হেঁটে গিয়ে অফিসে কাজ করেন, ফেরেনও হেঁটে। তিনি জানান, উচ্চ বেতনের কাজগুলো সাধারণত পুরুষরাই করছে। নারীরা যা বেতন পান তা দিয়ে শুধুমাত্র ঘরভাড়া বা খাওয়ার খরচ ছাড়া অন্য কোন প্রয়োজন মেটানো যায় না। নারীদের অদক্ষ মনে করে উচ্চ পদগুলোতে নিয়োগ দেয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন সেলিনা। বেতন বাড়ানোর কথা বললেই ছাঁটাই করার হুমকী দেয়া হয়।
বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা হায়দার আকবর খান রনো বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই শ্রমিকদের পাঁচ শতাংশও সংগঠিত নয়। অন্যদিকে, মালিকরাও আধুনিক বুর্জোয়া হয়ে উঠতে পারেনি। তাদের মধ্যে সামন্ত মানসিকতা কাজ করে। তারা কোনভাবেই ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন মেনে নিতে রাজী নয়। তারা আদিম কায়দায় শোষণ করতে অভ্যস্ত ও স্বভাবগতভাবে লুটেরা চরিত্রের। তিনি আরও বলেন, এ কারণে গার্মেন্টস শিল্পে শোষণের হারও বেশি, কারখানার পরিবেশও অমানবিক ও অস্বাস্থ্যকর। ফলে স্বাভাবিক ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন বিকশিত না হয়ে বার বার স্বতঃস্ফর্ত অভূত্থান ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিক অঙ্গণ যে আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তা কোন অস্বাভাবিক ও নতুন ঘটনা নয়।
৭ অক্টোবর’২০১৩
ঢাকা : পঞ্চগড়ের সাথী। বয়স ২০ বছর। মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার শাহ্মখদুম গার্মেন্টসে। প্রতিদিন ৮ ঘন্টা কাজ করতে হয় তাকে। মাসে সর্বসাকুল্যে আয় মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা। মালিবাগেই একটি বাসায় তিন বোন মিলে সাবলেটে ছোট্ট একটি রুমে গাদাগাদি করে থাকেন। বেতনের টাকা থেকেই তাকে দিতে হয় ঘরভাড়ার দুই হাজার টাকা, খাওয়ার খরচ, পোশাকসহ যাবতীয় খরচ। অল্প আয়ের কারণে স্বামী পরিত্যক্তা সাথী একমাত্র সন্তানকে দিয়ে রেখেছেন বাবার বাড়িতে। বেতন বাড়লে বাবা-মাকে সাহায্য করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
শুধু সাথীই নয়, পোশাকশিল্পের প্রতিটি নারী শ্রমিকের জীবনচিত্র একই। গত শতাব্দীর ’৮০-র দশক থেকে শুরু হওয়া গার্মেন্টস শিল্পের রাতারাতি এতটাই বিকাশ হয় যে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গার্মেন্ট শিল্প গড়ে উঠেছে। বিজিএমইএ সূত্র মতে তাদের তালিকাভুক্ত গার্মেন্টসের সংখ্যাই ৫ হাজার ৬শ’। তাতে শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ৪০ লক্ষ। ছোট-বড় মিলিয়ে আরো অনেক বেশি গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। এই শ্রমিকদের শতকরা ৯০ জনই নারী শ্রমিক এবং এদের গড় বয়স ১৭ বছর। এই খাত থেকে সরকার বছরের সর্বোচ্চ বৈদেশীক মুদ্রা অর্জন করছে যার প্রায় শতভাগই নারী শ্রমিকদের অবদান। কিন্তু বদলায়নি তাদের ভাগ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্রাজ্যবাদের সস্তা শ্রম লুণ্ঠন এবং মালিকদের অতি মুনাফা অর্জনের যাঁতাকলে শ্রমিকরা পিষ্ট হচ্ছেন। রাষ্ট্রের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শতকরা ৭৬ ভাগ আসে এই গার্মেন্টস শিল্প থেকে। কিন্তু শ্রমিকদের জীবন চলে নির্মম দুর্বিসহ অবস্থায়। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থায় শ্রমিকদের দৈন্যদশা পৃথিবীর দেশে দেশে থাকলেও বাংলাদেশের শ্রমিকদের, বিশেষতঃ গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিকরা প্রায় মধ্যযুগীয় দাস প্রথার মধ্যেই রয়ে গেছেন। বুর্জোয়াদের দ্বারা স্বীকৃত আইনও গার্মেন্টস মালিকরা মানছে না। বুর্জোয়া আইনের সুবিধাগুলো থেকেও গার্মেন্টস শ্রমিকরা বঞ্চিত, বিশেষত নারী শ্রমিকরা।
সম্প্রতি পোশাকশিল্পে মজুরি বাড়ানোর দাবি নিয়ে শ্রমিক আন্দোলন চলছে দেশজুড়ে। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও চাপ আসছে। ২০০৬ সালে প্রথম পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হয়েছিল। গত ২০১০ সালে আরেক দফা বাড়ানোর পর থেকে এই বেতনকাঠামো আর বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে গার্মেন্টসে ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ৮ হাজার করার দাবি জানিয়েছেন গার্মেন্টস কর্মীরা। এদিকে গার্মেন্টস মালিকরা তা ৫ হাজার ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১০-এর জুলাই-এ যে মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে তা বিশ্বের যে কোনো দেশের চেয়ে কম। প্রতিবেশী দেশ ভারতের মজুরী প্রতি ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৮ সেন্ট। অর্থাৎ বাংলাদেশের ৩৯ টাকা থেকে ৪৮ টাকা। কিন্তু বাংলাদেশের পোশাক শিল্প শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরী প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ১৪ টাকা ৪২ পয়সা। অথচ বাংলাদেশের গার্মেন্টে মালিকদের মুনাফার হার ৪৩.১০ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় ৩১ শতাংশ, ভারতে ১১.৮ শতাংশ, ইন্দেনেশিয়ায় ১০ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৬.৫ শতাংশ, নেপালে ৪.৪ শতাংশ, এবং চীনে ৩.২ শতাংশ। এতে দেখা যায় বাংলাদেশী মালিকরা অনেক বেশি মুনাফা করলেও শ্রমিকদের সবচেয়ে কম মজুরি দেয়। আর এ কারণেই শ্রমিকরা মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শ্রমিকনেত্রী শিরিন আখতার উইমেননিউজ২৪.কম’ কে বলেন, শ্রমিকদের প্রতিটি ন্যায্য আন্দোলন দমনে প্রত্যেক সরকারই এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। বুর্জোয়া আইনে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার বিধান থাকলেও মালিকরা সে অধিকার দিচ্ছে না। ইউনিয়ন করতে গেলে বা কোনো ইউনিয়নের সাথে যুক্ত আছে জানতে পারলে সে শ্রমিককে ছাঁটাই করে। শ্রমিকদের উপর মালিকদের এই মধ্যযুগীয় শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে কোনো সরকারই কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, নিচ্ছে না। আর নারী শ্রমিকদেরতো ইউানয়ন করাই নিষেধ।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ এর ‘রিভিশন অব দ্য মিনিমাম ওয়েজ ইন দ্য আরএমজি সেক্টর ইন ২০১৩ প্রপোজালস অ্যাজ রিগার্ডস ডেফিনিশন, মেথড অব দ্য ডিটারমিনেশন এন্ড দ্য লেভেলস’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, বর্তমানে ন্যূনতম ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী সর্বসাকুল্যে একজন প্যাটার্ন মাস্টার, চিফ কোয়ালিটি কন্ট্রলার পান ৯ হাজার ৩০০ টাকা। একজন ম্যাকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান, কাটিং মাস্টার পান ৭ হাজার ২০০ টাকা, সেম্পল ম্যাকানিস্ট, সিনিয়র মেশিন অপারেটর পাচ্ছেন ৪ হাজার ২১৮ টাকা, স্যুয়িং মেশিন অপারেটর, কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর, কাটার, প্যাকার, লাইন লিডার পান ৩ হাজার ৮৬১ টাকা, জুনিয়র মেশিন অপারেটর, জুনিয়র কাটার, জুনিয়র মেকার পাচ্ছেন ৩ হাজার ৫৫৩ টাকা, অপারেটর অব জেনারেল স্যুয়িং, বাটন মেশিন পান ৩ হাজার ৩২২ টাকা, অ্যাসিসটেন্ট স্যুয়িং মেশিন অপারেটর, অ্যাসিসটেন্ট ড্রাই ওয়াশিং ম্যান, লাইন আয়রণ ম্যান ৩ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি পান দুই হাজার ৫০০ টাকা।
গার্মেন্টস শিল্পে প্রায় ৯০ শতাংশ নারী কাজ করলেও গার্মেন্টস কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ নারীই শুধুমাত্র সেলাই কাজের সাথেই জড়িত। যারা জুনিয়র বা সিনিয়র মেশিন অপারেটর হিসেবে নিয়োজিত আছেন। উচ্চপদে তাদের সাধারণত নিয়োগ দেয়া হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বেতন কাঠামো বাড়ানো হলেও এ সেক্টরের নারী শ্রমিকদের অবস্থার তেমন উন্নতি হবে না। ২০১০ সালে নতুন মজুরী কাঠামোর পর সরকার দফায় দফায় গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি করায় নিত্য পণ্যের মূল্য, বাড়ি ভাড়া, পরিবহন ভাড়া গত আড়াই বছরে দ্বিগুণ বেড়েছে। বস্তিতে ছোট এক রুমের ভাড়া ৩ হাজার টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না ঢাকা শহরে। তা-ও ৫/৭টা পরিবার মিলে এক বাথরুম, ১/২টা টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। রাত ৯/১০টায় ঘরে ফিরে রান্না করে খেয়ে রাত ১২টার আগে ঘুমাতে যাওয়ার উপায় নেই। আবার ভোর ৫টা থেকে লাইন ধরে গোসল, রান্না, খাওয়া সেরে সকাল ৮টার আগে কারখানায় পৌঁছাতে হয়। ১মিনিট লেট হলেই হাজিরা বোনাস কেটে নেয়া হয়। এরকম ঘর ভাড়া দিতেই ৩ হাজার টাকা চলে যায়। ওভার টাইমের টাকা দিয়ে সারা মাসের খাওয়া, চিকিৎসা, কাপড় ইত্যাদি খরচ চালাতে হয়। উপরন্তু মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানতো রয়েছেই। উপায়ান্তর না পেয়ে শ্রমিকরা একরুমে ৪/৫ জন গাদাগাদি করে আলো-বাতাসহীন দুর্গন্ধযুক্ত ঘরে বাস করেন। কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে অন্যদের দায়িত্ব পালন করেন। এই কারণেই শ্রমিকরা ওভার টাইম করতে চান। তারা ন্যয্য মজুরী পেলে এই অমানুষিক পরিশ্রম তারা করতেন না। শ্রমিকদের অনাবিল দাম্পত্য জীবন, বিনোদন বলতে কিছু নেই। ভাড়া বাড়িতেও শ্রমিকদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। সন্তান-ভাই-বোনদের নিয়ে বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না বাড়িওয়ালারা।
অন্যদিকে গার্মেন্টস শিল্পে যে পদগুলো রয়েছে তার মধ্যে ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী পোশাকশ্রমিকদের সর্বোচ্চ পদ প্যাটার্ন মাস্টার, চিফ কোয়ালিটি কন্ট্রলারের ন্যূনতম মজুরি ৯ হাজার ৩০০ টাকা। দ্বিতীয় পদটিতে আছেন ম্যাকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান, কাটিং মাস্টার যারা মজুরি পাচ্ছেন ৭ হাজার ২০০ টাকা। শাহ্ মখদুম গার্মেন্টসে কাজ করা গার্মেন্টস কর্মী সাথী জানান, এই পদগুলোর বেশিরভাগের দায়িত্বেই রয়েছেন পুরুষরা। নারীরা সাধাণত কাজ করছেন সিনিয়র মেশিন অপারেটর স্যুয়িং মেশিন অপারেটর, কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর, কাটার, প্যাকার, লাইন লিডার পান পাচ্ছেন জুনিয়র মেশিন অপারেটর, জুনিয়র কাটার, জুনিয়র মেকার পাচ্ছেন অপারেটর অব জেনারেল স্যুয়িং, বাটন মেশিন অ্যাসিসটেন্ট স্যুয়িং মেশিন অপারেটর, অ্যাসিসটেন্ট ড্রাই ওয়াশিং ম্যান, লাইন আয়রন ম্যান, ট্রেইনি পদগুলোতে। যারা দুই হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বেতন পান ৪ হাজার ২১৮ টাকা পর্যন্ত।
অভিযোগ রয়েছে এই অল্প পরিমান বেতন-ভাতাও তারা ঠিকমত পাচ্ছেন না। অনেক কারখানায় হাজিরা বোনাস, বিশেষ ভাতা, পারদর্শী ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিত। বর্তমানে সেগুলো কমিয়ে দেয়া হয়েছে, বেশির ভাগ কারখানায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শ্রমিকদের সর্বশেষ বেতন বাড়ানোর ছয় মাসের ব্যবধানেই ডলার মূল্যে শ্রমিকদের বেতন কমেছে। জুলাই, ’১০-এ ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৬৯ টাকা ৫০ পয়সা, কিন্তু ফেব্র“য়ারি, ’১১-তে এসে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ টাকা ১৯ পয়সা। অর্থাৎ জুলাই, ’১০-এ যে বেতন ছিল ৪৩ ডলার ছয় মাস পরেই সেটি কমে ৪২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এখন সেই ডলার ৮০ থেকে ৮২ টাকা প্রায়। এভাবে মজুরী বৃদ্ধি শ্রমিকদের কোন কাজেই লাগেনি। অন্যদিকে বিবিধভাবেই নূন্যতম মজুরী ৩ হাজার টাকা করা হলেও শ্রমিকরা অনেকেই পাচ্ছেন তারও কম। এসব অভিযোগ শ্রমিক নেতারা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ে জানালেও এর প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা সরকারপক্ষ নেয়নি।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক ছুটি, মেডিকেল ছুটি দেয়া হয় না। অসুস্থতাজনিত বা অন্য কোন অনিবার্য কারণে একদিন হাজির না থাকলেও বেতন কেটে নেয়। এবং হাজির না থাকার কারণে বেতন আটকে রাখে। স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয় না। বিশেষ কোনো কারণে কোনো শ্রমিক পরপর কয়েকদিন হাজির না থাকলে ছাঁটাই করে অথবা নতুন করে নিয়োগ দেয়, যাতে পুরনো শ্রমিকের সুবিধা (ঈদ বোনাস ইত্যাদি) ভোগ করতে না পারে। রাত ৮/১০টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য হলেও খাতায় হাজিরা তোলে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। তারা অভিযোগ করে বলেন, এটা করা হচ্ছে বিদেশী বায়ারদের চোখ ফাঁকি দেয়ার জন্য। মালিকদের ইচ্ছা-খুশিমত ছাঁটাই করা হয়, ছাঁটাই করার সময় পাওনা বেতন-ভাতা দেয়া হয় না। নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেয়া হয় না অধিকাংশ গার্মেন্টসে। প্রসবকালীন তাদের চাকরি হারাতে হয়। অধিকাংশ কারখানায় সন্তান প্রতিপালনের জন্য কোনো ডে-কেয়ার সেন্টার নেই। ৮ ঘণ্টা শ্রম দিবসের স্বীকৃতি থাকলেও গার্মেন্টস শ্রমিকদের শ্রম করতে হয় দৈনিক ১২/১৪/১৬ ঘণ্টা। এ ছাড়া হোল নাইটও করতে হয় বাধ্যতামূলক। ওভার টাইম মজুরী দ্বিগুণ করার আইন থাকলেও তা দেয়া হয় না।
গুলশানের সুমন গার্মেন্টসে কাজ করা সেলিনা জানান, তিনি বেশ কয়েক বছর কাজ করছেন পোশাকশিল্পে। যা বেতন পাচ্ছেন তা দিয়ে ঘর ভাড়া দেওয়ার পর চারশত টাকা থাকে হাতে যা দিয়ে মৌলিক কোন প্রয়োজনই মেটাতে পারেন না। বাড্ডা থেকে গুলশানে হেঁটে গিয়ে অফিসে কাজ করেন, ফেরেনও হেঁটে। তিনি জানান, উচ্চ বেতনের কাজগুলো সাধারণত পুরুষরাই করছে। নারীরা যা বেতন পান তা দিয়ে শুধুমাত্র ঘরভাড়া বা খাওয়ার খরচ ছাড়া অন্য কোন প্রয়োজন মেটানো যায় না। নারীদের অদক্ষ মনে করে উচ্চ পদগুলোতে নিয়োগ দেয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন সেলিনা। বেতন বাড়ানোর কথা বললেই ছাঁটাই করার হুমকী দেয়া হয়।
বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা হায়দার আকবর খান রনো বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই শ্রমিকদের পাঁচ শতাংশও সংগঠিত নয়। অন্যদিকে, মালিকরাও আধুনিক বুর্জোয়া হয়ে উঠতে পারেনি। তাদের মধ্যে সামন্ত মানসিকতা কাজ করে। তারা কোনভাবেই ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন মেনে নিতে রাজী নয়। তারা আদিম কায়দায় শোষণ করতে অভ্যস্ত ও স্বভাবগতভাবে লুটেরা চরিত্রের। তিনি আরও বলেন, এ কারণে গার্মেন্টস শিল্পে শোষণের হারও বেশি, কারখানার পরিবেশও অমানবিক ও অস্বাস্থ্যকর। ফলে স্বাভাবিক ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন বিকশিত না হয়ে বার বার স্বতঃস্ফর্ত অভূত্থান ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিক অঙ্গণ যে আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তা কোন অস্বাভাবিক ও নতুন ঘটনা নয়।
৭ অক্টোবর’২০১৩
- টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে ফিফা
- ভারতে ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন বাড়ছে, আন্দোলনে সংসদ অচল
- দেশের ৮ অঞ্চলে রাতে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো বৃষ্টির আভাস
- হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
- ১৮ বছরেই চলে গেলেন ‘গডজিলা’ তারকা কাইলি
- হেনা দাস: অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম
- সাহারা মরুভূমি পাড়ি দেওয়া থেকে ইয়ামাল ও নিকোর বিশ্বজয়
- ঢাকাসহ সারা দেশে টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস
- জামায়াত এমপির ড্রাইভারের নিরাপত্তা ইস্যুতে নীলার পোস্ট
- খরচ কমলো হজের, সর্বনিম্ন ব্যয় ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা
- জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার
- ফাইনালে মারামারি: তদন্ত শুরু করল ফিফা
- সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল
- বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ২৬তম
- তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই
- ফাইনালে মারামারি: তদন্ত শুরু করল ফিফা
- জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার
- জামায়াত এমপির ড্রাইভারের নিরাপত্তা ইস্যুতে নীলার পোস্ট
- সৈকতের নীল জলে মুগ্ধতা ছড়ালেন কেয়া পায়েল
- সাহারা মরুভূমি পাড়ি দেওয়া থেকে ইয়ামাল ও নিকোর বিশ্বজয়
- রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত
- ১৮ বছরেই চলে গেলেন ‘গডজিলা’ তারকা কাইলি
- হেনা দাস: অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম
- পুষ্টিগুণে ভরপুর স্বাস্থ্যকর খাবার পটল
- সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল
- তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই
- তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ
- খরচ কমলো হজের, সর্বনিম্ন ব্যয় ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা
- বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ২৬তম
- ঢাকাসহ সারা দেশে টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস










