ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ১:৩৬:২৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সারা দেশে অবাধে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ নিবন্ধন নারী, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিষয়ে ১০ দফা সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ ইরানের পরিস্থিতি খারাপ হলে কঠোর হবে তুরস্ক

ঘোষিত সময়ের মধ্যে হাদি হত্যার অভিযোগপত্র: ডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৫৬ এএম, ৩ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র পূর্বঘোষিত সময়ের মধ্যে দেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়া নানা ভিডিও–তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানায় তারা। আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ডিএমপি।

হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের অবস্থান ও তার দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সম্পর্কে নানামূখী কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ তার মোবাইল ফোনের অবস্থান ঢাকার ডিওএইচএস এলাকায় ঊর্ধ্বতন এক সেনা কর্মকর্তার বাসায় বলেও প্রচার হয়েছে।

আবার ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে ফয়সাল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কাদের সহায়তায় দেশ ছেড়েছেন সে বিষয়ে নাম–তারিখ উল্লেখ করে নিজের মতো করে বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে ভিডিওটি আসল নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা–তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এই অবস্থায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বলছে, তারা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে আসা দাবি, তথ্যও খতিয়ে দেখছে।

শুক্রবার আবার শাহবাগে জমায়েত হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে। সেখান থেকে হাদি হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি পুনঃব্যক্ত করা হয়েছে। তারা সরকারকে ৩০ দিনের সময়ও বেধে দিয়েছে।

ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কিছু দেখেছি, শুনছি। ভয়েস রেকর্ড বা অন্য যা কিছু আছে–তা আমরা যাচাই করে দেখছি। তবে আমাদের তদন্ত নিজস্ব ধারায় এগোচ্ছে।’ তিনি বলেন, অভিযুক্ত ফয়সালের অবস্থান সম্পর্কে যেসব স্থানের কথা বলা হচ্ছে, সেসব জায়গায় না গিয়ে এভাবে নিশ্চিত করে বলা যাবে না, প্রকৃত সত্যটা কী। হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট পূর্বঘোষিত সময়ের মধ্যেই দেওয়ার জন্য কাজ চলছে বলেও জানান ডিবিপ্রধান।

ফয়সালের নামে ছড়ানো সর্বশেষ ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, দুবাইয়ের শারজাহতে অবস্থান করছেন তিনি। তাকে দেশ ছাড়তে সহায়তা করেন র‌্যাব–২ এর এসএসআই তুষার ও র‌্যাবের সোর্স কাওছার মোল্লা। তবে তাদের গতিবিধির কারণে ফয়সালের সন্দেহ হয়, ওই দুজন হাদি হত্যায় জড়িত থাকতে পারেন।

অবশ্য র‌্যাব–২ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, তুষার নামে কোনো সদস্য তাদের ব্যাটালিয়নে নেই। আর কাওছার মোল্লার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

আবার প্রবাস থেকে পরিচালিত একটি ফেসবুক পেজ থেকে দাবি করা হয়, ফয়সালের মোবাইল ফোনের লোকেশন ডিওএইচএস (সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক এলাকা) এলাকায় একটি বাসায় পাওয়া গেছে। তবে কোন ডিওএইচএস তা উল্লেখ করা হয়নি। ঢাকায় একাধিক ডিওএইচএস আছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে পেজটি থেকে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে তা ভেরিফাইড বা অনুমোদিত পেজ না হওয়ায় তথ্যের উৎস নিয়ে সন্দেহ থাকাটা স্বাভাবিক। সেইসঙ্গে প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল ফরেনসিকের মানদণ্ডে শুধুমাত্র কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে একটি নির্দিষ্ট বাসা শনাক্ত করা সম্ভব নয় বলে জানান তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, একটি মোবাইল টাওয়ার যখন সিগন্যাল দেয়, তা একটি নির্দিষ্ট জ্যামিতিক এলাকাজুড়ে থাকে। শহর এলাকায় একটি টাওয়ারের কাভারেজ সাধারণত ৩০০ মিটার থেকে ১ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ডিওএইচএসের মতো উচ্চ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই সীমানার মধ্যে কয়েক শত বহুতল ভবন এবং কয়েক হাজার ফ্ল্যাট থাকে। সিডিআর ডেটা কেবল এটি নিশ্চিত করে যে ব্যবহারকারী ওই টাওয়ারের সীমানার কোথাও ছিলেন। কিন্তু সেটি কোন বাড়ির কোন কক্ষে–এই প্রক্রিয়ায় তা বলা সম্ভব নয়।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট রোডে চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে আসা দুজন তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ফুটেজ দেখে গুলি ছোড়া ব্যক্তিকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ বলে শনাক্ত করেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। আর ওই সময় মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ। গুলির ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে তারা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া–হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান।

ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন হাদি। ঘটনার দিন প্রচারণা চালানোর পর তাকে গুলি করা হয়। তাকে হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।