ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:২৭:০৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

ডিমের বাজারে আগুন, দামে লাগাম নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:২৯ পিএম, ২৩ মে ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

হঠাৎ করেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেড়ে গেছে ডিমের দাম। কয়েকদিন আগেও প্রতি ডজন ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন খোলা বাজারে তা ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় পৌঁছেছে। কোথাও কোথাও আরও বেশি দামেও বিক্রি হচ্ছে। এতে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, মালিবাগ, শেওড়াপাড়া ও যাত্রাবাড়ী এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানভেদে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ টাকায়। অনেক ক্রেতা অভিযোগ করছেন, প্রতিদিনই একটু একটু করে দাম বাড়ছে।

মগবাজারের বাসিন্দা গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, “মাছ-মাংসের দাম আগে থেকেই বেশি। তাই সংসারে ডিমই ছিল ভরসা। এখন ডিমও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, তীব্র গরমে খামারগুলোতে মুরগির উৎপাদন কমে গেছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেক মুরগি কম ডিম দিচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও মুরগি মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ফলে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের এক ডিম ব্যবসায়ী বলেন, “গরমে ফার্ম থেকে ডিম কম আসছে। খামারিরা বলছে, মুরগি ঠিকমতো খাবার খাচ্ছে না। উৎপাদন কমে গেছে। তাই পাইকারিতেই দাম বেড়ে গেছে।”

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও বলছেন, তাপপ্রবাহের প্রভাব এবার পোলট্রি খাতে স্পষ্টভাবে পড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মুরগির খাদ্য, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি।

পোলট্রি খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ভুট্টা, সয়াবিন মিল ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। খামার টিকিয়ে রাখতে অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে ডিম বিক্রি করছেন।

তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, উৎপাদন কমার অজুহাতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে কৃত্রিম সংকটও তৈরি করছেন। তারা বলছেন, বাজার মনিটরিং দুর্বল হওয়ায় সুযোগ নিচ্ছে একটি চক্র।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, ডিম এখন আর শুধু প্রোটিন নয়, সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী খাবারের অন্যতম উৎস। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজার তদারকি বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি খামারিদের উৎপাদন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

তবে সাধারণ ক্রেতাদের প্রশ্ন একটাই—যে ডিম একসময় গরিবের প্রোটিন হিসেবে পরিচিত ছিল, সেটিও যদি নাগালের বাইরে চলে যায়, তাহলে স্বস্তি মিলবে কোথায়?