দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নারী ডাক্তার কাদম্বিনীর জন্মদিন আজ
আশীস কুমার দে | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০১:৩৭ পিএম, ১৮ জুলাই ২০২১ রবিবার
দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নারী ডাক্তার কাদম্বিনী দেবী
দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নারী চিকিৎসক কাদম্বিনী বসু। তার পৈতৃকনিবাস বাংলাদেশের বরিশালে। ইউরোপীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে শিক্ষিত এই মহিয়সী নারী বৈবাহিকসূত্রে গাঙ্গুলী (গঙ্গোপাধ্যায়) উপাধি পেয়ে কাদম্বিনী বসু থেকে হয়ে যান কাদম্বিনি গাঙ্গুলী এবং পরবর্তী সময়ে এই নামেই দুনিয়াজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন।
তিনি শুধু দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নারী চিকিৎসকই নন; ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম যে দু’জন নারী স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তাদেরই একজন কাদম্বিনী গাঙ্গুলী, অপরজন চন্দ্রমুখী বসু। আজ তার জন্মদিন। ১৮৬১ সালের ১৮ জুলাই বাবার কর্মস্থল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বিহার রাজ্যের ভাগলপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কাদম্বিনীর বাবা ব্রজকিশোর বসু ভাগলপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
কাদম্বিনী বসু ও চন্দ্রমুখী বসু-দু’জনেই ১৮৮৩ সালে কোলকাতার বেথুন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর কাদম্বিনী দেবী সিদ্ধান্ত নেন, তিনি ডাক্তারি পড়বেন। ওই বছর (১৮৮৩) সালে মেডিকেল কলেজে ঢোকার পরপরই শিক্ষক ৩৯ বছর বয়সী দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীকে বিয়ে করেন। এরপর স্বামীর বংশীয় উপাধি ধারণ করে ‘কাদম্বিনী বসু’ থেকে হয়ে যান ‘কাদম্বিনী গাঙ্গুলী’।
দ্বারকানাথ গাঙ্গুলী বিখ্যাত সমাজসংস্কারক ও মানবদরদী সাংবাদিক হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। কাদম্বিনীকে বিয়ের সময় বিপত্নীক ছিলেন দ্বারকানাথ। অন্যদিকে কাদম্বিনীর বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর।
কাদম্বিনী ১৮৮৬ সালে গ্রাজুয়েট অব বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ (জিবিএমসি) ডিগ্রি অর্জন করেন। কাদম্বিনী ছিলেন প্রথম ভারতীয় নারী, যিনি পাশ্চাত্য চিকিৎসারীতিতে চিকিৎসা করার অনুমতি পান। মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নকালে তিনি সরকারের স্কলারশিপ পান; যা ছিল মাসে ২০ টাকা।
তিনি পাঁচ বছর মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করার পর বিলেত যাবার আগে ১৮৮৮ সালে কিছুদিন লেডি ডাফরিন মহিলা হাসপাতালে মাসিক ৩০০ টাকা বেতনে চাকরি করেন।
১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে মুম্বাই (তৎকালীন বোম্বে) শহরে কংগ্রেসের পঞ্চম অধিবেশনে প্রথম যে ছয়জন নারী প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন কাদম্বিনী। পরের বছর তিনি কলকাতায় কংগ্রেসের ষষ্ঠ অধিবেশনে বক্তব্য রেখে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। কংগ্রেসের প্রথম নারী বক্তাও ছিলেন তিনি।
কাদম্বিনী দেবী গান্ধীজীর (মহাত্মা করমচাঁদ গান্ধী) সহকর্মী হেনরি পোলক প্রতিষ্ঠিত ট্রানসভাল ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতি এবং ১৯০৭ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত নারী সম্মেলনে প্রতিনিধি সদস্য ছিলেন। ১৯১৪ সালে তিনি কলকাতায় সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজের অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
শ্রমিকদের বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের প্রতি সহানুভুতিশীল ছিলেন কাদম্বিনী দেবী। এ কারণে চা বাগানের শ্রমিকদের শোষণের বিষয়ে অবগত ছিলেন তিনি এবং এ ক্ষেত্রে স্বামী দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীর দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করতে; যিনি আসামের চা বাগানের কাজে নারী শ্রমিকদের নিয়োগ ও তাদের শ্রমের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর নিন্দা জানিয়েছিলেন।
কাদম্বিনীর শ্রমিকবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে সরকার ১৯২২ সালে তাকে বিহার এবং ওড়িশার নারীশ্রমিকদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা সরজমিনে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিল। এ কাজে কবি কামিনী রায়ের সঙ্গে তাকে নিযুক্ত করেছিল সরকার।
সামাজিক বাধা:
এতো গুণের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কাদম্বিনী হিন্দু রক্ষণশীল সমাজের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। ১৮৯১ সালে রক্ষণশীল বাংলা পত্রিকা বঙ্গবাসী তাকে পরোক্ষভাবে ‘বেশ্যা’ আখ্যা দিয়েছিল। এর প্রতিবাদে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন কাদম্বিনী দেবী। মামলার রায়ে বঙ্গবাসী পত্রিকার সম্পাদক মহেশচন্দ্র পালকে ১০০ টাকা জরিমানা এবং ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত।
জন্মদিনে বাংলা মায়ের সূর্যসন্তান ক্ষণজন্মা কাদম্বিনীর কর্মবহুল অমর স্মৃতির প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা।
- যেসব নতুন নিয়ম দেখা যাবে এবারের বিশ্বকাপে
- ১৪ বছরের অগাস্টিনার হত্যায় ক্ষোভে ফুঁসছে আর্জেন্টিনা
- পিতা-মাতার সুরক্ষা আইন: বাবা-মায়ের ভরসা নাকি কাগুজে অধিকার?
- কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত
- রামিসা ধ*র্ষণ-হত্যা মামলার রায় ৭ জুন
- শুনানিতে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্নার উদ্ভট আচরণ, পরে কান্না
- রামিসা হত্যা মামলা: সোহেল-স্বপ্নার ফাঁসি দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
- কারামুক্ত হয়ে সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আইভী
- সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ: ১০ বছর পর বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল
- বরিশাল জাদুঘর: অবহেলায় ঝুঁকিতে দুই শতকের ঐতিহ্য
- অস্বাস্থ্যকর ঢাকার বাতাস, দূষণ তালিকায় ১১
- যেসব জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে
- রামিসা হত্যা মামলা: রায়ের দিন নির্ধারণ হতে পারে আজ
- সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার
- ইউএনজিএ নির্বাচনে জয় ১৭ কোটি বাংলাদেশির: শামা
- মায়ের মরদেহে পচন, যুগ্ম-সচিব ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
- নারীদের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে নিগার-তৃষ্ণার উন্নতি
- এবার বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম
- নিলামে উঠছে পেলের প্রথম বিশ্বকাপ জার্সি
- ইউএনজিএ নির্বাচনে জয় ১৭ কোটি বাংলাদেশির: শামা
- হায় জীবন, মায়ের মরদেহের পাশে পচে যায় মানবিকতা!
- নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিগগিরই দেশব্যাপী কর্মসূচি
- ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে
- রামিসা হত্যা মামলা: আত্মপক্ষ সমর্থন শেষ, যুক্তিতর্ক কাল
- এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল
- সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ
- মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট
- খানজাহান আলী (রহ:) মাজারের দিঘির কুমিরটি সরিয়ে নেয়া হবে
- হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো
- সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার


