দিনাজপুরে মোগল সম্রাট সুজার দুর্গ বিলুপ্তিরপথে
নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৮:০৮ পিএম, ২৫ জুন ২০২৪ মঙ্গলবার
প্রতীকী ছবি
দিনাজপুর জেলার ঐতিহাসিক স্থান মোগল সম্রাটের ঘোড়াঘাট পরগনার ঘোড়াশালসহ ঐতিহাসিক নিদর্শন সম্রাট সুজার দুর্গ বিলুপ্তির পথে। সরকারি হস্তক্ষেপে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।
সম্প্রতি এ ঐতিহাসিক মোগল সম্রাটের ঘোড়াঘাট পরগনার দুর্গ ও ঐতিহাসিক ঘোড়াশালা পরিদর্শন করেছেন, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ ও পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদ। জেলা প্রশাসক এ ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য একটি পদক্ষেপ গ্রহণে আশ্বস্ত করেছেন।
প্রাথমিকভাবে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে ঘোড়াঘাট দুর্গের ও ঘোড়াশালার স্থান এবং ঘোড়া পালনের পরীখা খনন স্থানসহ সামগ্রিক বিষয় পরিমাপ অনুসন্ধান করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক বলেছেন, সম্রাট সুজার তৈরি করা মসজিদটিতে এখন আর নামাজ পড়া হয়না, এটি ভাঙ্গা মসজিদ নামে ওই এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে। ওই মসজিদটি যাতে নামাজ পড়া শুরু হয়, সে বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করবেন।
জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনের পর সম্রাট সুজার মসজিদের সামনের দিকে একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে।
জনশ্রুতি রয়েছে, মোগল সম্রাটের ঘোড়া পালন ও যুদ্ধবিদ্যা প্রশিক্ষণের জন্য ঘোড়াঘাট পরগনা করতোয়া নদীর ধারে প্রায় সাড়ে ৩ শ একর জমিতে তৎকালীন এ পরীখা ও ঘোড়াশাল প্রতিষ্ঠিত করা হয়। ঘোড়াশালের তিন দিক পরীখা খনন করে উঁচু মাটির নিরাপদ বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়। বেষ্টনী দিয়ে পরীখা খনন করে জলাশয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কালের পরিক্রমায় বিভিন্ন ভাবে বহিরাগত ব্যক্তিদের ঘোড়াঘাট উপজেলায় আগমন ঘটে।
পরিত্যক্ত ঘোড়াশালায় গড়ে উঠেছে একাধিক বহিরাগত লোকদের বসত বাড়ি।
এছাড়া এলাকার কিছু সুবিধা ভোগী ব্যক্তিরা ঘোড়াশালার মাটির প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট উঁচু বেষ্টনীর মাটি বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করে তার আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। ঘোড়াশালার বেষ্টনীর নিচে পরীখা ভরাট করে বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদসহ বসত বাড়ি নির্ণয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
নতুন প্রজন্মের তরুণেরা জানতেই পারছেন না, এ ঘোড়াঘাট পরগনার মোগল সম্রাটের ঘোড়াশাল ও সম্রাট সুজার ঐতিহাসিক দুর্গ এবং তার নির্মিত এ কথিত ভাঙ্গা মসজিদের ইতিহাস।
ঘোড়াঘাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ আলী মন্ডল বলেন, এ ঐতিহাসিক দুর্গ রক্ষায়, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর, করতোয়া নদীর তীর রক্ষা বাধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ফলে মোগল সম্রাটের ঘোড়াশালা অরক্ষিত ছিল। গত বিএনপির-জামাত জোট সরকার আমলে ওই বাঁধের উপরে ছিল বিভিন্ন ধরনের আকাশমনি, মেহগনিসহ অনেক মূল্যবান গাছের সারিবদ্ধ।
২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে লুটেরারা গাছগুলো কর্তন করে লুট করে নিয়ে যায়। এরপর শুরু হয় ওই করতোয়া নদীর তীর রক্ষা বাধ কেটে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজ। এভাবেই ভূমিদস্যুদের হাতে বিলীন হয়ে যায় তীর রক্ষা বাঁধ এবং ওই বাঁধের উপরে সারিবদ্ধ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান গাছ।
এখন ধ্বংসের প্রান্তে মোগল সম্রাট ঘোড়াশালা কিছু অংশ ভেঙ্গে নদীতে গেছে। তীর রক্ষা বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ঘোড়া শালের অনেক অংশই ভাঙ্গন ধরে নদীর দিকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারের দপ্তরকে সরজমিন পরিদর্শন করে এ ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণের দাবি জানান।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সংরক্ষিত গেজেটিয়ারে পাওয়া যায়, মোঘল সম্রাটের শাসনকার্য বিস্তারে ২৪টি পরগনার মধ্যে ঘোড়াঘাট একটি পরগনা। সে সময় এ পরগণায় ঘোড়াঘাট সরকার চালু করে সমগ্র উত্তর অঞ্চল শাসন ব্যবস্থা বিস্তারিত ছিল। মোগল সম্রাটের শাসনামলে রাজধানীকে শক্রর হাত হতে রক্ষা করার জন্য পার্বতীপুর থানার হাবড়া গ্রামে একটা দূর্গ এবং দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত রক্ষার্থে ঘোড়াঘাটে আর একটি কেন্দ্রীয় দুূর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই পরগনার দুর্গ থেকেই দিনাজপুর তথা উত্তরাঞ্চল শাসন কার্য পরিচালিত হতো।
সংরক্ষিত তথ্য ও জনশ্রুতি অনুযায়ী, সম্রাট সুজার শাসনা আমল সমাপ্তির পর ব্রিটিশ শাসনা আমলে ১৭৮৭ সাল থেকে ১৭৯৩ সাল পর্যন্ত ৭ বছর ঘোড়াঘাট জেলা হিসেবে এ অঞ্চল শাসন কার্য পরিচালিত হয়েছিল।তৎকালীন দিনাজপুরের মহারাজা গ্রিজানাথের অনুরোধে ১৭৯৪ সালে দিনাজপুর মৌজার নামে দিনাজপুর জেলা প্রতিষ্ঠিত করা হয়। ওই থেকে দিনাজপুর জেলার শাসন কার্য পরিচালিত হয়ে আসছে।
কিন্তু মোগল সম্রাটের সেই ঘোড়াঘাট পরগনার দুর্গ এবং ঘোড়াশালার ও সম্রাট সুজার নির্মিত মসজিদ যা আজ ভাঙ্গা মসজিদ নামে পরিচিত বিলুপ্ত হয়ে যেতে বসেছে।
দিনাজপুর ৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিহাস সংরক্ষণ করেন। তিনি কোন ইতিহাস বিলুপ্ত করতে বিশ্বাসী নয়। তাই তিনি এ ঐতিহাসিক নিদর্শন ঘোড়াঘাট পরগনার সকল ইতিহাস সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আশ্বস্ত করেন। সেই সাথে এ এলাকাবাসীর সাথে ঐতিহাসিক স্থানটি সংরক্ষণের দাবি জানান।
দিনাজপুর ঐতিহাসিক মেহরাব আলীর সংরক্ষিত ইতিহাস থেকে জানা যায়, গত ১২০১ খৃস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী লক্ষণ সেনকে বিতাড়িত করে নদীয়া জয় করে উত্তর বঙ্গের দিনাজপুর জেলার দক্ষিণ অঞ্চলের বৃহত্তম এলাকায় তার শাসন কেন্দ্র ঘোড়াঘাট পরগনা রাজধানী করেন। ইখতিয়ার উদ্দীনের উদ্দেশ্য ছিল এদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও রাজ্য বিস্তার করা।
ঐতিহাসিক মেহেরবালির তথ্যচিত্রে, মোঘল সম্রাট আকবর বৈরাম খানের অভিভাবকত্বে ১৫৫৬ খৃঃ পানি পথের দ্বিতীয় যুদ্ধে জয়লাভ করে দিল্লীর অধিপতি হন। বালেগ হয়ে বৈরাম খানের অভিভাবকত্ব ছিন্ন করে মহামতি আকবর ১৫৭৬ খৃঃ কররানীকে পরাভুত করে বাংলা জয় করেন। বিষ্ণদত্তকে কান্নগো রুপে দিনাজপরের রাজস্ব নির্ধারণ ও আদায়ের বন্দোবস্তের জন্যই তাকে প্রেরণ করেন।
সর্বশেষ সম্রাট শাহজাহানের পুত্র সম্রাট সুজা শাসন আমলে ঘোড়াঘাট সরকার ও পরগনার বিলুপ্ত হয়ে যায়।
- যুক্তরাষ্ট্রে আঘাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে পাকিস্তান: তুলসি
- তিন সপ্তাহে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে মৃত্যু ২৫ হাজারের বেশি
- ঈদযাত্রায় বাস-ট্রেন-লঞ্চে ঘরেফেরা মানুষের ঢল
- রাবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী ঈদ আয়োজন
- ঈদের আগে স্বস্তি: পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তান–আফগানিস্তান
- আজ যেসব দেশে পালিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর
- ঘরোয়া স্বাদে সহজেই বানিয়ে ফেলুন নরম-স্নিগ্ধ বানানা ব্রেড
- আজও মধ্যপ্রাচ্যের ৭ দেশে ২৬ ফ্লাইট বাতিল
- খুলনায় ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের ৪ জনকে গুলি
- বগুড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত: ২১ ঘণ্টা পর রেল চলাচল স্বাভাবিক
- কোন দেশে কবে ঈদ
- আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল শুক্রবার ঈদ
- ঈদে ফিরতি টিকিট কেনার শেষ দিন আজ
- ‘যমুনা’য় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী
- দেশে খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী
- চিকিৎসার অভাবে ৪৯ লাখ শিশুর মৃত্যু, জাতিসংঘের উদ্বেগ
- ‘যমুনা’য় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী
- ইফতারে খাবেন মজাদার বাঁধাকপির পাকোড়া
- ধর্ষণ রোধে সমন্বিত সরকারি অ্যাকশন
- বিরল সাদা বাঘের জন্ম, মিরপুর চিড়িয়াখানায় আনন্দের ছোঁয়া
- আদালতের রায়ে আফ্রিকার নতুন চ্যাম্পিয়ন মরক্কো
- বগুড়ার শেরপুরে মাইক্রোবাস উল্টে নিহত ৩
- মেরিলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন পূজা চেরি
- দেশে খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী
- হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠাতে মিত্রদের ‘না’, হতাশ ট্রাম্প
- কে-শফি বেকারির ‘সারা লাচ্ছা সেমাই’, স্বাদে অনন্য, দামে কম
- মহাসড়কে বাড়ছে যানবাহনের চাপ, ধীরগতিতে চলছে গাড়ি
- বগুড়ায় ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত: আহত ২ শতাধিক
- ঈদে ফিরতি ট্রেনযাত্রা: ২৮ মার্চের টিকিট বিক্রি শুরু
- ঈদে ফিরতি টিকিট কেনার শেষ দিন আজ






