ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭, মার্চ ২০২৬ ৭:১৪:৪১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
উইমেননিউজের প্রধান উপদেষ্টা রিজিয়া মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ খাল খননের মাধ্যমে দেশ গড়ার কর্মসূচিতে হাত দিলাম: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দিনাজপুরে সুই-সুতায় স্বাবলম্বী ৫ শতাধিক নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:০৯ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ রবিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নারীদের সংসারের কাজের ফাঁকে নিপুণ হাতে সুতা-কাপড় দিয়ে খেলনা তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আব্দুলপুর গ্রামে ৫ শতাধিক নারী ও শিশু। মায়েদের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজগামী ছাত্রীরাও এই হাতের কাজে বেশ পটু হয়ে উঠেছে। 
তারা সুতার পুতুল, অক্টোপাস, কেটারপিলা, হাতি, ফ্রক, আম, কাঠাঁল বইসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করেন। কেউ বা সংসারের কাজের ফাঁকে আর কেউ বা লেখাপড়ার পাশাপাশি এই কাজ করে বাড়তি আয় করছেন। তাদের তৈরি সুতা ও কাপড়ের পুতুল এখন যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে-বিদেশে। 

ওই গ্রামের পুতুল তৈরির কারিগর মনিকা রানী দাস বলেন, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে এবি ক্রুসেড নামে সুতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে পুতুল তৈরির ধারণা নিয়ে সুতা এনে খেলনা তৈরির কাজ শুরু করি। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। এভাবে আস্তে আস্তে বাড়িতে বসে সংসারের কাজের ফাঁকে খেলনা তৈরি করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে এগুলো সরবরাহ করি। আস্তে আস্তে ভালো দাম পেতে শুরু করি। আমাকে দেখে এলাকার অনেক নারীই সুতা-কাপড়ের খেলনা তৈরি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর কিছু টাকা ঋাণ নিয়ে বেশি করে সুতার কাঁচামাল সংগ্রহ করি। পরে ধীরে ধীরে সবাইকে এই কাজে উদ্ধুদ্ধ করি। বর্তমানে আমার গ্রামে দুইজন সুপারভাইজারের অধীনে ৫ শতাধিক নারী কারিগরা পুতুল তৈরি করে অতিরিক্ত টাকা আয় করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। 

আব্দুলপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল হান্নানের কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী মনি বেগম বলেন, বুনন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মনিকা রানী দিদির কাছে কলেজে পড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে খেলনা তৈরি করি। এ থেকে ভালো টাকা উপার্জন করতে পারছি। তা দিয়ে কলেজে আসা-যাওয়ার পাশাপাশি ছোট-খাট বায়না পূরণ করতে পেরে ভালোই লাগছে। 

একই গ্রামের কৃষক রহমান মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম তিন সন্তানের মা। তার এক ছেলে কলেজে ও অপর দুই ছেলে হাই স্কুলে পড়ছেন। তার স্বামীর আয় দিয়ে সংসার ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এখন ঘরের কাজের ফাঁকে ফাঁকে বুননের কাজ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন ও সংসারের কিছুটা সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন তিনি। 
সুপারভাইজার ললিতা রানী রায় জানান, এবি ক্রুসেড থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের খেলনার নমুনাসহ সুতা তুলা ও কাপড় সরবরাহ করে থাকি। সেই নমুনা কারিগরদের হাতে দিলে আমাদের খেলনার চাহিদা থাকে। পরে খেলনা তৈরি করে আবার এবি ক্রুসেড প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করা হয়। 

তারা আরো জানান, তৈরিকৃত প্রতিটি খেলনার মূল্য ১৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। একজন কারিগর সংসারের কাজ করেও প্রায় পাঁচটি পর্যন্ত পুতুল তৈরি করতে পারেন। 

এবি ক্রুসেড এর মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বর্তমানে চিরিরবন্দরে দুইজন সুপাইভাইজারের আওতায় প্রায় ৫ শতাধিক কারিগর কাপড় ও সুতার খেলনা তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের তৈরি পুতুল আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মানীসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। 

এ বিষয়ে ইউএনও আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, নারীরা এভাবে নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করা সত্যিই প্রশংসনীয়। স্বামীর আয়ের পাশাপাশি স্ত্রীর আয়ে পরিবারে স্বচ্ছলতা আসে। এভাবে নারীরা এগিয়ে এলে গ্রামে গ্রামে বিপুল কর্মস্থান তৈরি করা সম্ভব।