ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৮:৪০:২৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

দেশজুড়ে বৈশাখের গান, শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজন

বিনোদন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৩০ এএম, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

আবারও এসেছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। পুরনো বছরের ক্লান্তি, হতাশা ও গ্লানি ঝেড়ে নতুন আশা আর উদ্দীপনায় শুরু হচ্ছে নতুন বছর। সূর্যোদয়ের সঙ্গে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শুরু হচ্ছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের যাত্রা। বাংলা নববর্ষ কেবল ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন নয়; এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং আত্মপরিচয়ের নতুন করে জেগে ওঠার দিন।

প্রতিবারের মতো এবারও ভোরের আলো ফুটতেই রাজধানীর রমনা উদ্যানে মানুষের ঢল নামবে। সূর্যের প্রথম আলোয় শুরু হবে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। প্রায় দুই শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে গান, কবিতা ও সুরের মেলবন্ধনে সাজানো হয়েছে এই আয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রকৃতি, দেশপ্রেম, মানবতা ও লোকজ জীবনের নানা গান পরিবেশিত হবে। বিশেষভাবে স্মরণ করা হবে গণসংগীতের কিংবদন্তি সলিল চৌধুরী এবং গীতিকার-সুরকার মতলুব আলীকে।

সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা। এ বছর বিতর্ক এড়াতে শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ ও ‘আনন্দ’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়া হলেও উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্যে কোনো ঘাটতি নেই। চারুকলার উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর ঘুরে আবার চারুকলায় এসে শেষ হবে।

এবারের শোভাযাত্রার স্লোগান ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’। পাঁচটি প্রধান মোটিফ—মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া—নতুন দিনের শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’সহ বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান শোভাযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। প্রায় দুই শত শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা হাতে অংশ নেবেন এ আয়োজনে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিও নববর্ষ উপলক্ষে ১৩ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে। আজ বিকেল ৩টায় জাতীয় নাট্যশালায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে। সেখানে থাকবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, শতকণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ’, কবিগান, গম্ভীরা ও বাউল গানের আসর। পরবর্তী দিনগুলোতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা, অ্যাক্রোব্যাটিক প্রদর্শনী, ‘জাতি বৈচিত্র্যে বৈশাখী উৎসব’ এবং পুতুলনাট্য মঞ্চস্থ হবে। সমাপনী দিনে নৃত্য, লোকসংগীত, ব্যান্ডসংগীত ও তারকা শিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি প্রদর্শিত হবে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘বেদের মেয়ে জোসনা’।

ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে চ্যানেল আই ও সুরের ধারার যৌথ আয়োজনে ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চলবে ‘হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ’। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পীরা এতে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে সেখানে বসেছে বৈশাখী মেলা, যেখানে মাটির খেলনা, তৈজসপত্র, লোকজ সামগ্রী এবং নাগরদোলাসহ গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে।

শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতেও বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসী ও বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ইতিহাস বলছে, মোগল সম্রাট আকবরের আমলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রচলন হয়। পরে ‘ফসলি সন’ থেকে এটি ‘বঙ্গাব্দে’ রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। পাকিস্তান আমলে পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতীকী সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ হিসেবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ১৯৬৭ সালে ছায়ানটের উদ্যোগে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এবং ১৯৮৯ সালে চারুকলা অনুষদের শোভাযাত্রা সেই ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।