ঢাকা, বুধবার ০৯, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:২০:২৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রামেকে ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৬৯ এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফল বৃহস্পতিবার ন্যূনতম প্রমাণ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড দেওয়া দায়িত্বহীন কাজ: হাইকোর্ট অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে বাংলাদেশ ধূমপানে কমে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা, ঝুঁকিতে নারী-পুরুষ উভয়েই দেশের বাজারে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম ১১ সন্তানের সাফল্যের কারিগর মা চেমন আরা ১৩ মার্কিন বিমানবন্দরে টিকিট ছাড়াই টার্মিনালে প্রবেশের সুযোগ

ন্যূনতম প্রমাণ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড দেওয়া দায়িত্বহীন কাজ: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:১৭ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের বিচারকের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শামীম, রুহুল আমিন, মাকসুদ কাউন্সিলর ও আফসারউদ্দীনের বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অথচ তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বিচার-বুদ্ধিহীন এ দণ্ডের কারণে এসব আসামিকে সাত বছর কনডেম সেলে থাকতে হয়েছে, যা তাদের পরিবারের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, একটি সভ্য সমাজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না। ট্রাইব্যুনালের বিচারকের মধ্যে সংবেদনশীলতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এ কারণে দণ্ডবিধি ও সাজা প্রদানসংক্রান্ত বিধিমালার মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত না করা পর্যন্ত তাকে দায়রা আদালতের বিচারিক কাজ পরিচালনা থেকে দূরে রাখা শ্রেয়।
রায়ে বলা হয়েছে, নুসরাতকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার নির্দেশ বাস্তবায়নে শাহাদাত হোসেন শামীম ও নুরউদ্দিন মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, নুসরাত মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যার জন্য শামীম, নুরউদ্দিন, জাবেদ ও জুবায়েরকে প্ররোচিত করেছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা।

নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি ‘ত্রুটিহীন’ ছিল বলেও পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেন, ওই জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য এবং গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে তা উত্তীর্ণ। এতে চার ব্যক্তির সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ ছাড়া দণ্ডিত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সত্য ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল বলে রায়ে উল্লেখ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেন, রিমান্ডে আসামিদের নির্যাতন করা হয়েছিল, মামলার নথিতে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার কারণে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অবিশ্বাস্য হয়ে যেতে পারে না।

গত ২৪ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় মূল হোতা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা ও মাদরাসার শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন শামীমের বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল রাখার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আরও চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা হলেন- মাদ্রাসাছাত্র নুরউদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ এবং উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন।