ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ১৩:৫০:৫৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

বাংলাদেশের পাখি : হুদ্হুদ্ না হেমাঙ্গিনী! আইরীন নিয়াজী মান্না

আপডেট: ০৪:১৮ পিএম, ৪ জানুয়ারি ২০১৫ রবিবার

Hudhudআমি প্রথম পাখিটি দেখি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে। বেশ কয়েক বছর আগে হলের সবুজ মাঠে এই সুদর্শন পাখিটিকে প্রথম দেখতে পাই। এর আগে আর কখনোই এই অপরূপ পাখিটি আমি দেখিনি। পাখিটি এতোই সুন্দর যে, আমি তাৎক্ষণিক পাখিটির নামকরণ করি হেমাঙ্গিনী। অথাৎ সুন্দর দেহের অধিকারী। এরপর বহুবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমি ওকে দেখেছি। বাংলাদেশের সুন্দর পাখিগুলোর মধ্যে ও অন্যতম। পাখি বিশেষজ্ঞরা পাখিটির বাংলা নাম দিয়েছেন হুদ্হুদ্। হু-পো হু-পো শব্দে ওরা ডাকে। এই শব্দই নামকরণের কারণ কিনা তা অবশ্য জানা যায়নি। মাথার সুন্দর ঝুঁটিটির কারণে আবার কেউ কেউ ওকে মোহনচূড়া বলে ডাকে। কেউ কেউ ডাকে হুপো নামে। হুদ্হুদ্ বা হেমাঙ্গিনীর ইংরেজি নামও হুপো (HOOPOE)। বৈজ্ঞানিক নাম Upupa epops এবং শ্রেণী UPUPIDEA। ওরা নন-প্যাসেরাইন বা অগায়ক পরিবারভুক্ত পাখি। ওদের গায়ের পালকের রঙ লালচে বাদামি। সঙ্গে হালকা গোলাপি আভা আছে। লেজ এবং পাখায় জেব্রার মতো সাদার ওপর কালোর ডোরা কাটা। বুকে ডোরা কাটা নেই। বুক, গলা ও পায়ের ওপরের অংশের পালক বাদামি। পা মাঝারি আকারের। এ পাখি যখন দল বেঁধে মাঠের সবুজ ঘাসের বুকে ঘুরে বেড়ায় তখন দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন কোনো শিল্পীর রঙ তুলিতে আঁকা চিত্রকর্ম। পাখিটির শরীরের রঙের চাকচিক্য কারো দৃষ্টি এড়ায় না। হুদ্হুদ্ আকারে ময়না পাখির সমান। মাথার ওপর মস্ত বড় দৃষ্টিনন্দন একটি ঝুঁটি আছে। এই ঝুঁটিটি হেমাঙ্গিনীর রূপকে যেন আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। লম্বা ও সরু হয়ে ঝুঁটিটি মাথার পেছন দিকে হেলে গেছে। ঝুঁটির আগার পালক সাদা-কালো। ঝুঁটিটি বেশির ভাগ সময়ই গুটানো থাকে। তবে মাঝে মাঝে পাখিটি উত্তেজিত হলে ঝুঁটির পালকগুলো হাত পাখার মতো ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পালকের সাদা-কালো অংশ দেখা যায়। ওদের চঞ্চু খুব লম্বা এবং সরু, রঙ কালো। চঞ্চুটি নিচের দিকে বাঁকানো। এই লম্বা চঞ্চু মাঠের সবুজ ঘাসের ভেতর ঢুকিয়ে ওরা খাবার খুঁজে খায়। হেমাঙ্গিনী সাধারণ পতঙ্গভুঁক পাখি। কিট-পতঙ্গ এবং এদের ডিম ওদের প্রিয় খাবার। তবে ওরা পিঁপড়া খেতেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। রোকেয়া হলের মাঠে বসে আমি দিনের পর দিন এই পাখির আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছি। খাবার হিসেবে ওদের পাউরুটি, বিস্কুট এবং বাদাম ছিটিয়ে দিয়ে দেখেছি। আবাসিক পাখির মতো ওরা আমার আশপাশে এসে এসব খাবার খেয়েছে। গ্রামের কৃষকের কাছে হুদ্হুদ্ বন্ধুর মতো পাখি। কারণ ফসলের জমি থেকে পোকা বা শুয়ো পোকা খুঁজে খুঁজে খেয়ে ফসলকে রক্ষা করে ওরা। কাঠ ঠোকরার সাথে শারীরিক গড়নের মিল থাকায় অনেক সময় গ্রামের লোকজন ওদের কাঠ ঠোকরা মনে করে ভুল করে । আমাদের দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই হুদ্হুদ্ পাখি দেখা যায়। গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের সবুজবেষ্টিত উদ্যানে ওদের অবাধ চলাচল। খোলামেলা জায়গায় ওদের বিচরণ বেশি। ঢাকা শহরের কোলাহলের মধ্যেও একটু লক্ষ্য করলেই এই সুন্দর পাখিটিকে দেখা খুব কষ্টকর কিছু নয়। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রমনা পার্ক, হাই কোর্ট চত্বর, ইডেন কলেজ প্রাঙ্গণে এই পাখিটি বেশ নজরে পড়ে। রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত প্রায় পনেরো বছরে আমি বহুবার এই পাখিটি দেখেছি। হেমাঙ্গিনী গভীর অরণ্য সাধারণত এড়িয়ে চলে। বনের ফাঁকা জায়গায় মাঝে মাঝে ওদের দেখা গেলেও জনবসতিবহুল এলাকাই ওদের বেশি পছন্দ। কারণ ওরা মানুষের কাছাকাছি থাকতেই ভালোবাসে। হুদ্হুদ্ বা হেমাঙ্গিনী একাকী বা জোড়ায় জোড়ায় মাঠে, খোলা প্রান্তরে বা সড়কের ধারের খোলা ভূমিতে মনের সুখে ঘুরে বেড়ায়। রোকেয়া হলের মাঠে আমি একাধিকবার পাঁচ-ছয়টিকে একসঙ্গে ঘুরে বেড়াতে দেখেছি। হুদ্হুদ্ বা হেমাঙ্গিনীর প্রজনন ঋতু গ্রীষ্মকাল। এ সময় গাছের ফোকরে বা পরিত্যাক্ত বাড়ি ঘরের দেয়ালের ফাটলে ওরা ঘাস. খড়-কুটা, আবর্জনা, ন্যাকড়া ইত্যাদি দিয়ে বাসা তৈরি করে। এই বাসায় স্ত্রী পাখি ৫ থেকে ৬টি সাদা রঙের ডিম পাড়ে। ডিমের রঙ সাদা। এতো সুন্দর পাখিটির বাসা কিন্তু সুন্দর-পরিপাটি নয়। কেমন যেন এলোমেলো। হুদ্হুদ্ আমাদের স্থানীয় পাখি। সারা বছর দেখা গেলেও শীতকালেই ওদের বেশি নজরে পড়ে। ০৪.০১.২০১৫