ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭, মার্চ ২০২৬ ১৫:৫৭:৪৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
লম্বা ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা, রণক্ষেত্র গ্রিন জোন শেষ সময়ের ঈদ বাজার: গৃহস্থালি পণ্য কিনতে ব্যস্ত ক্রেতারা ট্রাকচাপায় শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জন নিহত কমলাপুরে ব্যাপক ভিড়, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ট্রেন ছাড়ছে মধ্যপ্রাচ্য সংকট: শাহজালাল বিমানবন্দরে বাতিল ২৬ ফ্লাইট কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ নিহত ৬ জাতির পিতার জন্মদিন আজ উইমেননিউজের প্রধান উপদেষ্টা রিজিয়া মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা, রণক্ষেত্র গ্রিন জোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৩২ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে কূটনৈতিক স্থাপনাতেও। ইরাকের রাজধানী বাগদাদ-এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলাকে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে ইরাকের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত তিনটি ড্রোন ও চারটি রকেট ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে একটি ড্রোন সরাসরি দূতাবাসের ভেতরে আছড়ে পড়ে, যা হামলার তীব্রতা ও লক্ষ্যবস্তুর নির্ভুলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, হামলার সময় দূতাবাস প্রাঙ্গণে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের পর আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠতে দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।

তবে ইরাকের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা হলেও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তত একটি ড্রোন মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়। এছাড়া হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে দূতাবাস লক্ষ্য করে ছোড়া আরেকটি রকেটও প্রতিহত করা হয়েছিল।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলমান ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের মধ্যে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাগদাদে দূতাবাসে চালানো এই হামলাকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ও সমন্বিত আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলায় মোট অন্তত পাঁচটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল, যা নির্দেশ করে যে এটি ছিল পরিকল্পিত ও সমন্বিত একটি অভিযান।

একই দিনে বাগদাদের জাদরিয়া এলাকায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে শিয়া মিলিশিয়া জোট ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’-এর সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবনে দুটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। তবে এই হামলার পেছনে কারা জড়িত—তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করছে। শুধু সরাসরি যুদ্ধে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যেই নয়, বরং তৃতীয় দেশগুলোর ভেতরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশেষ করে ইরাকের মতো দেশ, যেখানে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির প্রভাব রয়েছে, সেখানে এই ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। মার্কিন দূতাবাসে হামলা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—এই সংঘাত কোথায় গিয়ে থামবে। একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যদি দ্রুত উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে এই সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে এবং তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান