ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৩০:০১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

বাজারে অস্বস্তি, সবজি-মাছ-মাংসের দামে চাপে ক্রেতারা

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:২১ পিএম, ১৫ মে ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও শাক-সবজি, মাছ, মাংস ও ডিমের চড়া দামে নাভিশ্বাস উঠেছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর-১, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও মালিবাগ বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি। বিশেষ করে কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, দেশি মাছ ও গরুর মাংসের দাম ক্রেতাদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।

শাক-সবজির বাজার

সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ ও করলা।

আলু: ৩০-৩৫ টাকা
পেঁয়াজ: ৭০-৮০ টাকা
রসুন: ১৫০-১৮০ টাকা
আদা: ১৮০-২২০ টাকা
টমেটো: ৮০-১০০ টাকা
বেগুন: ৭০-৯০ টাকা
পটল: ৭০-৮৫ টাকা
করলা: ৮৫-১০০ টাকা
ঢেঁড়স: ৬০-৭০ টাকা
বরবটি: ৯০-১১০ টাকা
শসা: ৬০-৭৫ টাকা
কাঁচা পেঁপে: ৪০-৫০ টাকা
ফুলকপি: ৬০-৮০ টাকা (প্রতি পিস)
বাঁধাকপি: ৫০-৭০ টাকা (প্রতি পিস)
কাঁচামরিচ: ১৮০-২২০ টাকা
লাউ: ৭০-৯০ টাকা (প্রতি পিস)
পালং শাক: ২০-২৫ টাকা (আঁটি)
লাল শাক: ১৫-২০ টাকা (আঁটি)
পুঁইশাক: ৩০-৪০ টাকা (আঁটি)

মাছের বাজার

মাছের বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি রয়েছে।

রুই: ৩২০-৪৫০ টাকা
কাতল: ৩৫০-৫০০ টাকা
পাঙ্গাস: ১৮০-২২০ টাকা
তেলাপিয়া: ২০০-২৪০ টাকা
কৈ মাছ: ৩০০-৩৮০ টাকা
শিং মাছ: ৫৫০-৭০০ টাকা
মাগুর: ৬০০-৮০০ টাকা
বোয়াল: ৭৫০-১,০০০ টাকা
ইলিশ (ছোট): ১,২০০-১,৫০০ টাকা
ইলিশ (বড়): ১,৮০০-২,৪০০ টাকা
চিংড়ি: ৬০০-১,২০০ টাকা

মাংস ও ডিম

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই।

গরুর মাংস: ৭৮০-৮৫০ টাকা
খাসির মাংস: ১,১৫০-১,৩০০ টাকা
ব্রয়লার মুরগি: ১৮৫-২০০ টাকা
সোনালি মুরগি: ৩৩০-৩৬০ টাকা
দেশি মুরগি: ৫৫০-৭০০ টাকা
হাঁস: ৫০০-৬৫০ টাকা (প্রতি কেজি)
ডিম (ফার্ম): ১৪৫-১৫৫ টাকা (ডজন)
দেশি ডিম: ১৮০-২২০ টাকা (ডজন)
চাল-ডাল ও নিত্যপণ্য
মোটা চাল: ৬২-৬৮ টাকা
মিনিকেট চাল: ৭৮-৮৫ টাকা
নাজিরশাইল: ৯০-১০৫ টাকা
মসুর ডাল: ১৩০-১৫০ টাকা
ছোলা: ১১০-১২৫ টাকা
সয়াবিন তেল (৫ লিটার): ৮৮০-৯৫০ টাকা
চিনি: ১৩৫-১৪৫ টাকা
আটা: ৫৫-৬০ টাকা
ময়দা: ৬৫-৭৫ টাকা

মোহাম্মদপুরের ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে এক হাজার টাকায় সপ্তাহের বাজার হয়ে যেত। এখন দুই হাজার টাকাতেও ঠিকমতো হয় না। সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছে সবজির দাম দেখে।”

এদিকে মিরপুরের এক ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন দাম শুনতে হয়। বেতন তো বাড়ে না, কিন্তু বাজারদর বাড়তেই থাকে। এখন আগের মতো ইচ্ছামতো বাজার করা যায় না।”

মালিবাগ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, “মাছ-মাংস বাদ দিয়েও বাজার করতে অনেক টাকা লাগছে। সংসারের বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

নিউমার্কেট এলাকার গৃহিণী নাসরিন জামান বলেন, “সবজি কিনতেই ৫০০ টাকা চলে যাচ্ছে। মাছ-মাংস তো এখন সপ্তাহে একদিনের বেশি কেনা যায় না।”

বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, “আমরাও বেশি দামে কিনে আনছি। তাই কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে।”

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও মধ্যস্বত্বভোগী ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভোক্তাদের জন্য দ্রুত স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম।