ঢাকা, মঙ্গলবার ০৩, মার্চ ২০২৬ ৪:৫২:২৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আহত খামেনির স্ত্রীও মারা গেলেন ঈদযাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ সকাল থেকে বাংলাদেশের ‘মিশন অস্ট্রেলিয়া’ শুরু আজ সন্ধ্যায় একুশে বইমেলা: পঞ্চম দিনেও ফাঁকা, হতাশ বিক্রেতারা মধ্যপ্রাচ্য হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭

বেইলি রোডে জমে উঠেছে ইফতার বাজার

জোসেফ সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:২১ এএম, ৩ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

রমজান মাসের শুরু থেকেই রাজধানীর বেইলি রোড এলাকায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী ইফতার বাজার। বিকেল গড়াতেই রাস্তার দুই পাশে সারি সারি দোকান বসে যায়। বড় কড়াইয়ে ভাজা হচ্ছে পেঁয়াজু, বেগুনি, ডিমচপ ও আলুর চপ। হাঁড়িতে হাঁড়িতে রান্না হচ্ছে ছোলা ও হালিম। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে ভাজা খাবারের গন্ধ, যা পথচারীদের সহজেই টেনে নিচ্ছে ইফতার বাজারের দিকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেল ৪টার পর থেকেই বাজারে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। অফিসফেরত মানুষ, আশপাশের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও রিকশাচালক—সবাই ভিড় করছেন ইফতারির দোকানগুলোতে।

ক্রেতাদের ভিড়, সময়ের তাড়া

ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে বাজারে তাড়াহুড়ো বাড়ে। হাতে প্যাকেট, চোখে ঘড়ি—অনেকেই দ্রুত পছন্দের খাবার কিনে নিচ্ছেন।
একজন চাকরিজীবী রাশেদ খান বলেন,
“অফিস থেকে ফিরতে দেরি হয়। তাই রোজই এখান থেকে ইফতার কিনে নেই। সব এক জায়গায় পাওয়া যায়, সুবিধা।”

আরেক ক্রেতা গৃহিণী শিউলি আক্তার জানান,
“বাচ্চারা পেঁয়াজু আর জিলাপি খুব পছন্দ করে। ঘরে বানানোর সময় পাই না, তাই বাজার থেকেই কিনি।”

বিক্রেতাদের বক্তব্য

একজন পেঁয়াজু বিক্রেতা আবদুল কাদের বলেন,
“ভিড় আছে, কিন্তু আগের মতো বিক্রি হচ্ছে না। অনেকেই দাম জেনে কম করে নিচ্ছেন।”

হালিম বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন,
“রমজানের শুরুতে বিক্রি মাঝারি ছিল। এখন কিছুটা বেড়েছে। ইফতারের আগে আধা ঘণ্টা সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে।”

একজন ছোলা-মুড়ির দোকানি জানান,
“মানুষ আসে বেশি, কিন্তু কিনে কম। ঘুরে দেখে চলে যায় অনেকেই।”

দামের চিত্র

বাজার ঘুরে দেখা গেছে—

পেঁয়াজু ও বেগুনি প্রতি পিস ১০–১৫ টাকা,

ডিমচপ ও আলুর চপ ২০–৩০ টাকা,

ছোলা ও হালিমের বাটি ৮০–২০০ টাকা,

জিলাপি কেজি ৩৫০–৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, আগের বছরের তুলনায় বেশির ভাগ পণ্যের দাম কিছুটা বেশি।

স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

খোলা আকাশের নিচে তৈরি খাবার নিয়ে অনেক ক্রেতার মধ্যেই উদ্বেগ আছে। ধুলাবালি ও যানবাহনের ধোঁয়ার মাঝেই তৈরি হচ্ছে ইফতারি।
একজন সচেতন ক্রেতা বলেন,
“খাবারের গন্ধ ভালো, কিন্তু স্বাস্থ্যসম্মত কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকে।”

তবে বিক্রেতারা বলছেন, তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছেন।

সার্বিক চিত্র

সব মিলিয়ে বেইলি রোডের ইফতার বাজার এখন জমজমাট। বিকেলের পর মানুষের ভিড় বাড়ছে, তবে দাম ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ক্রেতারা হিসাব করে কেনাকাটা করছেন। বিক্রেতারা আশা করছেন, রমজানের শেষ দিকে এবং ঈদের আগের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে।

রমজান এলেই বেইলি রোড যেন আরেক রূপ নেয়—দিনের ব্যস্ত সড়কটি সন্ধ্যার আগে পরিণত হয় ইফতার কেনাবেচার এক বড় বাজারে। ভিড়, গন্ধ আর মানুষের কোলাহলে এই বাজার এখন রাজধানীর রমজানি জীবনের একটি পরিচিত ছবি।