ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:২৯:১৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

রাজধানী ঢাকা আজও ফাঁকা, নেই লোকের ভিড়

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:১৪ পিএম, ৩০ মে ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ঈদুল আজহার টানা ছুটির মধ্যেও রাজধানী ঢাকা এখনো অনেকটাই জনশূন্য। ব্যস্ততার নগরী হিসেবে পরিচিত এই শহরের চিরচেনা রূপ যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। সড়কে নেই আগের মতো যানজট, ফুটপাতেও কম মানুষের আনাগোনা। অফিসপাড়া, বাণিজ্যিক এলাকা থেকে শুরু করে আবাসিক মহল্লাগুলোতেও বিরাজ করছে এক ধরনের অস্বাভাবিক নীরবতা।

ঈদের তৃতীয় দিন আজ শনিবার রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, মতিঝিল, গুলিস্তান, পল্টন, ধানমন্ডি, বনানী ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। কোথাও কোথাও সড়ক প্রায় ফাঁকা। সাধারণত যেখানে কয়েক মিনিট পরপর যানজট তৈরি হয়, সেখানে এখন নির্বিঘ্নে চলাচল করছে গাড়ি।

শাহবাগে দাঁড়িয়ে বেসরকারি চাকরিজীবী সুমন আহমেদ বলেন, “ঢাকায় প্রায় ১৫ বছর ধরে আছি। ঈদের সময় ছাড়া এমন ফাঁকা ঢাকা খুব কমই দেখা যায়। আজ সকালে মিরপুর থেকে শাহবাগে আসতে ২০-২৫ মিনিটের বেশি লাগেনি। অন্য সময় হলে অন্তত দেড় ঘণ্টা লাগত।”

ধানমন্ডির বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, “সকালবেলা হাঁটতে বের হয়ে মনে হলো যেন ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে। রাস্তায় মানুষ নেই, গাড়ি নেই। পরিবেশটাও অনেক শান্ত। তবে কয়েক দিন পরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।”

ফার্মগেটে রিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, “জ্যাম নাই, এটা ভালো। কিন্তু যাত্রীও কম। সকাল থেকে কয়েকটা ট্রিপ দিয়েছি। অন্য সময় হলে এ সময়ে আরও বেশি আয় হতো।”

মতিঝিলের এক চা-দোকানি রফিকুল ইসলাম জানান, “অফিস বন্ধ থাকায় ক্রেতা নেই বললেই চলে। সাধারণ দিনে সকাল থেকেই দোকানে ভিড় থাকে। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে।”

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, পার্ক ও শপিংমলে কিছু মানুষের উপস্থিতি থাকলেও তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। অধিকাংশ মানুষ এখনো গ্রামের বাড়িতে ঈদের ছুটি কাটাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তরার বাসিন্দা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “ঢাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা যানজট। কিন্তু ঈদের ছুটিতে মনে হয় শহরটা আবার মানুষের জন্য বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। দূষণও কমে যায়, শব্দও কম থাকে।”

বনানীতে মোটরসাইকেল চালক রিয়াদ হোসেন বলেন, “আজকে এক ঘণ্টায় যত জায়গায় ঘুরেছি, সাধারণ দিনে তার অর্ধেকও পারতাম না। রাস্তায় গাড়ি কম থাকায় সময়ও বাঁচছে।”

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় কেনাকাটা করতে আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ঈদের পর কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এসেছি। ভেবেছিলাম অনেক ভিড় থাকবে, কিন্তু এসে দেখি পুরো এলাকা প্রায় ফাঁকা। কেনাকাটাও আরামে করা যাচ্ছে।”

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে লাখো মানুষ ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ জেলায় চলে যাওয়ায় রাজধানীতে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত ও অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় যানবাহনের চাপও কমে গেছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঈদের ছুটির এই ফাঁকা ঢাকা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে রাজধানীর ওপর জনসংখ্যা ও কর্মসংস্থানের চাপ কতটা বেশি। বছরের অন্য সময় যে শহর যানজট, শব্দদূষণ ও মানুষের ভিড়ে হাঁসফাঁস করে, ছুটির এই কয়েক দিনে সেটিই হয়ে ওঠে অনেক বেশি স্বস্তির।

তবে এই স্বস্তির চিত্র বেশিদিন থাকবে না। ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা রাজধানীতে ফিরতে শুরু করবেন। তখন আবারও জেগে উঠবে ব্যস্ত নগরী ঢাকা। আপাতত ঈদের ছুটির শেষ ভাগে রাজধানীজুড়ে বিরাজ করছে এক বিরল শান্তি, যা উপভোগ করছেন শহরে থেকে যাওয়া মানুষজন।