ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ১০:৪৮:৩৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে ফিফা ভারতে ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন বাড়ছে, আন্দোলনে সংসদ অচ জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ

ভারত: এ দেশ নারীর নয়!

আপডেট: ০৫:৪৬ এএম, ১১ অক্টোবর ২০১৩ শুক্রবার

আহমেদ আল আমীন, নিউজ ডেস্ক, উইমেননিউজ২৪.কমmap-of-india ঢাকা : ইউনিসেফই দিয়েছিল ভয়াবহ সেই তথ্য। ২০০৬ সালে দেওয়া সে তথ্যে বলা হয় ভারতে প্রতি ১২ সেকেন্ডে একটি শিশুকে মেরে ফেলা হচ্ছে মায়ের গর্ভেই। তার একটাই দোষ সে মেয়ে। পৃথিবীর আর কোনো দেশের অনাগত মেয়ে শিশুকে এমন ভাগ্য মেনে নিতে হয় না। চলতি বছরই ভারতীয় হাইকোর্ট এক রায় পড়তে গিয়ে মেয়ে ভ্রুণহত্যাকে তুলনা করেছে ‘গণহত্যার’ সঙ্গে। সংখ্যাটা এত বেশি যা গণহত্যাকেও হার মানিয়েছে। বেঁচে যাওয়া কন্যা শিশুদের ভাগ্য যে ভারতে খুব একটা ভালো তা কিন্তু নয়। প্রতিবছর ভারতে জন্ম নেয় ১২ মিলিয়ন কন্যা শিশু। এদের মধ্যে ১.৫ মিলিয়ন শিশু তার প্রথম জন্মদিন পালন করার আগেই মারা যায়। কেবল নয় মিলিয়ন কন্যা শিশুর পক্ষে ১৫তম জন্মদিন করা সম্ভব হয়। ১৫ বছর পার করে ফেলা কন্যারাও যে খুব ভালো থাকে তা কিন্তু নয়। ভারতে নারী ধর্ষণ এখন অপরাধের সর্বোচ্চ চূড়ায় আছে। গত ৪০ বছরে ধর্ষন সংক্রান্ত অপরাধ বেড়েছে ৮০০ শতাংশেরও বেশি। ২.৩ মিলিয়নের মতো পতিতা ছড়িয়ে আছে সারা ভারতে। যাদের ১.২ মিলিয়নই শিশু। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বন্ধনে জড়ানোর পরেও নিরাপদে নেই ভারতের নারী। কেবল ২০০৮ সালেই আট হাজারের বেশি নারী মারা গেছে যৌতুকের কারণে। সংখ্যাটা আরও বেশি। কারণ এখানে কেবল পুলিশ রেকর্ড দেওয়া আছে। পুলিশের হিসাবের বাইরে আছে আরও অনেক সংখ্যা। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে নিরাপদে নেই নারী। ভারতের জন্যসংখ্যা থেকে কমে যাচ্ছে কন্যাশিশু। বেঁচে যাওয়া নারীদের কোনো সুখবর দিতে পারছে না ভারত। ভ্রুণ হত্যা গণহত্যার ইতিহাসকে হার মানিয়েছে ২০০৬ সালের চিত্র থেকে এখনো তেমন সরে আসেনি ভারত। ইউনিসেফ ২০০৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলেছিল প্রতিদিন সাত হাজার ভ্রুণ হত্যা করা হয় ভারতে কেবল কন্যা শিশু হওয়ার অপরাধে। ২০১১ সালে ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিটির  (এনএইচআরসি) এক প্রতিবেদনে বলা হয় ভারতে বাবা মায়েরা প্রতিবছর সাত লাখ ভ্রুণ হত্যা করে যারা কন্যা শিশু হয়ে জন্ম নিতে পারতো। ওই প্রতিবেদনেই বলা হয় বৈষম্যের কারণে প্রতি বছর ১.৭২ মিলিয়ন কন্যা শিশু এক বছর বয়স হওয়ার আগেই মারা যায়। কন্যা শিশুর মৃত্যুর হার পুত্রশিশুর মৃত্যু হারের চেয়ে অনেক বেশি। চলতি বছর ১৭ মে ভারতের এলাহাবাদে হাইকোর্ট বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন। বিচারপতি সুনীল অম্বানি এবং বিচারপতি মনোজ কুমার গুপ্ত ওই বেঞ্চে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন। হাইকোর্ট বলেন, গত এক দশকে ১০ মিলিয়নেরও বেশি কন্যাশিশু ভ্রুণ হত্যা করা হয়েছে। এ সংখ্যাটা প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গণহত্যার শিকার হওয়া নিহতের সংখ্যার চেয়েও বেশি। হাইকোর্ট মন্তব্য করেন, ‘খুবই দুর্ভাগ্যের ব্যাপার, ভারতের মতো সভ্য দেশে কিছু মানুষ নিজেদের লাভটা বেশি দেখেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গর্ভাবস্থায় লিঙ্গ নির্ধারণ করে কন্যাশিশুদের হত্যা করেছে।’ হাইকোর্ট আরও মন্তব্য করেন, ‘কষ্ট হচ্ছে দেখতে যে দক্ষ এবং রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকেরাই এ কাজটি করেছেন। গত এক দশকে এসব চিকিৎসক ১০ মিলিয়ন কন্যা শিশুকে মেরে ফেলেছে।’ ২০০৭ সালে গীতা আরাভামুদান লিখেন বেশ তথ্য বহুল গ্রন্থ, ‘ডিসঅ্যাপেয়ারিং ডটার্স: দ্য ট্রাজেডি অব ফিমেল ফয়েটিসাইড’। সেখানে তিনি দেখান কেবল কেরালাতেই হাজার হাজার কন্যা শিশু ভ্রুণ হত্যা করা হয়। তবে কন্যা শিশু ভ্রুণ হত্যায় এগিয়ে আছে পাঞ্জাব। ওই প্রদেশে প্রতি ১ হাজার পুত্র সন্তানের বিপরীতে পাওয়া যাবে ৮৪৬ জন কন্যা। মূল বিষয়টি হচ্ছে গর্ভ পরীক্ষা। গর্ভবতী নারী আলট্রাসনোগ্রাম পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভে কন্যা না পুত্র আছে তা জানতে পারেন। এ প্রযুক্তি ভারতে ছড়িয়ে পরার পর কন্যা শিশু ভ্রুণ হত্যার হিরিক পড়ে যায়। এ ধরনের প্রযুক্তি ভারতে কী ধরনের জনপ্রিয় তা দেখা যাক। ২০০৬ সালে প্রথম হিসাবে করে দেখা গেল ৭৭ মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করেছে এ আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তি। এ ধরনের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে দ্য টাইমস অব লন্ডন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ১৯৮০ সালে সারা ভারতে কন্যা শিশু হত্যার এ মোবাইল যন্ত্র ছড়িয়ে পড়ে। নৈতিক দিক অবজ্ঞা করে চিকিৎসকেরা এর প্রসার ঘটান। যেসব গ্রামে বিদ্যুৎ এমনকি খাবার পানি পর্যন্ত সহজে পাওয়া যায় না সেসব গ্রামেও এ প্রযুক্তি সহজে ঢুকে পড়ে। একটি ভ্যানগাড়ি, জেনারেটর আর এ যন্ত্র দিয়ে চিকিৎসকেরা গ্রাম কি গ্রাম লিঙ্গ নির্ণয় করেছেন। কিছু কিছু গ্রামে বছরের পর বছর কন্যা শিশু জন্মাতে দেখা যায়নি। চিকিৎসা প্রযুক্তি বিষয়ক পত্রিকা ল্যানসেট জানালো, এ ধরনের অবস্থা দরিদ্র পরিবারে দেখা যাওয়ার কথা। কিন্তু ভারতে ধনী এবং শিক্ষিত পরিবারে লিঙ্গ নির্ণয় করার বিষয়টি দেখা গেলো বেশি। ভারতে ১৯৯৪ সালে একটি আইনের মাধ্যমে গর্ভাবস্থায় আলট্রাসনোগ্রাম করে লিঙ্গ নির্ণয়ের বিষয়টি সম্পূর্ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ আইনটির নাম, প্রি কনসেপশন অ্যান্ড প্রি ন্যাটাল ডায়াগনস্টিক টেকনিক অ্যাক্টস। কিন্তু আইনের বাস্তবায়ন তেমন জোরালো নয়। এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে খোদ হাইকোর্ট। অবহেলায়, অনাদরে ভ্রুণ হত্যার থেকে বেঁচে যাওয়া ‘ভাগ্যবতীদের’ পরিণতি অন্য। শুরু হয় বৈষম্যের জীবন। বিষয়টি দেখাতে শূণ্য থেকে তিন বছর বয়সি ৮৫ হাজার ৬৩৩ শিশুর উপর একটি সমীক্ষা করে অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স।  যেসব শিশু একবারের জন্য হলেও চিকিৎসা সেবা নিতে হাসপাতালে আসে তার ৬৪.৬% ছেলে এবং ৩৫.৪% নারী। ২০০৪ সালে ‘হসপিটালস আর নট ফর গার্লস’ এ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে মায়ের দুধ, টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টিকর খাবার সবদিক থেকেই কন্যাশিশুর পিছিয়ে আছে। এবং ধর্ষণ ভারতে গত ৪০ বছরে ধর্ষণের কারণে অপরাধ বেড়েছে ৮০০ শতাংশেরও বেশি। দিল্লী, মুম্বাই, কোলকাতার মতো নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা শহরেও ধর্ষণের প্রবণতা বেড়েছে অনেক বেশি। শহরাঞ্চলের বিষয়গুলো পুলিশ মামলা হওয়ার কারণে গণমাধ্যমে অথবা গণমাধ্যমের কারণে মামলা হলেও গ্রামের অবস্থা কী এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতেরই সমাজবিজ্ঞানীরা। ঠিক এ মুহূর্তে ভারতের পুরুষদের উপর সবচেয়ে বেশি দায় পড়েছে। সারা বিশ্বে যৌন নির্যাতনে এগিয়ে আছে ভারতীয় পুরুষেরা। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রিসার্চ অন উইমেন সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে ২৪ শতাংশ ভারতীয় পুরুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় যৌন নির্যাতনে অংশ নিয়েছে। এক্ষেত্রে ভারতীয় পুরুষরা প্রথম। ৭ অক্টোবর’২০১৩