ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ০:১৪:১৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সারা দেশে অবাধে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ নিবন্ধন নারী, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিষয়ে ১০ দফা সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ ইরানের পরিস্থিতি খারাপ হলে কঠোর হবে তুরস্ক

মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী আজ

যশোর প্রতিনিধি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:১৭ এএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৮২৪ সালের এ দিনে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদ পাড়ের গ্রাম সাগরদাঁড়ির সম্ভ্রান্ত দত্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের ২০০ বছর পরও তিনি অমর হয়ে আছেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান সাগরদাঁড়ি কবি-সাহিত্যিকদের কাছে তীর্থভূমি। পর্যটকদের কাছেও এটি আকর্ষণীয় স্থান। বছরে দেড় লক্ষাধিক পর্যটক টিকিট কেটে মহাকবির স্মৃতিচিহ্ন দেখেন। কিন্তু অপার সম্ভাবনার মধুপল্লী আজও হয়ে ওঠেনি পর্যটকবান্ধব। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে পিছিয়ে আছে পর্যটনকেন্দ্রটি।

মধুসূদনের শৈশব ও কর্মজীবন : মধুসূদন দত্তের বাবা সাগরদাঁড়ির জমিদার রাজনারায়ণ দত্ত ও মা জাহ্নবী দেবী। শৈশবে সাগরদাঁড়ির পাশে শেখপুরা গ্রামের মৌলভী খন্দকার মখমলের কাছে মধুসূদন বাংলা ও ফার্সি শিক্ষা লাভ করেন। ১৮৩৩ সালে সাগরদাঁড়ি ছেড়ে কলকাতার খিদিরপুর যান তিনি। সেখানে লালবাজার গ্রামার স্কুলে ইংরেজি, ল্যাটিন ও হিব্রু ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। ১৮৩৭ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন, ১৮৪২ সালে ইংরেজিতে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ‘স্ত্রী শিক্ষা’ বিষয়ে প্রবন্ধ লিখে কলেজ থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। এরপর হিন্দু কলেজে পড়তে না পেরে বিশপস কলেজে ভর্তি হয়ে গ্রিক ও সংস্কৃত ভাষায় জ্ঞানার্জন করেন তিনি। এরপর ভাগ্যান্বেষণে তিনি মাদ্রাজ চলে যান। পথে বসন্ত রোগে আক্রান্ত হন এবং সুস্থ হয়ে সেখানে একটি আবাসিক স্কুলে ইংরেজি বিভাগে তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন। বিভিন্ন পত্রিকায় ছদ্মনামে কবিতা লিখতে থাকেন তিনি। কয়েকটি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ও সম্পাদকীয় বিভাগেও কাজ করেন। একই বছর বিয়ে করেন রেবেকা ম্যাকটাভিসকে। ১৮৪৯ সালের এপ্রিলে ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ ‘দ্য কাপটিভ লেডি’ প্রকাশ হয়।

১৮৫২ সালে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাইস্কুল বিভাগে কবি মধুসূদন শিক্ষকতার চাকরি নেন। ১৮৫৪ সালে দৈনিক স্পেকটেটর পত্রিকায় সহ-সম্পাদক পদে নিযুক্ত হন। ওই বছরই বের হয় পুস্তিকা ‘অ্যাংলো লো স্যাক্সন অ্যান্ড দ্য হিন্দু’। ১৮৫৭ সালে তিনি আদালতে দোভাষী হিসাবে কাজ শুরু করেন। ১৮৫৮ সালে ‘শর্মিষ্ঠা নাটক’ লিখে বাংলা ভাষায় সাহিত্যচর্চা শুরু করেন ও নাট্যান্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৮৬০ সালে ‘পদ্মাবতী নাটক’ প্রকাশ হয়। মে মাসে বাংলা ভাষায় প্রথম অমিত্রাক্ষর (সনেট) ছন্দে লেখা ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ প্রকাশিত হয়। এ বছরই তিনি মহাকাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন।

১৮৬১ সালে জানুয়ারিতে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়। ফেব্রুয়ারিতে প্রখ্যাত সাহিত্যিক কালীপ্রসন্ন সিংহের বাসভবনে অমিত্রাক্ষর ছন্দে মহাকাব্য রচনার জন্য বিদ্যোৎসাহিনী সভার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা এবং মহাকবি হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ইংল্যান্ডে গিয়ে ব্যারিস্টারিতে ভর্তি হন।

১৮৬৬ সালের আগস্টে ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ পুস্তক আকারে কলকাতা থেকে বের হয়। নভেম্বরে ব্যারিস্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৮৬৭ সালে তিনি কলকাতা চলে আসেন। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন তিনি মারা যান।

কবিতীর্থ সাগরদাঁড়ি : যশোর শহর থেকে প্রায় ৫০ কিমি. দূরে কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে কপোতাক্ষ নদের পূর্ব তীরে অবস্থিত মাইকেল মধুসূদন দত্তের পৈতৃক বাড়ি। কবির বাড়ি, কাচারিঘর, মন্দির ও কবির কাকার বাড়ি ঘিরে গড়ে উঠেছে মুধপল্লী। জাদুঘরে রাখা কবির ব্যবহৃত জিনিসপত্র, হাতে লেখা চিঠি, শয়নের খাট, কাঠের সিন্দুক, লোহার সিন্দুক, কাঠের চেয়ার, মা- বাবা, স্ত্রী ও স্বজনদের ছবি, কলকাতা ও ফ্রান্সের তার আবাসস্থলের ছবি, বিদায় ঘাট, কপোতাক্ষ পাড়ে ছবি তোলেন দর্শনার্থীরা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে মাইকেল মধুসূদন দত্তকে তুলে ধরার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মধুপল্লীর স্মৃতি ও সংগৃহশালা। 

জানতে চাইলে সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাড়ি ও জাদুঘরের কাস্টডিয়ান মো. হাসানুজ্জামান বলেন, মধুসূদনের জন্মভিটায় বছরে দেড় লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটে। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ বছর মেলা না হলেও মহাকবির জন্মদিন উদ্যাপনে জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও মধুপল্লীর উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।