ঢাকা, শুক্রবার ২৭, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:১৭:২৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী তরুণদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পাঁচ মামলায় সাবেক মেয়র আইভী রহমানের জামিন মাদারীপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক একুশে বইমেলা শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ভূমিকম্প, রিখটার স্কেলে ৪.৬

মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী

জোসেফ সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩২ এএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

বর্ষা শুরুর আগেই রাজধানীতে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিন-রাত সর্বক্ষণ মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বাসা-বাড়িতে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের পাশাপাশি অফিসফেরত মানুষও স্বস্তি পাচ্ছেন না মশার যন্ত্রণা থেকে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ড্রাম, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণাধীন ভবনের পানিভর্তি গর্ত এবং নালা-নর্দমায় জমে থাকা পানিতে নির্বিঘ্নে বংশবিস্তার করছে মশা। সিটি করপোরেশনের নিয়মিত ওষুধ ছিটানো কার্যক্রম থাকলেও তা বাস্তবে খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

আতঙ্কে জনস্বাস্থ্য:
চিকিৎসকদের মতে, মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক বলেন,
“মশার সংখ্যা বেশি মানেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”

নগরবাসীর অভিযোগ:
ধানমন্ডির বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “রাতে ঘুমানোই দায় হয়ে গেছে। কয়েল, স্প্রে—সব ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না। সিটি করপোরেশনের লোকজন আসে ঠিকই, কিন্তু তাতে মশা কমছে না।”

মিরপুরের গৃহবধূ শারমিন আক্তার বলেন, “শিশুদের নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছি। কামড়াতে কামড়াতে শরীর ভরে যাচ্ছে। অসুখ হলে দায় কে নেবে?”

মতিঝিলের এক ব্যাংক কর্মকর্তা তানভীর হাসান বলেন, “অফিস থেকে ফিরেই যুদ্ধ শুরু হয় মশার সঙ্গে। জানালা খুলে রাখা যায় না, আবার বন্ধ রাখলেও ভেতরে ঢুকে পড়ে।”

কোথায় বেশি মশা: 
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রেন ও নর্দমার পাশে, নির্মাণাধীন ভবনের আশপাশে, খোলা ডাস্টবিন ও পরিত্যক্ত টায়ারে এবং ছাদে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল ও জলাবদ্ধ এলাকায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন–এর এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা নিয়মিত ফগিং ও লার্ভিসাইড ছিটাচ্ছি। পাশাপাশি বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।”

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন–এর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “মশা নিধনে নতুন ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও গাফিলতি হলে অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মত, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিধন কার্যক্রম এখনো অনেকটাই প্রতীকী। তারা মনে করেন, শুধু ফগিংয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, লার্ভা ধ্বংসে নিয়মিত নজরদারি জরুরি।
নালা পরিষ্কার ও জমে থাকা পানি অপসারণ না করলে সমস্যার সমাধান হবে না

একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “মশার বংশবিস্তার রোধে উৎসস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তা না হলে ওষুধ ছিটিয়েও স্থায়ী ফল পাওয়া যাবে না।”

নাগরিকদের করণীয়: 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরবাসীর সচেতনতাও জরুরি।
তাদের পরামর্শ—ছাদে বা বারান্দায় জমে থাকা পানি নিয়মিত ফেলা, ফুলের টব ও পানির ড্রাম ঢেকে রাখা, আশপাশে আবর্জনা জমতে না দেওয়া এবং মশারি ব্যবহার করা জরুরী।

মশার অত্যাচার এখন রাজধানীবাসীর জন্য নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সিটি করপোরেশনের অভিযান থাকলেও বাস্তবে তার সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ নাগরিকদের। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়—মশা নিয়ন্ত্রণে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে রাজধানীতে বসবাস আবার কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক হয়।